সোমবার, ১২ জানুয়ারি ২০২৬ , ০৩:০৯ পিএম
বয়স বাড়লে ডিমেনশিয়া বা আলঝেইমার রোগের ঝুঁকি বাড়ে—চিকিৎসা বিজ্ঞানের এই প্রচলিত ধারণাকে নতুন করে ভাবিয়ে তুলছে সাম্প্রতিক এক গবেষণা।
গবেষকরা লক্ষ্য করেছেন, বিশ্বের অনেক উন্নত দেশে বয়স্ক মানুষের সংখ্যা বাড়লেও ডিমেনশিয়ায় আক্রান্ত নতুন রোগীর সংখ্যা উল্টো কমতে শুরু করেছে। আর এর নেপথ্যে মূল কারণ হিসেবে তারা দেখছেন মানুষের মস্তিষ্কের আকার ক্রমাগত বৃদ্ধি পাওয়া।
১৯৩০ সাল থেকে জন্ম নেওয়া পরবর্তী প্রজন্মগুলোর মধ্যে মস্তিষ্কের গড় আয়তন উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে, যা রোগ প্রতিরোধে সহায়ক ভূমিকা পালন করছে।
বিজ্ঞান সাময়িকী ‘জামা নিউরোলজি’-তে প্রকাশিত এক বিশ্লেষণ এবং ‘সাইন্টিফিক আমেরিকান’-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৯৩০ থেকে ১৯৭০ সালের মধ্যে জন্ম নেওয়া ব্যক্তিদের মস্তিষ্কের এমআরআই স্ক্যান পরীক্ষা করে দেখা গেছে, গত কয়েক দশকে মানুষের মস্তিষ্কের আয়তন ৬.৬ শতাংশ বেড়েছে।
ফ্রেমিংহাম হার্ট স্টাডি’র প্রায় ১৫ হাজার মানুষের তথ্যের ওপর ভিত্তি করে চালানো এই গবেষণায় দেখা যায়, ১৯৩০-এর দশকে জন্মানো ব্যক্তিদের মস্তিষ্কের গড় আয়তন ছিল ১,২৩৬ মিলিলিটার, যা ১৯৭০-এর দশকে জন্মানোদের ক্ষেত্রে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১,৩১৭ মিলিলিটারে।
গবেষণায় আরও দেখা গেছে, মস্তিষ্কের শ্বেত পদার্থ এবং মেমরি বা স্মৃতি প্রক্রিয়াকরণের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অংশ ‘হিপ্পোক্যাম্পাস’-এর আকারও বড় হয়েছে।
ক্যালিফোর্নিয়া ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া ডেভিস মেডিকেল সেন্টারের নিউরোলজিস্ট চার্লস ডিকার্লি জানান, মস্তিষ্কের বাইরের স্তর বা কর্টেক্সের পুরুত্ব কিছুটা কমলেও এর পৃষ্ঠের ক্ষেত্রফল বেড়েছে। একে বলা হয় ‘জিরিফিকেশন’, যার ফলে মস্তিষ্ক আকারে বড় হওয়ার পাশাপাশি অনেক বেশি আন্তঃসংযুক্ত হয়ে উঠছে।
এই জটিল কাঠামোর কারণেই সম্ভবত বার্ধক্যজনিত নানা রোগ প্রতিরোধ করা মস্তিষ্কের জন্য সহজ হচ্ছে।
ইউটি হেলথ সান আন্তোনিওর নিউরোলজিস্ট সুধা শেশাদ্রি বলেন, সত্তরের দশকের পর থেকে ডিমেনশিয়ায় আক্রান্তের হার কমতে থাকা এবং এর লক্ষণগুলো দেরিতে প্রকাশ পাওয়া একটি ইতিবাচক সংকেত। আগে ধারণা করা হতো এই রোগটি প্রধানত বংশগত, কিন্তু জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন এবং কার্ডিওভাসকুলার স্বাস্থ্যের উন্নতির ফলে এই ঝুঁকি এখন অনেকটা কমতির দিকে।
গবেষকরা মনে করছেন, শৈশব থেকে প্রাপ্তবয়স্ক হওয়া পর্যন্ত মানুষের সামগ্রিক স্বাস্থ্য এবং মস্তিষ্কের এই গঠনগত পরিবর্তন কেবল ডিমেনশিয়া নয়, বরং মানুষের সার্বিক বিকাশে বড় প্রভাব ফেলছে।
যদিও জলবায়ু পরিবর্তন এবং ভৌগোলিক কারণে অতীতে মস্তিষ্কের আকারে পরিবর্তনের ইতিহাস রয়েছে, তবে বর্তমানের এই বৃদ্ধি আধুনিক মানুষের জন্য আশার আলো দেখাচ্ছে।
ইউনিভার্সিটি অব কেমব্রিজের এপিডেমিওলজিস্ট ক্যারল ব্রেইন মনে করেন, প্রাপ্তবয়স্কদের মস্তিষ্কে এই পরিবর্তন কেন এবং কীভাবে ঘটছে তা নিয়ে আরও গভীর গবেষণা প্রয়োজন। এর মাধ্যমে ভবিষ্যতে ডিমেনশিয়ার মতো জটিল স্নায়বিক সমস্যাগুলো থেকে মানুষকে রক্ষা করা সম্ভব হতে পারে। সূত্র: সাইন্টিফিক আমেরিকান
আরটিভি/এএইচ