images

ধর্ম

বৃষ্টির ফোঁটায় নেমে আসে রহমত, কবুল হয় দোয়া 

রোববার, ১২ জুলাই ২০২৬ , ১১:৫৫ এএম

বৃষ্টি শুধু প্রকৃতিকে সতেজ করে না, এটি মহান আল্লাহর বিশেষ রহমতও বয়ে আনে। পবিত্র কোরআনে বৃষ্টিকে আল্লাহর নেয়ামত ও রহমত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। ইসলামে বৃষ্টির সময়কে দোয়া কবুলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত বলা হয়েছে। তাই বৃষ্টি শুরু হলে বিরক্ত না হয়ে আল্লাহর কাছে বেশি বেশি দোয়া করার পরামর্শ দিয়েছেন ইসলামী স্কলাররা। 

মহান আল্লাহ বলেন—

يَا أَيُّهَا النَّاسُ اعْبُدُوا رَبَّكُمُ الَّذِي جَعَلَ لَكُمُ الْأَرْضَ فِرَاشًا وَالسَّمَاءَ بِنَاءً وَأَنْزَلَ مِنَ السَّمَاءِ مَاءً فَأَخْرَجَ بِهِ مِنَ الثَّمَرَاتِ رِزْقًا لَكُمْ

অর্থ: "তোমাদের প্রতিপালক সেই সত্তা, যিনি তোমাদের জন্য পৃথিবীকে বিছানা ও আকাশকে ছাদ বানিয়েছেন। আর আকাশ থেকে বৃষ্টি বর্ষণ করে তোমাদের জীবিকার জন্য নানা ফল-ফসল উৎপন্ন করেছেন।"
(সুরা আল-বাকারা, আয়াত: ২২)

অন্য আয়াতে আল্লাহ তাআলা বলেন—

يُرْسِلِ السَّمَاءَ عَلَيْكُمْ مِدْرَارًا ۝ وَيُمْدِدْكُمْ بِأَمْوَالٍ وَبَنِينَ

অর্থ: "তিনি তোমাদের ওপর প্রচুর বৃষ্টি বর্ষণ করবেন এবং তোমাদের ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি বৃদ্ধি করে দেবেন।"
(সুরা নূহ, আয়াত: ১১-১২)

বৃষ্টি আল্লাহর রহমত

কোরআনে বৃষ্টিকে আল্লাহর রহমত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। মহান আল্লাহ বলেন—

وَهُوَ الَّذِي يُنَزِّلُ الْغَيْثَ مِنْ بَعْدِ مَا قَنَطُوا وَيَنْشُرُ رَحْمَتَهُ

অর্থ: "মানুষ নিরাশ হয়ে যাওয়ার পর তিনিই বৃষ্টি বর্ষণ করেন এবং তাঁর রহমত ছড়িয়ে দেন।"
(সুরা আশ-শুরা, আয়াত: ২৮)

আরও পড়ুন
Web-Image

বন্যা-ঝড়-অতিবৃষ্টিতে ইসলামের জরুরি নির্দেশনা

তাই বৃষ্টি শুধু একটি প্রাকৃতিক ঘটনা নয়; বরং এটি আল্লাহর কুদরতের নিদর্শন এবং তাঁর রহমতের প্রকাশ।

বৃষ্টির সময় দোয়া কবুল হয়

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বৃষ্টির সময়কে দোয়া কবুলের বিশেষ সময় হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

তিনি বলেন,

"দুই সময়ের দোয়া ফিরিয়ে দেওয়া হয় না—আজানের সময় করা দোয়া এবং বৃষ্টির সময় করা দোয়া।"
(সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ২৫৪০; সহিহুল জামে, হাদিস: ৩০৭৮)

তাই বৃষ্টি শুরু হলে আল্লাহর কাছে গুনাহ মাফ, রিজিকের বরকত, সুস্বাস্থ্য, নেক সন্তান, ঈমানের দৃঢ়তা এবং আখিরাতের সফলতার জন্য আন্তরিকভাবে দোয়া করা উচিত।

বৃষ্টির সময় নবীজি যে দোয়া পড়তেন

বৃষ্টি শুরু হলে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এই দোয়া পড়তেন—

اللَّهُمَّ صَيِّبًا نَافِعًا

উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা সাইয়্যিবান নাফিআ।

অর্থ: "হে আল্লাহ! এই বৃষ্টিকে আমাদের জন্য উপকারী বৃষ্টি বানিয়ে দিন।"
(সহিহ বুখারি, হাদিস: ১০৩২; সুনানে নাসাঈ, হাদিস: ১৫২৩)

বৃষ্টির পানি শরীরে লাগানোও সুন্নত

হযরত আনাস (রা.) বর্ণনা করেন, একদিন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সঙ্গে থাকা অবস্থায় বৃষ্টি শুরু হলে তিনি নিজের কাপড় সরিয়ে দেন, যাতে বৃষ্টির পানি তাঁর শরীরে লাগে।

সাহাবিরা কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন,

"কারণ এটি তার প্রতিপালকের কাছ থেকে সদ্য আগত।"
(সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৮৯৮)

আলেমদের মতে, ঠান্ডা লাগার আশঙ্কা না থাকলে বৃষ্টির কয়েক ফোঁটা পানি শরীরে লাগানো সুন্নত। বাইরে যাওয়ার প্রয়োজন নেই; হাতে কয়েক ফোঁটা পানি নিয়ে শরীরে লাগালেও এ সুন্নত আদায় হয়ে যায়।

শুধু দোয়া নয়, জীবনও হতে হবে হালাল

ইসলামে শুধু দোয়া করলেই যথেষ্ট নয়; দোয়া কবুল হওয়ার জন্য হালাল উপার্জন, গুনাহ থেকে দূরে থাকা এবং আল্লাহর আনুগত্যে জীবন পরিচালনাও জরুরি।

তাই বৃষ্টি শুরু হলে বিরক্ত না হয়ে আল্লাহর রহমতের কথা স্মরণ করা, বেশি বেশি দোয়া করা, ইস্তিগফার করা এবং নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সুন্নত অনুযায়ী উপকারী বৃষ্টির দোয়া পড়া একজন মুমিনের গুরুত্বপূর্ণ আমল।

বৃষ্টি মহান আল্লাহর বিশেষ নেয়ামত ও রহমত। হাদিসের ভাষ্য অনুযায়ী, এ সময় করা দোয়া ফিরিয়ে দেওয়া হয় না। তাই বৃষ্টি শুরু হলে অযথা অভিযোগ বা বিরক্তি প্রকাশ না করে আল্লাহর প্রশংসা করা, "اللَّهُمَّ صَيِّبًا نَافِعًا" দোয়া পড়া, কয়েক ফোঁটা বৃষ্টির পানি শরীরে লাগানো এবং নিজের ও পরিবারের জন্য বেশি বেশি দোয়া করা একজন মুসলমানের উত্তম আমল।


আরটিভি/জেএমএ