বুধবার, ০৫ আগস্ট ২০২৬ , ০২:২০ পিএম
এক শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের অভিযোগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘রিপন ভিডিও’ নামে পরিচিত কনটেন্ট ক্রিয়েটর রিপন মিয়ার বিরুদ্ধে নেত্রকোনা সদর থানায় মামলা হয়েছে। মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) রাতে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর বাবা বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, অভিযুক্ত রিপন মিয়া (৩০) নেত্রকোনা সদর উপজেলার দক্ষিণ বিশিউড়া ইউনিয়নের নন্দুরা গ্রামের মঞ্জিল মিয়ার ছেলে। ভুক্তভোগী ১৩ বছর বয়সী স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার রাতে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর সঙ্গে রিপন মিয়াকে মেয়েটির বাড়ির পেছনে দেখা গেছে এমন অভিযোগ ওঠার পর বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হয়। পরে স্থানীয়ভাবে একটি সালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। স্থানীয়দের দাবি, ওই সালিশে রিপন মিয়াকে পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা এবং এক সপ্তাহের মধ্যে গ্রাম ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
সোমবার (৩ আগস্ট) দিবাগত রাত ১২টার দিকে সালিশের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ঘটনাটি ব্যাপক আলোচনায় আসে। ভিডিওটি নজরে আসার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রাথমিক তদন্ত শুরু করে। এরপর ভুক্তভোগীর বাবা থানায় মামলা করেন।
ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত রিপন মিয়া পলাতক রয়েছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। মঙ্গলবার দুপুরে তার বাড়িতে গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি।
রিপন মিয়ার স্ত্রী চম্পা আক্তার দাবি করেন, তিনি ঘটনার বিস্তারিত জানেন না। তার ভাষ্য, তার স্বামী নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন এবং ঘটনাটি অন্যায়ভাবে তার ওপর চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর আগে থেকেই তাদের পরিবারের সঙ্গে যাতায়াত ছিল।
অন্যদিকে, ভুক্তভোগীর মা জানান, তিনি বাড়িতে না থাকায় প্রথমে বিষয়টি জানতে পারেননি। পরে স্থানীয়দের কাছ থেকে ঘটনার কথা শোনার পর মেয়ের সঙ্গে কথা বলে অভিযোগের বিষয়টি জানতে পারেন।
নেত্রকোনা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল খায়ের বলেন, এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
উল্লেখ্য, মামলার অভিযোগ তদন্তাধীন। আদালতে দোষী প্রমাণিত হওয়ার আগ পর্যন্ত অভিযুক্ত আইনগতভাবে নির্দোষ হিসেবে বিবেচিত হবেন।
আরটিভি/এসকে