images

ধর্ম

জুমার নামাজ ফরজ নাকি ওয়াজিব, কোরআন-হাদিসের স্পষ্ট নির্দেশ কী

শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬ , ১০:০৮ এএম

অনেকের মনেই প্রশ্ন থাকে, জুমার নামাজ কি ফরজ, নাকি ওয়াজিব? যেহেতু শুক্রবার জোহরের পরিবর্তে ২ রাকাত জুমার নামাজ আদায় করা হয়, তাই এ বিষয়ে অনেকের মধ্যে বিভ্রান্তি দেখা যায়। তবে কোরআন ও হাদিসের আলোকে ইসলামী শরিয়তের বিধান একেবারেই স্পষ্ট—জুমার নামাজ ফরজ।

মহান আল্লাহ তা'আলা পবিত্র কোরআনে মুমিনদের জুমার নামাজের জন্য সব কাজ ছেড়ে মসজিদে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

উচ্চারণ: ইয়া আইয়ুহাল্লাজিনা আমানু ইযা নুদিয়া লিস্-সালাতি মিন ইয়াওমিল জুমুআতি ফাসআউ ইলা জিকরিল্লাহি ওয়া যারুল বাই'। জালিকুম খাইরুল্লাকুম ইন কুনতুম তা'লামুন।

অর্থ: "হে মুমিনগণ! জুমার দিন যখন নামাজের জন্য আহ্বান করা হয়, তখন তোমরা আল্লাহর স্মরণের দিকে দ্রুত এগিয়ে যাও এবং বেচাকেনা বন্ধ করো। এটিই তোমাদের জন্য উত্তম, যদি তোমরা জানতে।"
— (সুরা জুমুআ, আয়াত ৯)

এই আয়াত থেকেই স্পষ্ট বোঝা যায়, জুমার নামাজ কোনো ঐচ্ছিক ইবাদত নয়; বরং এটি প্রাপ্তবয়স্ক মুসলিম পুরুষদের ওপর ফরজ।

এ বিষয়ে রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আরও কঠোরভাবে নির্দেশ দিয়েছেন।

আরও পড়ুন
Web-Image

জুমার নামাজ কত রাকাত ও পড়ার নিয়ম কী

হযরত জাবির ইবনে আবদুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন,

"আল্লাহ তাআলা কিয়ামত পর্যন্ত তোমাদের ওপর জুমার নামাজ ফরজ করেছেন। যে ব্যক্তি তা তুচ্ছ মনে করে অথবা অস্বীকার করে ছেড়ে দেবে, আল্লাহ তার কাজকর্মে বরকত দেবেন না। তার নামাজ, যাকাত, হজ, রোজা কিংবা অন্য কোনো নেক আমল গ্রহণ করা হবে না, যতক্ষণ না সে আন্তরিকভাবে তাওবা করে।"
— (সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস: ১০৮১)

ইসলামের ইতিহাস থেকেও জানা যায়, রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মক্কা থেকে মদিনায় হিজরত করার আগেই সেখানে জুমার নামাজ আদায় শুরু হয়েছিল।

হযরত আবদুর রহমান ইবনে কাব ইবনে মালিক (রহ.) বর্ণনা করেন, তাঁর পিতা কাব ইবনে মালিক (রা.) জানান, রাসুলুল্লাহ (সা.) মদিনায় আগমনের আগেই হজরত আসআদ ইবনে যুরারাহ (রা.) বনু বাইয়াদার এলাকার নাকিউল খাযামাত নামক স্থানে ৪০ জন মুসল্লিকে নিয়ে সর্বপ্রথম জুমার নামাজ আদায় করেন।
— (সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস: ১০৮২; সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ১০৬৯)

ইসলামী বিধান অনুযায়ী, শুক্রবার জোহরের পরিবর্তে ২ রাকাত জুমার ফরজ নামাজ জামাতের সঙ্গে আদায় করতে হয়। এর আগে খুতবা শোনা আবশ্যক। সুন্নাত নামাজের রাকাতসংখ্যা নিয়ে ফকিহদের মধ্যে কিছু মতভেদ থাকলেও জুমার ২ রাকাত ফরজ হওয়ার বিষয়ে কোনো মতভেদ নেই।

আলেমরা বলেন, আজান হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দুনিয়াবি কাজকর্ম ছেড়ে আল্লাহর ঘরে উপস্থিত হওয়া এবং খুতবা শুনে জামাতের সঙ্গে জুমার নামাজ আদায় করা প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক, সুস্থ ও স্থায়ীভাবে বসবাসকারী মুসলিম পুরুষের ধর্মীয় দায়িত্ব।

তাই কোনো ওজর ছাড়া জুমার নামাজ অবহেলা না করে সময়মতো মসজিদে গিয়ে ফরজ ইবাদত আদায় করা প্রত্যেক মুসলমানের কর্তব্য।


আরটিভি/জেএমএ