ভারতের চন্দ্রযান-৩ এর সাফল্যের পর চাঁদের রহস্যময় দক্ষিণ মেরু নিয়ে বিশ্বজুড়ে কৌতূহল তুঙ্গে। যে অঞ্চলে মানুষের তৈরি কোনো যান আগে পৌঁছাতে পারেনি, সেখান থেকে প্রজ্ঞান রোভার একের পর এক চমকপ্রদ তথ্য পাঠাচ্ছে। এই মেরু অঞ্চলকে কেন্দ্র করে এখন যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও রাশিয়ার মতো পরাশক্তিগুলোও তাদের ভবিষ্যৎ মিশনের পরিকল্পনা সাজাচ্ছে।
বিজ্ঞানীদের মতে, চাঁদের দক্ষিণ মেরুর প্রধান আকর্ষণ হলো এর চরম প্রতিকূল পরিবেশ এবং সেখানে বরফ আকারে পানির অস্তিত্বের সম্ভাবনা। ভারতের পাঠানো প্রজ্ঞান রোভারের সেন্সরগুলো চন্দ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রার এক অদ্ভুত চিত্র তুলে ধরেছে।
পৃষ্ঠের তাপমাত্রা যেখানে প্রায় ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াস, মাত্র ৩ ইঞ্চি গভীরে তা নেমে গেছে মাইনাস ১০ ডিগ্রিতে। এই বিশাল তাপমাত্রার পার্থক্য বিজ্ঞানীদের রীতিমতো অবাক করেছে।
এর আগে নাসার পর্যবেক্ষণে উত্তর মেরুর একটি গর্তে মাইনাস ২৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল, যা সৌরজগতের অন্যতম শীতলতম স্থান।
চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে অসংখ্য গভীর গর্ত রয়েছে যেগুলোতে কোটি কোটি বছর ধরে সূর্যের আলো পৌঁছায়নি। এই ‘অনন্ত অন্ধকারের গর্ত’ বা চিরস্থায়ী ছায়াচ্ছন্ন এলাকায় প্রচুর পরিমাণে বরফ জমা থাকতে পারে বলে জোরালো ধারণা বিজ্ঞানীদের।
২০০৯ সালে নাসার একটি পরীক্ষায় এবং পরবর্তীতে বিভিন্ন টেলিস্কোপিক পর্যবেক্ষণে এই অঞ্চলে হাইড্রোজেনের উপস্থিতি ও পানির অস্তিত্বের প্রমাণ পাওয়া গেছে।
প্রজ্ঞান রোভারের রাসায়নিক বিশ্লেষণে চাঁদের মাটিতে সালফার, অ্যালুমিনিয়াম, ক্যালসিয়াম, আয়রন এবং টাইটানিয়ামের মতো মূল্যবান খনিজ উপাদানের উপস্থিতিও নিশ্চিত হওয়া গেছে।
ভবিষ্যতে মহাকাশ গবেষণার জন্য এই বরফ বা পানি অত্যন্ত মূল্যবান সম্পদ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। যদি সেখান থেকে বড় আকারে বরফ সংগ্রহ করা যায়, তবে তা ভেঙে হাইড্রোজেন ও অক্সিজেন তৈরি করা সম্ভব। এটি রকেটের জ্বালানি হিসেবে ব্যবহারের পাশাপাশি চাঁদে মানুষের বসতি স্থাপনের ক্ষেত্রে পানীয় জল এবং অক্সিজেনের প্রধান উৎস হতে পারে। এর ফলে চাঁদকে মহাকাশ ভ্রমণের একটি ‘রিফুয়েলিং স্টেশন’ হিসেবে ব্যবহার করে সৌরজগতের আরও গভীরে অভিযান চালানো সহজ হবে।
বর্তমানে চাঁদের দক্ষিণ মেরু দখলের এক অলিখিত প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে।
আরটিভি/এএইচ





