images

ধর্ম

কারা আল্লাহর সাধারণ ক্ষমা থেকে বঞ্চিত হবেন

সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬ , ০৮:৫১ পিএম

মানুষ যেমন ভুল করে, মহান আল্লাহ তেমনি ক্ষমা করতে ভালোবাসেন। মানুষ কখনো দুর্বলতার কাছে হার মানে, কখনো শয়তানের প্ররোচনায় গুনাহে জড়িয়ে পড়ে। কিন্তু ইসলামের সৌন্দর্য এখানেই যে, আল্লাহ তাআলা বান্দার গোপন পাপকে মানুষের সামনে প্রকাশ করে তাকে অপমানিত করেন না। বরং তিনি পর্দা দিয়ে ঢেকে রাখেন, যাতে বান্দা লজ্জিত হয়ে তার কাছে ফিরে আসে, তওবা করে এবং নতুন জীবন শুরু করতে পারে।

দুঃখের বিষয়, অনেকেই আল্লাহর এই রহমতের মূল্য না বুঝে নিজের গুনাহ নিজেই মানুষের সামনে প্রকাশ করে। কেউ বন্ধুদের আড্ডায়, কেউ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে, আবার কেউ অহংকারের সঙ্গে নিজের পাপের গল্প বলে বেড়ায়। অথচ রাসুলুল্লাহ (সা.) এমন আচরণ সম্পর্কে কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছেন।

কারা আল্লাহর সাধারণ ক্ষমা থেকে বঞ্চিত হতে পারে?

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—

‘আমার উম্মতের সকলেই ক্ষমা পাবে, তবে যারা প্রকাশ্যে গুনাহ করে (অথবা গুনাহ প্রকাশ করে) তারা ব্যতীত।’

এরপর তিনি ব্যাখ্যা করেন—

‘প্রকাশ্য গুনাহের একটি রূপ হলো— কোনো ব্যক্তি রাতে একটি গুনাহ করল, আল্লাহ তা গোপন রাখলেন। কিন্তু সকালে সে নিজেই বলে বেড়ায়— হে অমুক! গত রাতে আমি এই এই কাজ করেছি। অথচ সে রাত কাটিয়েছিল আল্লাহর দেওয়া পর্দার আড়ালে, আর সকালে নিজেই সেই পর্দা খুলে ফেলল।’ (বুখারি ৬০৬৯, মুসলিম ২৯৯০)

আল্লাহ কেন গুনাহ গোপন রাখেন?

আল্লাহ তাআলার রহমতের অন্যতম নিদর্শন হলো— তিনি বান্দার প্রতিটি গুনাহ সঙ্গে সঙ্গে মানুষের সামনে প্রকাশ করেন না। যদি প্রতিটি পাপ প্রকাশ হয়ে যেত, তাহলে সমাজে সম্মান নিয়ে বেঁচে থাকা কারও পক্ষেই সম্ভব হতো না। আল্লাহ বান্দাকে সময় দেন, সুযোগ দেন এবং তওবার দরজা খুলে রাখেন। তিনি চান বান্দা লজ্জিত হয়ে তার কাছে ফিরে আসুক, মানুষের কাছে নিজের পাপের গল্প বলে বেড়াক— এটি তিনি চান না।

গুনাহ প্রকাশ করা কেন এত ভয়ংকর?

যে ব্যক্তি নিজের গুনাহ প্রকাশ করে, সে কেবল নিজের লজ্জার পর্দাই সরায় না; বরং কয়েকটি বড় ক্ষতির কারণও হয়—

. আল্লাহর দেওয়া গোপনীয়তার নিয়ামতের অবমূল্যায়ন করে।
. গুনাহকে স্বাভাবিক বা গর্বের বিষয় হিসেবে উপস্থাপন করে।
. অন্যদেরও একই পাপের প্রতি উৎসাহিত করতে পারে।
. নিজের অন্তরের লজ্জাবোধ ধীরে ধীরে হারিয়ে ফেলে।
. আন্তরিক তওবার পরিবর্তে গুনাহকে পরিচয়ের অংশ বানিয়ে ফেলে।
. তওবার দরজা এখনো খোলা

আরও পড়ুন
Web-Image

বৃষ্টির পানি গায়ে লাগানো কি সুন্নত?

আল্লাহ তাআলা বলেন—

‘হে আমার সেই বান্দারা, যারা নিজেদের ওপর সীমালঙ্ঘন করেছ! তোমরা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না। নিশ্চয়ই আল্লাহ সব গুনাহ ক্ষমা করে দেন। তিনি তো পরম ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।’ (সুরা আয-যুমার: আয়াত ৫৩)

এই আয়াত আমাদের শেখায়, কোনো গুনাহই আল্লাহর ক্ষমার বাইরে নয়— যদি বান্দা আন্তরিকভাবে তওবা করে এবং গুনাহ থেকে ফিরে আসে।

যদি ভুল হয়ে যায়, তাহলে কী করবেন?

জীবনে ভুল হতেই পারে। কিন্তু একজন মুমিনের পরিচয় হলো— সে ভুলকে গর্বের বিষয় বানায় না। বরং—

. গুনাহ গোপন রাখে।
. আন্তরিকভাবে আল্লাহর কাছে তওবা করে।
. পুনরায় সেই গুনাহে ফিরে না যাওয়ার দৃঢ় সংকল্প করে।
. নেক আমলের মাধ্যমে নিজের জীবনকে পরিবর্তন করার চেষ্টা করে।
. মনে রাখবেন, যে পাপের কথা মানুষ জানে না, সেটি মানুষের কাছে নয়—শুধু আল্লাহর কাছেই ক্ষমা চাইতে হয়।

আল্লাহ তাআলা আমাদের অপমান করতে চান না; তিনি চান আমাদের ক্ষমা করতে। তাই তিনি আমাদের অনেক গুনাহ মানুষের দৃষ্টির আড়ালে রাখেন। কিন্তু যদি আমরা নিজেরাই সেই পর্দা সরিয়ে দিই, তাহলে আমরা আল্লাহর রহমতের একটি বড় সুযোগকে অবহেলা করি।

অতীতের গুনাহ নিয়ে মানুষের সামনে গল্প করার চেয়ে, গভীর রাতে সিজদায় মাথা রেখে আল্লাহর কাছে কান্না করা অনেক বেশি সম্মানের, অনেক বেশি নিরাপদ। যে গুনাহ আল্লাহ গোপন রেখেছেন, সেটিকে আর প্রকাশ করবেন না। বরং সেই গোপন পাপকে গোপন তওবার অশ্রু দিয়ে মুছে ফেলুন। কারণ আল্লাহ পাপীর গল্প শুনতে চান না; তিনি তওবাকারীর কান্না শুনতে ভালোবাসেন। আল্লাহ আমাদের সবাইকে আন্তরিক তওবার তৌফিক দান করুন। আমিন।

আরটিভি/ এসকেডি