ইসলামে বিয়ে শুধু দুজন মানুষের সম্পর্ক নয়, এটি একটি পবিত্র ইবাদত এবং সামাজিকভাবে স্বীকৃত চুক্তি। তাই বিয়ে গোপন না রেখে প্রকাশ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, যাতে স্বামী-স্ত্রীর অধিকার রক্ষা হয় এবং সমাজে কোনো বিভ্রান্তি বা অপবাদ সৃষ্টি না হয়।
ইসলামী শরিয়ত অনুযায়ী, সাক্ষী ছাড়া কোনো বিয়েই বৈধ নয়। যদি কোনো পুরুষ ও নারী নির্জনে কোনো সাক্ষী ছাড়া ইজাব-কবুল করেন, তাহলে ইসলামী আইনজ্ঞদের সর্বসম্মত মত অনুযায়ী সেই বিয়ে বাতিল ও অকার্যকর।
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—
«لَا نِكَاحَ إِلَّا بِوَلِيٍّ وَشَاهِدَيْ عَدْلٍ»
অর্থ: ‘অভিভাবক ও দুইজন ন্যায়পরায়ণ সাক্ষী ছাড়া বিয়ে (সম্পূর্ণ) হয় না।’
(বায়হাকি, হাদিস: ১৪৭৩৯)
তবে দুইজন সাক্ষীর উপস্থিতিতে বিয়ে সম্পন্ন হলে এবং পরে তা প্রকাশে কোনো বাধা না থাকলে সেই বিয়েকে গোপন বিয়ে বলা হয় না। এ ধরনের বিয়ের বৈধতা নিয়ে ফকীহদের মধ্যে কোনো মতভেদ নেই।
তবে যদি বিয়ের সময় সাক্ষীদের বলে দেওয়া হয়, তারা যেন কাউকে বিয়ের কথা না জানান, তাহলে এ বিষয়ে ইসলামী আইনজ্ঞদের মধ্যে ভিন্নমত রয়েছে।
জামিয়া আল-আজহারের সাবেক গ্র্যান্ড ইমাম শায়খ মাহমুদ শালতুত (রহ.) বলেন, অধিকাংশ ফকীহ এমন বিয়েকে মাকরুহ (অপছন্দনীয়) বলেছেন। তবে তাদের একটি বড় অংশের মতে, দুইজন সাক্ষী উপস্থিত থাকলে বিয়ে বৈধই থাকে।
অন্যদিকে, ইমাম মালিক (রহ.) এবং তার অনুসারী একদল আলেমের মতে, সাক্ষীদের গোপন রাখার শর্ত বিয়ের মূল উদ্দেশ্যকেই নষ্ট করে দেয়। কারণ সাক্ষী রাখার উদ্দেশ্য হলো সমাজে বিয়ের ঘোষণা পৌঁছে দেওয়া এবং ভবিষ্যতে কোনো বিরোধ বা সন্দেহের সুযোগ না রাখা।
এ কারণে রাসুলুল্লাহ (সা.) বিয়ে প্রকাশ করার প্রতি উৎসাহ দিয়েছেন। তিনি বলেন—
«أَعْلِنُوا هَذَا النِّكَاحَ»
অর্থ: ‘তোমরা এই বিয়ে প্রকাশ কর।’
(মুসনাদে আহমদ, হাদিস: ১৬১৩০; তিরমিজি, হাদিস: ১০৮৯)
পবিত্র কোরআনেও আল্লাহ তাআলা বলেন—
﴿وَمِنْ آيَاتِهِ أَنْ خَلَقَ لَكُمْ مِنْ أَنْفُسِكُمْ أَزْوَاجًا لِتَسْكُنُوا إِلَيْهَا وَجَعَلَ بَيْنَكُمْ مَوَدَّةً وَرَحْمَةً﴾
অর্থ: ‘আর তাঁর নিদর্শনসমূহের মধ্যে রয়েছে, তিনি তোমাদের জন্য তোমাদের মধ্য থেকেই তোমাদের সঙ্গিনী সৃষ্টি করেছেন, যাতে তোমরা তাদের কাছে প্রশান্তি লাভ কর। আর তিনি তোমাদের মধ্যে ভালোবাসা ও দয়া স্থাপন করেছেন।’
(সুরা আর-রূম, আয়াত: ২১)
আলেমরা বলেন, গোপন বিয়ে অনেক সময় পারিবারিক বিরোধ, অধিকারহানি, উত্তরাধিকারসংক্রান্ত জটিলতা এবং সামাজিক বিভ্রান্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তাই ইসলামের নির্দেশনা হলো, বিয়ে এমনভাবে সম্পন্ন করা উচিত যাতে তা সমাজে স্বীকৃত হয় এবং কোনো সন্দেহের অবকাশ না থাকে।
সবশেষে ইসলামী স্কলারদের মতে, সাক্ষী ছাড়া গোপন বিয়ে সর্বসম্মতিক্রমে অবৈধ। আর সাক্ষী উপস্থিত থাকলেও বিয়ে গোপন রাখার শর্তের বিষয়ে মতভেদ রয়েছে। তাই দ্বীন, পরিবার ও সামাজিক মর্যাদা রক্ষার জন্য বিয়ে যথাসম্ভব প্রকাশ্যে সম্পন্ন করাই উত্তম।
আরটিভি/জেএমএ



