সোমবার, ১১ মে ২০২৬ , ০৪:০১ পিএম
সৌরজগতের বাইরের একটি গ্রহের প্রথম সরাসরি ছবি তুলে নতুন ইতিহাস গড়েছে মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ন্যাশনাল অ্যারোনটিকস অ্যান্ড স্পেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (নাসা) অত্যাধুনিক জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপ। বিজ্ঞানীরা বলছেন, এটি শুধু একটি ছবি নয়, বরং মহাকাশ গবেষণায় এক নতুন যুগের সূচনা।
ছবিতে দেখা গেছে সৌরজগতের বাইরের গ্যাসীয় গ্রহ এইচআইপি ৬৫৪২৬ বি–কে। গ্রহটির কোনো কঠিন পাথুরে ভূমি নেই, তাই সেখানে প্রাণের অস্তিত্ব থাকার সম্ভাবনাও খুবই কম। তবে দূরবর্তী গ্রহ সম্পর্কে জানার ক্ষেত্রে এই আবিষ্কারকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন গবেষকেরা।
ওয়েব টেলিস্কোপ চারটি ভিন্ন ইনফ্রারেড ফিল্টারে গ্রহটির ছবি ধারণ করেছে। প্রতিটি ছবিতে গ্রহটিকে ভিন্নভাবে দেখা যাচ্ছে, কারণ বিভিন্ন তরঙ্গদৈর্ঘ্যের আলো আলাদাভাবে ধরা পড়েছে। বিজ্ঞানীদের মতে, এ প্রযুক্তি ভবিষ্যতে আরও অজানা গ্রহের গঠন, আবহাওয়া ও রাসায়নিক বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানার সুযোগ করে দেবে।
এই গবেষণার নেতৃত্ব দেন যুক্তরাজ্যের এক্সেটার বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্যোতির্বিজ্ঞানী সাশা হিঙ্কলি। তিনি বলেন, এটি শুধু ওয়েব টেলিস্কোপের জন্য নয়, পুরো জ্যোতির্বিজ্ঞানের জন্যই একটি রূপান্তরমূলক মুহূর্ত।
বিজ্ঞানীদের ধারণা, এইচআইপি ৬৫৪২৬ বি–এর ভর বৃহস্পতির চেয়ে প্রায় ৬ থেকে ১২ গুণ বেশি। বয়স মাত্র ১ কোটি ৫০ লাখ থেকে ২ কোটি বছর, যা মহাজাগতিক হিসাবে বেশ নবীন। তুলনায় পৃথিবীর বয়স প্রায় ৪৫০ কোটি বছর।
২০১৭ সালে চিলিতে অবস্থিত ইউরোপিয়ান সাউদার্ন অবজারভেটরির ভেরি লার্জ টেলিস্কোপ প্রথম গ্রহটির অস্তিত্ব শনাক্ত করে। তবে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের কারণে স্থলভিত্তিক দূরবীক্ষণ যন্ত্র দিয়ে যেসব তথ্য পাওয়া সম্ভব হয়নি, সেগুলোই এবার তুলে এনেছে জেমস ওয়েব।
গ্রহটি তার মূল নক্ষত্র থেকে এতটাই দূরে অবস্থান করছে (পৃথিবী ও সূর্যের দূরত্বের প্রায় ১০০ গুণ) যে ওয়েব টেলিস্কোপ সহজেই নক্ষত্রের আলো আলাদা করে গ্রহটিকে শনাক্ত করতে পেরেছে। এ কাজে ব্যবহার করা হয়েছে বিশেষ ‘করোনাগ্রাফ’ প্রযুক্তি, যা নক্ষত্রের তীব্র আলো আড়াল করে আশপাশের ম্লান বস্তুগুলোকে দৃশ্যমান করে।
ছবিগুলোর বিশ্লেষণে নেতৃত্ব দেওয়া গবেষক এরিন কার্টার বলেন, প্রথমে শুধু নক্ষত্রের আলোই দেখা যাচ্ছিল। পরে ধাপে ধাপে সেই আলো সরিয়ে যখন গ্রহটিকে দেখা গেল, তখন মনে হচ্ছিল যেন মহাকাশের কোনো গুপ্তধন খুঁজে পেয়েছি।
এর আগে হাবল স্পেস টেলিস্কোপ থেকেও কিছু এক্সোপ্ল্যানেটের ছবি তোলা হয়েছিল। তবে বিজ্ঞানীরা বলছেন, ওয়েব টেলিস্কোপের এই সাফল্য ভবিষ্যতে দূরবর্তী গ্রহ অনুসন্ধানকে আরও দ্রুত ও নির্ভুল করে তুলবে। এমনকি এখনো অজানা অসংখ্য গ্রহের সন্ধানও মিলতে পারে এই প্রযুক্তির মাধ্যমে। সূত্র: নাসা
আরটিভি/এমএইচজে