images

বিজ্ঞান

দেশের আকাশে দেখা যাবে দুই গ্রহের মহামিলনের দৃশ্য

বুধবার, ০৩ জুন ২০২৬ , ০৭:১৮ পিএম

চলতি জুন মাসে দেশের আকাশে দেখা যাবে বছরের অন্যতম সেরা এক মহাজাগতিক দৃশ্য। বিশেষ করে সন্ধ্যায় শুক্র ও বৃহস্পতি এই দুই গ্রহের অবিশ্বাস্য রকমের কাছাকাছি আসা এই সময়কালকে অনন্য করে তুলবে।

এ ঘটনাটি ঘটবে পশ্চিম আকাশে। সৌরজগতের সবচেয়ে উজ্জ্বল দুটি গ্রহ শুক্র ও বৃহস্পতি একে অপরের খুব কাছাকাছি চলে আসবে। জুনের শুরু থেকেই শুক্র গ্রহ ক্রমাগত আকাশের ওপরের দিকে উঠতে থাকবে ও বৃহস্পতি নিচের দিকে নামতে থাকবে। 

এর ফলে ৮ ও ৯ জুন সন্ধ্যায় গ্রহ দুটি একে অপরের সবচেয়ে কাছে অবস্থান করবে। সূর্যাস্তের ঠিক ৩০ থেকে ৬০ মিনিট পর পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিগন্তে তাকালে খালি চোখেই এই দৃশ্য স্পষ্ট দেখা যাবে। 

আরও পড়ুন
mak

২৭ বছর ধরে মহাকাশ স্টেশনে ফাটল, নভোচারীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ

এছাড়াও এ মাসে থাকবে আরও কিছু মহাজাগতিক দৃশ্য

বুধ গ্রহের দর্শন
সাধারণত সূর্যের খুব কাছাকাছি থাকায় বুধ গ্রহকে খালি চোখে দেখা বেশ কঠিন। তবে জুনের প্রথম ১৫ দিন বুধ দেখার জন্য বছরের সেরা সময়। ১৫ জুন বুধ গ্রহ সূর্য থেকে তার সর্বোচ্চ কৌণিক দূরত্বে (২৫ ডিগ্রি পূর্বে) অবস্থান করবে। যত দিন যাবে, বুধ পশ্চিম আকাশে তত ওপরে উঠতে থাকবে। সূর্যাস্তের ঠিক আধা ঘণ্টা পর পশ্চিম দিগন্তের একদম নিচের দিকে তাকালে শুক্র ও বৃহস্পতির বেশ কিছুটা নিচে বুধ গ্রহকে একটি উজ্জ্বল তারার মতো দেখা যাবে। ১৫ জুনে এটি দিগন্ত থেকে সবচেয়ে উঁচুতে থাকবে, যা খালি চোখে বুধকে চেনার এক বিরল সুযোগ।

গ্রহের মালা
১২ থেকে ১৫ জুনের মধ্যে পশ্চিম আকাশে এক চমৎকার লিনিয়ার অ্যালাইনমেন্ট বা গ্রহের সারিবদ্ধতা তৈরি হবে। সূর্যাস্তের পর পশ্চিম দিগন্তের নিচ থেকে ওপরের দিকে ক্রমান্বয়ে বুধ, বৃহস্পতি ও শুক্র গ্রহকে একই লাইনে অবস্থান করতে দেখা যাবে। ১৫ জুনের দিকে এদের সঙ্গে যোগ দেবে একটি অতি সরু নতুন চাঁদ, যা জ্যোতির্বিজ্ঞান আলোকচিত্রীদের জন্য একটি দারুণ মুহূর্ত তৈরি করবে।

ভোরের আকাশে শনি ও মঙ্গল গ্রহের রাজত্ব
যাঁরা শেষ রাতে বা ভোরে ঘুম থেকে ওঠেন, তাঁদের জন্য জুনের প্রথমার্ধে পূর্ব আকাশে অপেক্ষা করছে ভিন্ন দৃশ্যপট। ভোরের আকাশে হলুদ আভাযুক্ত শনি গ্রহ এখন বেশ উঁচুতে অবস্থান করছে। মধ্যরাতের পর উদিত হয়ে ভোর চারটার দিকে এটি দক্ষিণ-পূর্ব আকাশে বেশ স্পষ্ট হয়ে ওঠবে। একটি সাধারণ টেলিস্কোপ ব্যবহার করেই শনির বলয়ের সুন্দর বাঁকটি (৯ ডিগ্রি কোণে হেলে থাকা) দেখা যাবে। অন্যদিকে, লাল গ্রহ মঙ্গল শনির বেশ কিছুটা নিচে, পূর্ব দিগন্তের কাছাকাছি অবস্থান করবে। সূর্যোদয়ের প্রায় ঘণ্টা দেড়েক আগে এর লালচে আভা খালি চোখেই দেখা যাবে।

সুপার নিউ মুন
১৫ জুন আকাশে দেখা যাবে অমাবস্যা বা নিউ মুন। এবারের অমাবস্যা চাঁদের পৃথিবীর সবচেয়ে কাছাকাছি অবস্থান করায় একে সুপার নিউ মুন বলা হচ্ছে। ১৫ জুনের আশপাশে চাঁদ না থাকায় রাতের আকাশ থাকবে সম্পূর্ণ অন্ধকার। ঢাকার বাইরে বা গ্রামাঞ্চল থেকে গ্রীষ্মকালীন মিল্কিওয়ে বা আকাশগঙ্গার হালকা সাদা মেঘের মতো আভাসহ এম৮ নেবুলা ও ট্রাইফিড নেবুলাও দেখা যাবে।

বিশেষ পরামর্শ
জুনের আকাশ মেঘলা থাকার সম্ভাবনা বেশি, তবে বৃষ্টির ঠিক পরপরই যখন মেঘ কেটে যায়, তখন বায়ুমণ্ডলের ধূলিকণা ধুয়ে যাওয়ার কারণে আকাশ স্বচ্ছ থাকে। সেই সময়টুকু আকাশ পর্যবেক্ষণের উপযুক্ত সময়। ব্যস্ত জীবনের কোলাহল ছাপিয়ে জুনের ৮ ও ৯ তারিখ সন্ধ্যায় মাত্র আধা ঘণ্টার জন্য হলেও পশ্চিম আকাশের দিকে তাকিয়ে দেখুন, ব্রহ্মাণ্ডের দুই রাজকীয় গ্রহের এই নৈকট্য আপনাকে মুগ্ধ করবে নিঃসন্দেহে।

সূত্র: স্কাইম্যাপ, টাইম অ্যান্ড ডেট, স্কাই অ্যান্ড টেলিস্কোপ, অ্যাস্ট্রোনমি ডট কম, সাইটেক

আরটিভি/এসএস