images

বিজ্ঞান

হুইলচেয়ারে থাকা বেন্থাসের মহাকাশে ১০ মিনিট

সোমবার, ২২ ডিসেম্বর ২০২৫ , ০৩:৪৩ পিএম

স্বপ্নের প্রতি অবিচল নিষ্ঠা মানুষকে কতটা উঁচুতে নিয়ে যেতে পারে, তার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন জার্মান ইঞ্জিনিয়ার মিকেলা বেন্থাস। সম্প্রতি তিনি প্রথম হুইলচেয়ার ব্যবহারকারী নভোচারী হিসেবে মহাকাশের প্রান্ত ছুঁয়ে পৃথিবীতে ফিরে এসে ইতিহাস গড়েছেন।

সাত বছর আগে এক মাউন্টেন বাইক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হওয়া ৩৩ বছর বয়সী এই পক্ষাঘাতগ্রস্ত নভোচারী জেফ বেজোসের ‘ব্লু অরিজিন’-এর রকেটে চড়ে এই অসাধ্য সাধন করেন। পশ্চিম টেক্সাস থেকে পাঁচজন সহযাত্রীর সঙ্গে শুরু হওয়া এই যাত্রায় তার সঙ্গী ছিলেন স্পেসএক্স-এর অবসরপ্রাপ্ত নির্বাহী হ্যান্স কোয়েনিগসম্যান, যিনি এই সফরের আয়োজনে বিশেষ সহায়তা করেছেন। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১০৫ কিলোমিটার উঁচুতে নিউ শেপার্ড ক্যাপসুলে চড়ে যখন তিনি ওজনহীনতার অপার্থিব সৌন্দর্য উপভোগ করছিলেন, তখন তার হুইলচেয়ারটি পড়ে ছিল পৃথিবীতে।

বেন্থাস জানান, মহাকাশযানের ভেতরে ওপরে ওঠার পুরো সময়টা তিনি হেসেই কাটিয়েছেন এবং সেখানে ওজনহীন অবস্থায় উল্টো হয়ে ঘোরার চেষ্টাও করেছিলেন।

আরও পড়ুন
8541515152

চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে যত রহস্য

এই ঐতিহাসিক ভ্রমণটি কেবল ব্যক্তিগত স্বপ্নপূরণ নয়, বরং এটি প্রমাণ করে যে প্রতিবন্ধকতা কখনো স্বপ্নের পথে বাধা হতে পারে না। ব্লু অরিজিন এই ১০ মিনিটের সংক্ষিপ্ত ভ্রমণের জন্য বেন্থাসের শারীরিক অবস্থা অনুযায়ী রকেটে বিশেষ ‘পেশেন্ট ট্রান্সফার বোর্ড’ যুক্ত করেছিল, যাতে তিনি সহজেই ক্যাপসুলের প্রবেশপথ থেকে নিজের সিট পর্যন্ত যাতায়াত করতে পারেন।

অবতরণের পর মরুভূমির বুকে উদ্ধারকারী দল দ্রুত একটি কার্পেট বিছিয়ে দেয় যাতে তিনি সরাসরি তার হুইলচেয়ারটি ব্যবহার করতে পারেন।

এর আগে ২০২২ সালে প্যারাবোলিক প্লেনের মাধ্যমে ওজনহীনতার প্রাথমিক অভিজ্ঞতা নেওয়া বেন্থাস ইউরোপীয় স্পেস এজেন্সির গ্র্যাজুয়েট প্রশিক্ষক হিসেবেও কাজ করেছেন। অবতরণের পর উচ্ছ্বসিত হয়ে তিনি বলেন, এটি ছিল তার জীবনের সেরা অভিজ্ঞতা। তার এই লক্ষ্য কেবল নিজের জন্য নয়, বরং প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য মহাকাশ জয়ের পথকে আরও সহজ ও সুগম করে তোলা।

মিকেলা বেন্থাসের এই সফল অভিযান বিশ্বজুড়ে শারীরিক সীমাবদ্ধতা থাকা কোটি মানুষের মনে নতুন আশার আলো সঞ্চার করেছে।

আরটিভি/এএইচ