শিশুদের মস্তিষ্কে ঘটেচলা বিষয়গুলো জানতে চায় বিজ্ঞানীরা

আরটিভি নিউজ

শনিবার, ২০ ডিসেম্বর ২০২৫ , ০৭:৫২ পিএম


শিশুদের মস্তিষ্কে ঘটেচলা বিষয়গুলো জানতে চায় বিজ্ঞানীরা
প্রতীকী ছবি

শিশুদের শৈশবকালীন মস্তিষ্কের বিকাশের প্রক্রিয়া এবং তাদের ভবিষ্যতের সামাজিক ও অ্যাকাডেমিক সক্ষমতা নির্ধারণে ব্রিস্টল বিশ্ববিদ্যালয়ে চলছে ‘দ্য চিলড্রেন অফ দ্য ৯০ জি’ নামক এক অনন্য ও অগ্রণী গবেষণা।

বিজ্ঞাপন

এই প্রকল্পে মূলত ১৯৯০-এর দশকে অংশগ্রহণকারী মায়েদের সন্তানদের ওপর নিবিড় পর্যবেক্ষণ চালানো হচ্ছে। দুই বছর বয়সী হেনরি বা জ্যাকসনের মতো শিশুদের বিশেষ সেন্সরযুক্ত ‘ব্রেইন-স্ক্যানিং’ টুপি পরিয়ে আইপ্যাড গেম বা ধাঁধার মাধ্যমে তাদের মস্তিষ্কের সক্ষমতা পরীক্ষা করছেন বিজ্ঞানীরা।

প্রধান গবেষক ড. কার্লা হোম্বের মতে, এই গবেষণার মূল লক্ষ্য হলো শিশুদের ‘ইনহিবিটরি কন্ট্রোল’ বা বাধা নিয়ন্ত্রণ এবং ‘ওয়ার্কিং মেমরি’র মতো মৌলিক দক্ষতাগুলো কখন এবং কীভাবে তৈরি হয় তা বোঝা। এই দক্ষতাগুলো শিশুদের কোনো কাজে ফোকাস করতে এবং নতুন কিছু শিখতে সাহায্য করে।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞানীরা দেখছেন, একটি শিশু কতটা দ্রুত তার সিদ্ধান্ত গ্রহণকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে এবং কোনো সমস্যা সমাধানের জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য মাথায় রাখতে পারে। এই দক্ষতাগুলোই পরবর্তী জীবনে তাদের পঠন ও সামাজিক আচরণের ভিত্তি বা ‘বিল্ডিং ব্লক’ হিসেবে কাজ করে।

গবেষণায় দেখা গেছে, যেসব শিশু স্কুল জীবন শুরুর সময় শিখতে গিয়ে বা মনোযোগ দিতে গিয়ে বাধার সম্মুখীন হয়, সেই সমস্যা অনেক সময় তাদের যৌবনকাল পর্যন্ত চলতে পারে। তাই শিশুদের বিকাশের এই প্রাথমিক সময়কালকে সঠিকভাবে বোঝা জরুরি, যাতে প্রয়োজনের সময় তাদের সঠিক সাপোর্ট দেওয়া সম্ভব হয়। অনেক শিশুর ক্ষেত্রে ছয় মাস থেকে শুরু করে পাঁচ বছর বয়স পর্যন্ত এমআরআই স্ক্যানের মাধ্যমে তাদের ক্রমবিকাশমান মস্তিষ্কের প্রকৃত চিত্র তৈরি করা হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

প্রকল্পটির একটি বিশেষত্ব হলো এটি একটি জীবনব্যাপী তথ্য সংগ্রহের অংশ। বর্তমানে অংশগ্রহণকারী ৩০০ শিশুর মায়েরা যখন নিজেরা শিশু ছিলেন, ১৯৯০-এর দশক থেকেই তাদের স্বাস্থ্য ও জেনেটিক্স মনিটর করা হচ্ছে। এই বিশাল তথ্যভাণ্ডার শিশুদের বিকাশ এবং তাদের অভিভাবকদের স্বাস্থ্য ও অভিজ্ঞতার মধ্যকার গভীর যোগসূত্র উন্মোচন করতে সাহায্য করছে।

এর আগে এই প্রকল্পের মাধ্যমেই জানা গিয়েছিল যে শিশুদের ডায়েটে তৈলাক্ত মাছের অভাব তাদের সামাজিক ও দয়ালু হওয়ার গুণাবলিকে প্রভাবিত করতে পারে।

গবেষণায় দেখা গেছে, গেমগুলো আপাতদৃষ্টিতে একঘেয়ে মনে হলেও প্রতিটাই সযত্নে ডিজাইন করা হয়েছে শিশুদের ভাষার বিকাশ এবং তথ্য প্রক্রিয়াকরণের গতি মূল্যায়ন করতে।

ড. হোম্বে জানান, যখন বাচ্চারা স্কুলে যাওয়া শুরু করে, ততদিনে তাদের মধ্যে অনেক দক্ষতা ও অভ্যাস তৈরি হয়ে যায়। তাই শৈশবের এই মৌলিক ভিত্তি তৈরির কাজগুলো সঠিক সময়ে শিশুদের এগিয়ে নিতে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সাহায্য করতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

আরটিভি/এএইচ

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps
বিজ্ঞাপন

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission