শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬ , ১০:৪৮ এএম
ইসলামে শ্রম ও শ্রমিকের মর্যাদা অত্যন্ত উচ্চ। একজন শ্রমিকের ন্যায্য পারিশ্রমিক দ্রুত পরিশোধ করা শুধু মানবিক দায়িত্ব নয়, এটি ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশও। কোরআন ও হাদিসে শ্রমিকের অধিকার রক্ষার বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন, "অতঃপর নামাজ সমাপ্ত হলে তোমরা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড় এবং আল্লাহর অনুগ্রহ (জীবিকা) অন্বেষণ করো। আর আল্লাহকে বেশি বেশি স্মরণ করো, যাতে তোমরা সফল হতে পারো।"
— (সুরা জুমা, আয়াত: ১০)
অন্য আয়াতে আল্লাহ বলেন, "নিশ্চয়ই আমি মানুষকে শ্রমনির্ভররূপে সৃষ্টি করেছি।"
— (সুরা বালাদ, আয়াত: ৪)
এছাড়া একজন আদর্শ কর্মীর গুণাবলি সম্পর্কে কোরআনে এসেছে, "সর্বোত্তম কর্মী সে, যে শক্তিশালী ও বিশ্বস্ত।"
— (সুরা কাসাস, আয়াত: ২৬)
ইসলামের ইতিহাসে সব নবী-রাসুলই নিজ হাতে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেছেন। হজরত আদম (আ.) কৃষিকাজ করেছেন, হজরত নুহ (আ.) কাঠমিস্ত্রির কাজ করেছেন, হজরত দাউদ (আ.) নিজ হাতে লোহার বর্ম তৈরি করতেন। মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-ও শৈশবে ছাগল চরিয়েছেন এবং পরে সততার সঙ্গে ব্যবসা করেছেন।
শ্রমিকের অধিকার সম্পর্কে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর বিখ্যাত নির্দেশ হলো, "শ্রমিকের ঘাম শুকানোর আগেই তার পারিশ্রমিক পরিশোধ করে দাও।"
— (সুনানে ইবনে মাজাহ)
আরেক হাদিসে তিনি বলেন, "তারা তোমাদের ভাই। আল্লাহ তাদের তোমাদের অধীনস্থ করেছেন। তোমরা যা খাও, তাদেরও তা খাওয়াও এবং যা পরো, তাদেরও তা পরাও।"
ইসলামে শ্রমিকের ওপর সাধ্যের বাইরে কাজ চাপিয়ে দিতে নিষেধ করা হয়েছে। প্রয়োজন হলে মালিককে নিজেও সহযোগিতা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মজুরি আটকে রাখা বা কম দেওয়া সম্পর্কে হাদিসে কড়া সতর্কবার্তা এসেছে। হাদিসে কুদসিতে আল্লাহ তাআলা বলেন, "কিয়ামতের দিন আমি তিন শ্রেণির মানুষের বিরুদ্ধে থাকব। তাদের একজন হলো, যে শ্রমিক দিয়ে কাজ করিয়ে তার পারিশ্রমিক দেয় না।"
— (সহিহ বুখারি)
ইসলামের শিক্ষা অনুযায়ী, শ্রমিক ও মালিকের সম্পর্ক শোষণের নয়; বরং পারস্পরিক সম্মান, ন্যায়বিচার ও দায়িত্ববোধের। তাই শ্রমিকের ন্যায্য মজুরি সময়মতো পরিশোধ করা এবং তার সঙ্গে মানবিক আচরণ করা প্রতিটি মুসলমানের দায়িত্ব।
আরটিভি/জেএমএ