সপ্তাহের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ দিন জুমা। এ দিন মুসলমানরা একসঙ্গে মসজিদে উপস্থিত হয়ে জামাতের সঙ্গে জুমার নামাজ আদায় করেন এবং খুতবা শোনেন। ইসলামে জুমার নামাজের গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি। তবে অনেকেই জানতে চান, জুমার নামাজ কত রাকাত এবং সঠিক নিয়মে কীভাবে তা আদায় করতে হয়।
ইসলামী শরিয়ত অনুযায়ী, জুমার নামাজ ২ রাকাত ফরজ। এ বিষয়ে ইসলামী ফকিহদের মধ্যে কোনো মতভেদ নেই। তবে ফরজ নামাজের আগে ও পরে সুন্নাত নামাজ রয়েছে। সাধারণভাবে অধিকাংশ মুসল্লি ফরজের আগে ৪ রাকাত সুন্নাত এবং ফরজের পরে ৪ রাকাত সুন্নাত আদায় করেন। অনেকেই আগে অতিরিক্ত ২ রাকাতও আদায় করেন। তবে এসব সুন্নাতের রাকাতসংখ্যা নিয়ে মতভেদ থাকলেও ফরজ জুমার নামাজ ২ রাকাত—এ বিষয়ে সবাই একমত।
জুমার নামাজ মূলত শুক্রবারের জোহরের নামাজের পরিবর্তে আদায় করা হয়। সময় একই হলেও জোহরের নামাজ ও জুমার নামাজের মধ্যে কিছু গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য রয়েছে। জুমার নামাজ জামাতের সঙ্গে আদায় করা বাধ্যতামূলক এবং এর আগে ইমামের খুতবা মনোযোগ দিয়ে শোনা ওয়াজিব। অন্যদিকে জোহরের নামাজে খুতবা নেই এবং তা একাকীও আদায় করা যায়।
জুমার নামাজের গুরুত্ব সম্পর্কে মহান আল্লাহ পবিত্র কোরআনে ইরশাদ করেছেন—
উচ্চারণ: ইয়া আইয়ুহাল্লাজিনা আমানু ইযা নুদিয়া লিস্-সালাতি মিন ইয়াওমিল জুমুআতি ফাসআউ ইলা জিকরিল্লাহি ওয়া যারুল বাই'। জালিকুম খাইরুল্লাকুম ইন কুনতুম তা'লামুন। ফাইযা কুদিয়াতিস সালাতু ফানতাশিরু ফিল আরদি ওয়াবতাগু মিন ফাদলিল্লাহি ওয়াজকুরুল্লাহা কাসিরাল্লা'আল্লাকুম তুফলিহুন।
অর্থ: “হে মুমিনগণ! জুমার দিনে যখন নামাজের জন্য আহ্বান করা হয়, তখন তোমরা আল্লাহর স্মরণের দিকে দ্রুত এগিয়ে যাও এবং বেচাকেনা বন্ধ করো। এটি তোমাদের জন্য উত্তম, যদি তোমরা জানতে। এরপর নামাজ শেষ হলে তোমরা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়ো, আল্লাহর অনুগ্রহ (রিজিক) অনুসন্ধান করো এবং আল্লাহকে বেশি বেশি স্মরণ করো, যাতে তোমরা সফল হতে পারো।”
— (সুরা জুমুআ, আয়াত ৯-১০)
জোহরের নামাজের সঙ্গে জুমার নামাজের পার্থক্য
জুমার নামাজ ও জোহরের সময় এক হলেও নিয়মে কিছু পার্থক্য রয়েছে। যেমন—
১. জোহরের ফরজ ৪ রাকাত, কিন্তু জুমার ফরজ ২ রাকাত।
২. জুমার আগে ইমামের খুতবা শোনা আবশ্যক।
৩. জুমার নামাজ অবশ্যই জামাতের সঙ্গে আদায় করতে হয়, একাকী আদায় করা যায় না।
৪. জুমার দিনে দরুদ, তাওবা-ইস্তিগফার, কোরআন তিলাওয়াত ও নফল ইবাদতের বিশেষ ফজিলত রয়েছে।
যেভাবে আদায় করবেন জুমার নামাজ
মসজিদে প্রবেশের পর সুযোগ থাকলে দুই রাকাত তাহিয়্যাতুল মসজিদ (দুখুলুল মসজিদ) নামাজ আদায় করা সুন্নাত। এরপর সুন্নাত নামাজ পড়ে ইমামের খুতবা মনোযোগ দিয়ে শুনতে হবে। খুতবা শেষে ইমামের সঙ্গে ২ রাকাত ফরজ জুমার নামাজ আদায় করতে হবে। ফরজের পর সুন্নাত নামাজ আদায় করা উত্তম।
কারা জুমা আদায় না করলেও চলবে?
যারা গুরুতর অসুস্থ, ভ্রমণরত (মুসাফির) অথবা শরিয়তসম্মত ওজরের কারণে জুমায় উপস্থিত হতে পারেন না, তাদের জন্য জোহরের নামাজ আদায় করাই যথেষ্ট। তবে মুসাফির চাইলে জুমার জামাতে অংশ নিতে পারেন।
ইসলামে জুমার দিন অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ। তাই আজান হওয়ার পর দুনিয়াবি কাজকর্ম ছেড়ে আল্লাহর ঘরে উপস্থিত হওয়া এবং খুতবা শুনে জামাতের সঙ্গে জুমার নামাজ আদায় করা প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক মুসলিম পুরুষের দায়িত্ব।
আরটিভি/জেএমএ



