ঢাকা বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩

২৭ বছর ধরে মহাকাশ স্টেশনে ফাটল, নভোচারীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ

আরর্টিভি নিউজ

প্রকাশ : ০৩ জুন ২০২৬, ০৬:২৩ পিএম
আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন : ছবি সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন বা আইএসএস-এ আবারও নতুন করে বিপজ্জনকভাবে বাতাস লিকের ঘটনা ঘটেছে। স্টেশনটি থেকে অনবরত বাতাস বেরিয়ে যাওয়ার কারণে সেখানে থাকা নভোচারীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা গত সপ্তাহে এই নতুন লিকের তথ্য নিশ্চিত করেছে, যা চলতি বছরের শুরুর দিকে সমাধান হয়ে যাবে বলে আশা করা হয়েছিল।

২৭ বছর ধরে কক্ষপথে থাকা এই পুরোনো মহাকাশ স্টেশনটি মূলত ২০১৯ সাল থেকে ক্রমাগত বাতাস লিকের সমস্যায় ভুগছে, যা স্টেশনটির রুশ অংশের ‘পিআরকে’ মডিউল নামক একটি সংকীর্ণ স্থানান্তর টানেলে অবস্থিত।

যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্ক পোস্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মহাকাশ বিজ্ঞান বিষয়ক সংবাদমাধ্যম আর্স টেকনিকা এই সংকটের কথা প্রথম জনসমক্ষে আনে। এর আগে গত জানুয়ারি মাসে নাসা ঘোষণা করেছিল যে একাধিক পরিদর্শন এবং সিল্যান্ট প্রয়োগের পর পিআরকে মডিউলটি অবশেষে একটি ‘স্থিতিশীল অবস্থায়’ পৌঁছেছে।

গত ১ মে রুশ নভোচারীরা যখন কার্গো আনলোড করছিলেন, তখন নাসা মডিউলটির ভেতরে আবারও বাতাসের চাপ ধীরে ধীরে কমে যাওয়ার বিষয়টি লক্ষ্য করে। এ থেকে প্রতিদিন প্রায় এক পাউন্ড পরিমাণ বাতাস মহাশূন্যে হারিয়ে যাচ্ছে। এই বাতাসের ওজন সাধারণ একটি পাউরুটির ওজনের সমান। ত্রুটি শনাক্তের পর মডিউলটিকে বর্তমানে তুলনামূলক কম চাপে রাখা হয়েছে।

আরও পড়ুন

যদিও এই লিক বর্তমানে মহাকাশ স্টেশনের নিয়মিত কার্যক্রম বা সেখানে থাকা সাতজন নভোচারীর তাৎক্ষণিক নিরাপত্তার ওপর কোনো প্রভাব ফেলছে না, তবুও সংস্থার অভ্যন্তরীণ বৈঠকে এই ত্রুটি যেকোনো সময় একটি ‘বিপর্যয়কর ব্যর্থতা’ ডেকে আনতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

আর্স টেকনিকার তথ্য অনুযায়ী, নাসা মহাকাশ অভিযানের ঝুঁকি মূল্যায়ন করতে একটি বিশেষ ৫×৫ ‘রিস্ক ম্যাট্রিক্স’ ব্যবহার করে, যেখানে এই রুশ মডিউলের লিকটিকে উচ্চ সম্ভাবনা এবং উচ্চ প্রভাব উভয় ক্ষেত্রেই সর্বোচ্চ ‘৫’ নম্বর ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়েছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ডেইলি মেইল জানিয়েছে, পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে নভোচারীদের জরুরি ভিত্তিতে পৃথিবীতে ফিরিয়ে আনার মতো বিশেষ উদ্ধার পরিকল্পনাও প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

নাসা এবং রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় মহাকাশ সংস্থা রসকসমসের প্রকৌশলীরা গত অর্ধ দশক ধরে এই লিকের হার ট্র্যাক করছেন। ২০২৪ সালের মধ্যে এই লিকের হার দ্বিগুণ হয়ে যাওয়ায় নাসা এটিকে আইএসএস-এর সবচেয়ে গুরুতর নিরাপত্তা উদ্বেগে উন্নীত করেছিল। এই নতুন লিকটি মূলত ২০৩০ সালে অবসরে যাওয়ার অপেক্ষায় থাকা এই পুরনো মহাকাশ স্টেশনটির ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে, যদিও মার্কিন কংগ্রেস এটিকে ২০৩২ সাল পর্যন্ত সচল রাখার কথা ভাবছিল।

নাসার বাণিজ্যিক মহাকাশ উড্ডয়নের প্রাক্তন পরিচালক ফিল ম্যাকঅ্যালিস্টার আর্স টেকনিকাকে বলেছেন, এই ঘটনাটি ২০৩০ সালের মধ্যেই আইএসএস-কে নিরাপদে ফিরিয়ে এনে আরও আধুনিক ও সাশ্রয়ী বাণিজ্যিক প্ল্যাটফর্ম দিয়ে প্রতিস্থাপন করার সিদ্ধান্তকে আরও বেশি যুক্তিযুক্ত করে তুলেছে।

বর্তমানে মহাকাশ স্টেশনে মোট সাতজন নভোচারী অবস্থান করছেন। তাদের মধ্যে নাসার তিনজন, ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থার একজন এবং রাশিয়ার তিনজন নভোচারী রয়েছেন। নাসা জানিয়েছে, পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণের জন্য সবাই যৌথভাবে কাজ করছেন। এই মুহূর্তে নভোচারীদের জন্য তাৎক্ষণিক বিপদে পড়ার আশঙ্কা নেই। তবে পরিস্থিতি যদি আরও খারাপের দিকে যায়, তবে নভোচারীদের স্টেশন থেকে জরুরিভাবে নিয়ে আসার জন্য নাসা সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে।

সূত্র: দ্য নিউ ইয়র্ক পোস্ট

আরটিভি/এমএম

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
মৃত নক্ষত্রের ছাই থেকে তৈরি হওয়া গ্রহের সন্ধান পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা
মৃত নক্ষত্রের ধ্বংসাবশেষ থেকে নতুন একটি গ্রহ তৈরি হয়েছে—এমন সম্ভাবনার প্রথম প্রমাণ পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা। মহাবিশ্বের বুকে নক্ষত্রের জন্ম ও মৃত্যুর চক্র অন্তহীন।
মৃত নক্ষত্রের ছাই থেকে তৈরি হওয়া গ্রহের সন্ধান পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা
মেয়ে সন্তান হলেই কি আয়ু বাড়ে বাবার? গবেষণায় মিলল চাঞ্চল্যকর তথ্য
সন্তান জন্মের পর বদলে যায় জীবনের অনেক হিসাব। বাড়ে দায়িত্ব, তৈরি হয় নতুন স্বপ্ন। তবে ছেলে না মেয়ে— সন্তানের লিঙ্গের সঙ্গে বাবার আয়ুর কোনো সম্পর্ক আছে কি? বিশেষ করে, কন্যাসন্তান হলে বাবার আয়ু বাড়ে— এমন ধারণার পেছনে কতটা বৈজ্ঞানিক সত্য রয়েছে?
মেয়ে সন্তান হলেই কি আয়ু বাড়ে বাবার? গবেষণায় মিলল চাঞ্চল্যকর তথ্য
প্রথমবার ৩ লাখ বছর আগের মানুষের মুখচ্ছবি উন্মোচন
প্রায় ৩ লাখ ১৫ হাজার বছর আগের এক আদি মানুষের মুখচ্ছবি পুনর্গঠন করেছেন গবেষকরা। তাদের মতে, আধুনিক পোশাক পরিয়ে ওই মানুষকে আজকের মানুষের ভিড়ে দাঁড় করালে প্রথম দেখায় আলাদা করে চেনা কঠিন হতো।
প্রথমবার ৩ লাখ বছর আগের মানুষের মুখচ্ছবি উন্মোচন
প্রথমবার সৌরজগতের বাইরের গ্রহ থেকে সরাসরি রেডিও সংকেত শনাক্ত
পৃথিবীর বাইরে প্রাণের অস্তিত্বের এখনো কোনো প্রমাণ মেলেনি। তবে মহাবিশ্বে আমরা একা কিনা, তা জানতে বিজ্ঞানীদের অনুসন্ধান অব্যাহত রয়েছে। এবার সেই অনুসন্ধানে গুরুত্বপূর্ণ এক সাফল্য পেয়েছেন জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা। প্রথমবারের মতো সৌরজগতের বাইরের একটি গ্রহ থেকে সরাসরি আসা রেডিও সংকেত শনাক্ত করেছেন তারা।
প্রথমবার সৌরজগতের বাইরের গ্রহ থেকে সরাসরি রেডিও সংকেত শনাক্ত
ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখে বিশ্ব
প্রচণ্ড তাপপ্রবাহের কারণে পৃথিবীর তাপমাত্রা নিয়মিত নতুন রেকর্ড গড়ছে। চলতি বছরের প্রথম আট মাসে বৈশ্বিক গড় তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে ১ দশমিক ২২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি রেকর্ড করা হয়েছে।  আবহাওয়াবিদদের মতে, এই ধারা অব্যাহত থাকলে চলতি বছরকে ইতিহাসের অন্যতম উষ্ণতম বছর হিসেবে রেকর্ড করা হতে পারে। শুধু তা–ই নয়, আসন্ন সুপার এল নিনো পরিস্থিতির কারণে আগামী বছরগুলোয় এই পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে বলেও সতর্ক করেছেন তারা। একিউওয়েদারের বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, আসন্ন সুপার এল নিনোর কারণে প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের তাপমাত্রা মারাত্মকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে।  কোপার্নিকাস ক্লাইমেট চেঞ্জ সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের আগস্টকে ইতিহাসের উষ্ণতম আগস্ট হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। সাধারণত জুলাই বছরের উষ্ণতম মাস হলেও এ বছর আগস্ট জুলাইকে ছাড়িয়ে গেছে।  একিউওয়েদারের আবহাওয়াবিদ টাইলার রয়স জানান, বায়ুমণ্ডল ও মহাসাগরের সর্বত্র এই তাপমাত্রার ব্যাপক বিস্তার লক্ষ করা যাচ্ছে। এল নিনো দ্রুত শক্তিশালী হয়ে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের আবহাওয়া ও বৃষ্টির ধরন সম্পূর্ণ বদলে দিতে পারে। এল নিনো হলো একটি প্রাকৃতিক জলবায়ু চক্র, যা প্রতি দুই থেকে সাত বছর পরপর ঠান্ডা ও উষ্ণ দশার মধ্যে পরিবর্তিত হয়। এই উষ্ণ দশার সময় বিষুবীয় প্রশান্ত মহাসাগরের ভূপৃষ্ঠের উষ্ণতা অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পায়। মহাসাগরের এই বর্ধিত তাপশক্তি ধীরে ধীরে সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়ে এবং চরম আবহাওয়ার সৃষ্টি করে।  যুক্তরাষ্ট্রের মেট অফিসের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ভবিষ্যতে প্রশান্ত মহাসাগরের উষ্ণতা ৩ থেকে ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে। বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির ফলে সমুদ্রের পানির উচ্চতা বৃদ্ধি এবং প্রচণ্ড তাপপ্রবাহের ঝুঁকিও বহুগুণ বেড়ে গেছে।  বিজ্ঞানীদের মতে, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে এই জলবায়ুসংকট মানবসভ্যতার জন্য বড় ধরনের বিপর্যয় ডেকে আনবে। সূত্র: ডেইলি মেইল আরটিভি/এসএস
ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখে বিশ্ব
আরও পড়ুন
মহাকাশে নতুন যাত্রা, চার নভোচারীকে পাঠাচ্ছে নাসা
এবার মহাকাশে মিষ্টি কুমড়া রান্না করে খেলেন নভোচারীরা
ভয়ংকর পিচের কারণে খেলা বাতিল
মহাকাশ থেকে আশ্চর্য ক্ষমতা নিয়ে ফিরল জীবাণু