শনিবার, ০৪ জুলাই ২০২৬ , ০৬:০৭ পিএম
হজ পালন শেষে অনেকেই নিজেদের ব্যবহৃত ইহরামের কাপড় সংরক্ষণ করে রাখেন, যাতে মৃত্যুর পর সেটি কাফন হিসেবে ব্যবহার করা যায়। আবার অনেকের ধারণা, ইহরামের কাপড় অবশ্যই জমজমের পানি দিয়ে ধুয়ে তারপর কাফনের জন্য রেখে দিতে হবে। তবে এ বিষয়ে ইসলামী শরিয়তের বিধান কী?
ফিকহবিদদের মতে, জীবদ্দশায় নিজের কাফন আগে থেকেই প্রস্তুত করে রাখা জায়েজ। একইভাবে বরকতের আশায় পবিত্র বা বরকতময় কোনো বস্তু সংরক্ষণ করাও বৈধ। তাই কেউ যদি হজে ব্যবহৃত নিজের ইহরামের কাপড় জমজমের পানি দিয়ে ধুয়ে ভবিষ্যতে কাফন হিসেবে ব্যবহারের উদ্দেশ্যে সংরক্ষণ করেন, তাহলে এতে কোনো শরয়ি সমস্যা নেই।
তবে আলেমরা স্পষ্ট করেছেন, এটি কোনো আবশ্যক বা সুন্নত আমল নয়। অর্থাৎ জমজমের পানি দিয়ে ধুয়ে রাখতেই হবে এমন বিশ্বাস শরিয়তসম্মত নয়। এটি সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত ও বৈধ একটি আমল। কেউ করলে বরকতের আশা করতে পারেন, আবার না করলেও কোনো গুনাহ হবে না।
হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, ইহরাম অবস্থায় মৃত্যুবরণকারী একজন সাহাবিকে রাসুলুল্লাহ (সা.) তার ইহরামের দুই কাপড়েই কাফন দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন। এ থেকেই ইহরামের কাপড়ে কাফন দেওয়ার বৈধতা প্রমাণিত হয়।
এছাড়া ইমাম বুখারি (রহ.)-এর আলোচনায় এবং হাফেজ ইবনু হাজার আল-আসকালানি (রহ.)-এর ব্যাখ্যায় জীবদ্দশায় কাফন প্রস্তুত রাখা এবং নেককারদের ব্যবহৃত বা বরকতময় বস্তুর মাধ্যমে বরকত গ্রহণের বৈধতার কথাও উল্লেখ রয়েছে।
নারীদের ক্ষেত্রেও স্বামীর হজ বা ওমরায় ব্যবহৃত ইহরামের কাপড় থেকে কাফনের কাপড় তৈরি করা জায়েজ। তবে কাপড় যদি অপরিষ্কার বা ময়লাযুক্ত হয়ে যায়, তাহলে তা ধুয়ে পরিষ্কার করে নেওয়া উচিত। কারণ পরিষ্ছন্ন কাফন ব্যবহার করা শরিয়তে পছন্দনীয়।
সব মিলিয়ে, ইহরামের কাপড় জমজমের পানি দিয়ে ধুয়ে কাফনের জন্য সংরক্ষণ করা বৈধ হলেও তা কোনোভাবেই বাধ্যতামূলক নয়। একইভাবে জমজমের পানি দিয়ে না ধুলেও সেই ইহরামের কাপড় কাফন হিসেবে ব্যবহার করতে শরিয়তে কোনো বাধা নেই।
সূত্র: জামিয়াতুল উলূমুল ইসলামিয়া, আল্লামা মুহাম্মদ ইউসুফ বানুরি টাউন, করাচি এবং অন্যান্য নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিভাগ।
আরটিভি/এসকে