images

ধর্ম

যে কারণে ধনীদের আগে জান্নাতে যাবে গরিবরা

শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬ , ০৬:২৯ পিএম

পৃথিবীতে গরিবদের চেয়ে ধনী ব্যক্তিরা অনেক সম্মানিত।  ইসলামের অনেক বিধান পালনের ক্ষেত্রেও গরিবদের চেয়ে ধনীরা এগিয়ে আছেন। যেমন জাকাত আদায় ও দান-সদকা এবং হজ করা। অর্থ্যাৎ ইসলামের যেসব ইবাদত আর্থিক সচ্ছলতার ওপর নির্ভরশীল, সেসব ইবাদতে ধনীরা বরাবরই এগিয়ে থাকেন। তবে আখেরাতে দেখা যাবে পুরোপুরি ভিন্ন চিত্র। সেখানে ধনীরা নয়, বরং দরিদ্ররাই থাকবেন এগিয়ে। হজরত মুহাম্মদ (সা.) বলেন, ‘কেয়ামতের দিন দরিদ্র মুহাজিররা ধনীদের ৪০ বছর আগে জান্নাতে যাবে।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ২৯৭৯)

আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘দরিদ্র মুসলিমরা ধনীদের ৫০০ বছর আগে জান্নাতে প্রবেশ করবে।’ (সুনানে তিরমিজি, হাদিস: ২৩৫৪)

আরেকটি হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘জান্নাতে প্রবেশকারী এই অগ্রবর্তী দলটি জিহাদ ও জ্ঞানসাধনায় এতটাই ব্যতিব্যস্ত থাকবে, তাদের কাছে ন্যূনতম জীবনোপকরণও পাওয়া যাবে না (হাশরের ময়দানে) যার হিসাব গ্রহণের প্রয়োজন হবে। হাদিসের ভাষায়, ‘তুমি কি জানো, আমার উম্মতের মধ্যে প্রথম কারা জান্নাতে যাবে?’ আমি বলি, আল্লাহ এবং তার রাসুলই ভালো জানেন। তিনি বলেন, ‘তারা হলো দরিদ্র মুহাজির। কেয়ামতের দিন তারা জান্নাতের দরজায় এসে কড়া নাড়বে। রক্ষীরা তাদের জিজ্ঞেস করবে, তোমাদের কি হিসাব গ্রহণ করা হয়েছে? তারা বলবে, আমাদের আবার কিসের হিসাব নেওয়া হবে? আমাদের কাঁধে তো শুধু তরবারি থাকত। সেটা দিয়ে আমরা আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করতাম। সে অবস্থায়ই আমরা মৃত্যুবরণ করেছি। তখন তাদের জন্য জান্নাতের দরজা খুলে দেওয়া হবে। তারা ওই জায়গায় ৪০ বছর আরাম করবে। এরপর প্রবেশ করবে অন্যরা। (মুসতাদরাকে হাকিম, হাদিস: ২৩৮৯)

ওপরে বর্ণিত হাদিসগুলোর কোনোটিতে বলা হয়েছে, ধনীদের ৪০ বছর আগে দরিদ্ররা জান্নাতে। আবার কোনোটিতে বলা হয়েছে ৫০০ বছর আগে যাবে।

এর ব্যাখ্যায় ইসলাম বিশেষজ্ঞরা বলেন, ইমানি শক্তি এবং সৎকর্মে অগ্রগামী হওয়ার দিক দিয়ে ধনী-দরিদ্র উভয় শ্রেণির মধ্যেই কিছুটা পার্থক্য থাকবে।

আরও পড়ুন
Web-Image

গোপনে বিয়ে বৈধ নাকি অবৈধ, ইসলাম কী বলছে

কোনো কোনো দরিদ্রের ইমান থাকবে অত্যধিক মজবুত। আমল থাকবে পর্যাপ্ত। তারা ৫০০ বছর আগে জান্নাতে যাবে। অপরদিকে কিছু দরিদ্রের ইমান হবে অপেক্ষাকৃত দুর্বল, আমলও হবে তুলনামূলক কম। তারা তাদের অবস্থা অনুপাতে ৪০ থেকে ৫০০ বছর আগে জান্নাতে যাবে। (জান্নাত-জাহান্নাম, ড. উমর সুলাইমান, পৃষ্ঠা: ২৪)

ইমান ও আমলের ক্ষেত্রে ধনীদের মধ্যেও পার্থক্য থাকবে। যারা উভয় ক্ষেত্রে অগ্রগামী, তারা অন্য ধনীদের ৪০ বছর আগেই জান্নাতে প্রবেশ করবে। যাদের কোনো ক্ষেত্রে দুর্বলতা থাকবে, তারা দুর্বলতা অনুপাতে ৪০ থেকে ৫০০ বছর পরে প্রবেশ করবে। (আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, ইবনে কাসির, খণ্ড: ২, পৃষ্ঠা: ৩৪৫)

ধনী ও গরিব উভয়ে ইমানের দিক থেকে সমান হলে দরিদ্রদের হিসাব-নিকাশ অল্প হওয়ার কারণে তাদের জন্য জান্নাতে যাওয়া সহজ হবে। অন্যদিকে ধনীদের হিসাব বেশি হওয়ায় ধনীদের দেরি হবে। তবে ধনীর সওয়াব যদি দরিদ্রের চেয়ে বেশি হয়, সে ক্ষেত্রে প্রবেশে দেরি হলেও ধনী জান্নাতে অধিক মর্যাদার অধিকারী হবেন। (ইবনে তাইমিয়া, মাজমু ফাতাওয়া, খণ্ড: ১১, পৃষ্ঠা: ১২১)

শায়খ উসাইমিন (রহ.) বলেন, ‘যেহেতু ধনী ব্যক্তি দুনিয়াতে যেখানে আল্লাহর নেয়ামত ভোগ করতে পারে দরিদ্র ব্যক্তি তা পারে না। সে কারণে দরিদ্রদের জন্য এই পুরস্কার। (লিকাউল বাবিল মাফতুহ, অডিও ক্লিপ নম্বর: ২৮)

ইসলামি বিশেষজ্ঞরা বলেন, তাকওয়া বা আল্লাহভীতির ওপর ভিত্তি করে মানুষ আগে-পরে জান্নাতে যাবে।

আরটিভি/ এসকেডি