images

বিজ্ঞান

সৌদি আরবে প্রাকৃতিকভাবে মমীকৃত চিতাবাঘের ডিএনএ গবেষণায় মিলল নতুন তথ্য

শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ , ০৯:৩৫ পিএম

সৌদি আরবে ন্যাশনাল সেন্টার ফর ওয়াইল্ডলাইফ-এর বিজ্ঞানীরা ২০২২ এবং ২০২৩ সালে গুহা পরিদর্শনের সময় একটি অপ্রত্যাশিত আবিষ্কার করেন। উত্তর আরারের কাছে পাঁচটি গুহায় তারা সাতটি প্রাকৃতিকভাবে মমীকৃত চিতাবাঘ পেয়েছিলেন। দেহগুলি মূলত অক্ষত, নরম তন্তু এবং কঙ্কাল ভালোভাবে সংরক্ষিত ছিল। তিনটি মমির ডিএনএ বিশ্লেষণ নতুন তথ্য প্রদান করেছে, যা সৌদি আরবে চিতাবাঘ পুনর্বাসনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

চিতাবাঘের ইতিহাস ও প্রজাতি

চিতাবাঘ একসময় আফ্রিকা এবং এশিয়ার বিস্তৃত অঞ্চলে বাস করত। বর্তমানে তাদের প্রাকৃতিক বসতি মাত্র ৯ শতাংশে সীমাবদ্ধ। আগে ধারণা করা হতো যে সৌদি আরবে শুধুমাত্র এশিয়াটিক চিতাবাঘ (Acinonyx jubatus venaticus) বাস করত। এই প্রজাতি বর্তমানে ভীষণ বিপন্ন, প্রধান আবাস ইরান। ১৯৭০-এর দশকে সৌদি আরবে চিতাবাঘকে স্থানীয়ভাবে বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়।

তবে মমির ডিএনএ বিশ্লেষণে দেখা গেছে, সবচেয়ে পুরোনো দুইটি নমুনা উত্তর-পশ্চিম আফ্রিকার চিতাবাঘ (Acinonyx jubatus hecki) এর কাছাকাছি জেনেটিকভাবে। এটি প্রমাণ করে যে আরব উপদ্বীপে একসময় অন্তত দুটি ভিন্ন প্রজাতির চিতাবাঘ বাস করত।

গুহা ব্যবহার ও মমীকরণের রহস্য

গুহায় চিতাবাঘের অবস্থান এবং প্রাকৃতিক মমীকরণ দুটি গবেষকদের জন্যই বিস্ময়কর। প্রধান গবেষক আহমেদ আল বুগ বলেন, চিতাবাঘ সাধারণত গুহায় থাকে না। তবে গুহার অতিশুষ্ক পরিবেশ তাদের দেহ মমী করতে সাহায্য করেছে। গবেষকরা খুঁজছেন কেন চিতাবাঘ গুহায় প্রবেশ করত; তারা মনে করছেন এটি কোনো দুর্ঘটনা বা বৃদ্ধ বয়সে বিচ্ছিন্ন হওয়ার উদ্দেশ্য ছিল না।

মমিগুলোর পাশাপাশি ৫৪টি কঙ্কালও পাওয়া গেছে। গবেষকরা আশা করছেন, বাকী নমুনার ডিএনএ বিশ্লেষণ করলে আরও প্রজাতি শনাক্ত করা সম্ভব হবে।

পুনর্বাসনের জন্য নতুন দিকনির্দেশনা

ভেটেরিনারি বিশেষজ্ঞ অ্যাড্রিয়ান টর্ডিফ জানান, কিছু চিতাবাঘের দেহ মাত্র এক শতাব্দী পুরোনো— এটি প্রমাণ করে যে সৌদি আরবে চিতাবাঘ অনেক বেশি সম্প্রতি বাস করত। বিভিন্ন সময়ে ভিন্ন প্রজাতির চিতাবাঘের উপস্থিতি দেখায়, আরব উপদ্বীপ একসময় প্রাকৃতিক সংযোগসেতু হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ছিল।

এ তথ্য পুনর্বাসন কার্যক্রমকে আরও পরিকল্পিত করে তুলছে। এখন জানা প্রজাতি ব্যবহার করে সঠিক পরিবেশে পুনর্বাসন করা সম্ভব।

আরব মরুভূমিতে চিতাবাঘের গুরুত্ব

গবেষকরা মনে করেন, মানব কার্যকলাপ যেমন অতিদ্রুত শিকার ও বসতিপ্রধান পরিবর্তন চিতাবাঘের সংখ্যা কমানোর মূল কারণ। তবে বর্তমানে সুরক্ষিত অঞ্চল এবং শিকার প্রাণীর উপস্থিতি চিতাবাঘকে ফিরে আসার সুযোগ দিচ্ছে।

আরও পড়ুন
trex

টি-রেক্স নিয়ে নতুন তথ্য, বদলে গেল বিজ্ঞানীদের ধারণা

চিতাবাঘ সংরক্ষণ তহবিলের প্রতিষ্ঠাতা লরি মার্কার বলেন, চিতাবাঘ শীর্ষ শিকারি হিসেবে পরিবেশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তারা দ্রুত শিকার করে এবং অবশিষ্টাংশ অন্যান্য ছোট প্রাণীর জন্য রেখে যায়। ফলে মরুভূমিতে চিতাবাঘ পুনর্বাসন মানে সুস্থ এবং বৈচিত্র্যময় প্রতিবেশের পুনরুদ্ধার।

>>> এই প্রাকৃতিকভাবে মমীকৃত চিতাবাঘের আবিষ্কার আরব উপদ্বীপের অতীত জীববৈচিত্র্য ও প্রজাতিগত বৈচিত্র্য সম্পর্কে নতুন তথ্য প্রদান করছে। পুনর্বাসনের জন্য এখন তথ্যভিত্তিক পরিকল্পনা করা সম্ভব, যা শুধু আশা নয়, বাস্তব উদ্যোগে পরিণত হয়েছে। সূত্র: ইয়াহু

আরটিভি/এমএইচজে