রোববার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬ , ০৫:১৮ পিএম
প্রায় ৩ হাজার বছর আগের অক্ষত পাত্রে খাওয়ার উপযোগী অবস্থায় মধু পেয়েছেন মিশরের প্রত্নতত্ত্ববিদরা।
প্রাচীন মিশরের রাজপরিবারের সদস্যদের মৃত্যুর পর তাদের সমাধিতে এমন অনেক জিনিস রাখা হতো, যা তারা পরকালে প্রয়োজন হবে বলে বিশ্বাস করতেন। গহনা, খেলনা বা পোশাকের পাশাপাশি খাবারদাবারও রাখা হতো এসব সমাধিতে।
সাধারণভাবে ধারণা করা হয়, এত প্রাচীন খাবার সময়ের সঙ্গে পচে নষ্ট হয়ে যায়। কিন্তু বিস্ময়করভাবে প্রত্নতত্ত্ববিদরা সমাধি থেকে যে মধুর পাত্রগুলো উদ্ধার করেছেন, সেগুলো আজও প্রায় অক্ষত রয়েছে— এমনকি খাওয়ার উপযোগীও।
মধুর এই অসাধারণ স্থায়িত্বের পেছনে রয়েছে এর বিশেষ গঠন। এতে পানির পরিমাণ খুবই কম এবং চিনির মাত্রা অনেক বেশি, যা ব্যাকটেরিয়া বৃদ্ধির জন্য প্রতিকূল পরিবেশ তৈরি করে। এছাড়া মধুতে অল্প পরিমাণ হাইড্রোজেন পারঅক্সাইডও থাকে, যা প্রাকৃতিক জীবাণুনাশক হিসেবে কাজ করে।
মধু তৈরির প্রক্রিয়াতেও রয়েছে বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা। মৌমাছিরা তাদের ডানার দ্রুত নড়াচড়ার মাধ্যমে মধুর অধিকাংশ পানি বাষ্পীভূত করে ফেলে। পাশাপাশি তাদের দেহে থাকা বিশেষ এনজাইম মধুকে অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল বৈশিষ্ট্য দেয়।
ইতিহাসবিদদের মতে, প্রাচীন মিশরীয়রা ছিল বিশ্বের প্রথম দিককার সংগঠিত মৌমাছি পালনকারী। তারা শুধু নিজেদের ব্যবহারের জন্যই নয়, দেবতাদের উদ্দেশেও মধু উৎসর্গ করত এবং মৃতদের সঙ্গে পরকালীন জীবনের জন্য মধু পাঠাত। সূত্র: হিস্টোরি ফ্যাক্টস
আরটিভি/এমএইচজে