images

বিজ্ঞান

আকাশে রকেট ওড়ার সময় কেন ঘটে ভয়াবহ দুর্ঘটনা

শুক্রবার, ০৯ জানুয়ারি ২০২৬ , ০৭:২৬ পিএম

রকেট উৎক্ষেপণ মানেই এক শ্বাসরুদ্ধকর মুহূর্ত, যা সফল হলে মহাকাশ জয়ের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়, আর ব্যর্থ হলে মুহূর্তেই তা খবরের শিরোনামে পরিণত হয়। গত কয়েক দশক ধরে মহাকাশ গবেষণায় রকেট উৎক্ষেপণের হার বাড়লেও আশ্চর্যজনকভাবে ব্যর্থতার কারণগুলোর মধ্যে অনেক মিল খুঁজে পাওয়া গেছে।

সম্প্রতি স্পেসএক্স-এর বিশাল রকেট ‘স্টারশিপ’-এর প্রথম পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ এবং তার কয়েক মিনিটের মধ্যে ঘটা বিস্ফোরণ বিশ্বজুড়ে আলোচনার সৃষ্টি করেছে।

যদিও স্পেসএক্স মনে করে, এই ধরণের দুর্ঘটনা কোনো ব্যর্থতা নয় বরং পরবর্তী মিশনের ত্রুটি সংশোধন করে শেখার একটি বড় সুযোগ।

মহাকাশ যানের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, রকেট উৎক্ষেপণে দুর্ঘটনার সংখ্যা আসলে খুব বেশি নয়। ২০২২ সালে বিশ্বজুড়ে ১৮৬টি রকেট লঞ্চের মধ্যে মাত্র আটটি ব্যর্থ হয়েছে, অর্থাৎ ব্যর্থতার হার মাত্র ৪ শতাংশ। 

তবে পরিসংখ্যানের এই নিচু হার সব সময় একই থাকে না। বিশেষ করে যখন কোনো নতুন মডেলের রকেট প্রথমবার উৎক্ষেপণ করা হয়, তখন ঝুঁকির মাত্রা অনেক বেশি থাকে।

বিমা বিশেষজ্ঞ এবং বিশ্লেষকদের মতে, একটি নতুন রকেট সিরিজের প্রথম বা দ্বিতীয় উৎক্ষেপণের সময় ব্যর্থ হওয়ার সম্ভাবনা প্রায় ৩০ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে। ১০টি সফল ফ্লাইটের পর এই ব্যর্থতার হার সাধারণত ৫ শতাংশের নিচে নেমে আসে।

রকেট দুর্ঘটনার কারণগুলো বেশ জটিল এবং সূক্ষ্ম।

আরও পড়ুন
84851584

পৃথিবীর সবচেয়ে কাছে আসছে বৃহস্পতি, দেখবেন যেভাবে

প্রকৌশলীদের মতে, রকেটের ভেতরে থাকা অতি উচ্চচাপের উত্তপ্ত গ্যাস এবং দ্রুত পরিবর্তনশীল পরিবেশ সামলানো অত্যন্ত কঠিন। সামান্য ত্রুটির কারণে পুরো রকেটটি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে। তবে মানুষবাহী মহাকাশ মিশনের ক্ষেত্রে নিরাপত্তার জন্য অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করা হয় বিধায় সেখানে ব্যর্থতার হার ২ শতাংশের নিচে।

মজার বিষয় হলো, ঐতিহাসিক তথ্যে দেখা গেছে রকেটের ষষ্ঠ ফ্লাইটে ব্যর্থ হওয়ার একটি বিশেষ প্রবণতা রয়েছে। গবেষকরা মনে করেন, এই পর্যায়ে পৌঁছানোর পর নির্মাণকাজে কিছুটা একঘেয়েমি বা মান নিয়ন্ত্রণে শৈথিল্য চলে আসতে পারে, যার ফলে দুর্ঘটনা ঘটে।

মহাকাশ দৌড়ের শুরুর দিকে ১৯৫০-এর দশকে রকেট উৎক্ষেপণে ব্যর্থতার হার ছিল ৭০ শতাংশের বেশি। বর্তমানে উন্নত কম্পিউটার মডেলিং এবং কয়েক দশকের অভিজ্ঞতার ফলে এই ঝুঁকি অনেকটা কমে এলেও প্রতিটি নতুন লঞ্চ সিস্টেম অজানা চ্যালেঞ্জ নিয়ে সামনে দাঁড়ায়। রকেট ডিজাইনাররা প্রতিনিয়ত আরও উন্নত প্রযুক্তির সন্ধানে কাজ করেন বলেই প্রতিটি নতুন আবিষ্কারের শুরুতে কিছুটা অনিশ্চয়তা থেকেই যায়।

মূলত অদম্য আকাঙ্ক্ষা আর বিজ্ঞানীদের কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমেই এই ব্যর্থতাগুলো জয় করে মানুষ পৃথিবীর সীমানা ছাড়িয়ে অজানাকে জানার পথে এগিয়ে চলেছে।

আরটিভি/এএইচ