সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬ , ০৪:১৯ পিএম
পৃথিবীতে হাজার হাজার ট্রেনিং সেন্টার আছে কেউ শেখায় দক্ষতা, কেউ গড়ে তোলে ভবিষ্যৎ। কিন্তু এমন এক ট্রেনিংও চলছে যার কথা শুনলে শিউরে উঠতে হয়। হ্যাঁ দর্শক অনলাইনের গোপন দুনিয়ায় তৈরি হয়েছে এক ভয়ংকর নেটওয়ার্ক রেপ একাডেমি। যেখানে শেখানো হয় কীভাবে প্রমাণ ছাড়া করা যায় ধর্ষণ। আর সবচেয়ে আতঙ্কের বিষয় এই প্ল্যাটফর্মের ৬২ মিলিয়ন ভিজিটরই পুরুষ। সিএনএনের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এমন লোমহর্ষক ঘটনা।
২০২৪ সালে ফ্রান্সের এক মামলায় সামনে আসে এমন এক ভয়ংকর বাস্তবতা। সেখানে ডমিনিক পেলিকট ও তার ৫০ সহযোগীর বিচার ইন্টারনেটে যৌন নির্যাতনকারী এক ভয়াবহ চক্রকে উন্মোচিত করে বিশ্বের সামনে। ডমিনিক তার নিজের স্ত্রী জিসেল পেলিকটকে অজান্তে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে, ১০ বছর ধরে ৭০ জন অপরিচিত পুরুষকে দিয়ে ২০০ বারের বেশি ধর্ষণ করিয়েছিলেন। এই ভয়ংকর পরিকল্পনা করা হয়েছিল উইদআউট হার নলেজ নামক এ্কটি অনলাইন চ্যাটরুমে।
এই ঘটনা কিছু সময়ের জন্য বিশ্বকে নাড়িয়ে দিলেও, অনলাইনের এই প্রবণতা থামেনি। তদন্তে দেখা গেছে, বিভিন্ন ওয়েবসাইট ও গোপন চ্যাট গ্রুপে গড়ে উঠেছে এমন এক কমিউনিটি, যেখানে সদস্যরা একে অপরকে শেখায় কীভাবে সঙ্গীকে অচেতন করতে হয়, কীভাবে ধরা না পড়ে পার পাওয়া যায়। হাজার হাজার ভিডিও ছড়িয়ে আছে এসব প্ল্যাটফর্মে যেগুলোকে বলা হয় স্লিপ কনটেন্ট। সেখানে দেখা যায়, নারীরা ঘুমন্ত বা অচেতন, আর সেই অবস্থায় তাদের ওপর চালানো হচ্ছে নির্যাতন। কিছু ভিডিওতে চোখের পাতা তুলে দেখানো হয় ভুক্তভোগী সত্যিই অচেতন কি-না, আর এসব ভিডিও ভিউ পাচ্ছে লাখ লাখ।
আরও ভয়ংকর তথ্য হলো এই নির্যাতন শুধু রেকর্ড করেই থেমে থাকছে না, অনেক ক্ষেত্রে করা হচ্ছে লাইভ স্ট্রিম। প্রায় ২০ ডলার করে দর্শকদের সেই নির্যাতন দেখানো হয়। অনেক সময় ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে লেনদেন হয়, যাতে সহজে কোনো ট্র্যাক না থাকে। এমনকি দর্শকরাই নির্দেশ দেয় কী করতে হবে, আর অপরাধীরা সেই নির্দেশ মেনে চলে।
এই নেটওয়ার্কে এমন ব্যবহারকারীরও সন্ধান মিলেছে, যারা দাবি করে তারা গন্ধহীন, স্বাদহীন স্লিপিং লিকুইড বিক্রি করে বিশ্বজুড়ে পাঠায়। যার দাম প্রায় ১৫০ ইউরো, এবং বলা হয় এটি ব্যবহার করলে ভুক্তভোগী কিছুই বুঝবে না বা মনে রাখতে পারবে না।
ইউরোপের একাধিক নারী পরে জানতে পারেন, তাদের নিজের সঙ্গীই বছরের পর বছর অজান্তে ওষুধ খাইয়ে নির্যাতন করেছে। অনেকের কিছুই মনে থাকত না- শুধু অস্বস্তি, আঘাতের চিহ্ন আর অজানা আতঙ্ক নিয়ে ঘুম ভাঙত।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ ধরনের অপরাধ শনাক্ত করা অত্যন্ত কঠিন। কারণ এখন এমন ওষুধ ব্যবহার করা হচ্ছে, যা দ্রুত শরীর থেকে মিলিয়ে যায় এবং খুব কম প্রমাণ রেখে যায়। ফলে আদালতে এসব মামলা প্রমাণ করা কঠিন হয়ে পড়ে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে লজ্জা, ভয় ও সামাজিক চাপ, যার কারণে অনেক ভুক্তভোগী অভিযোগই করতে পারেন না। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও বলছে, এই ধরনের অপরাধের নির্ভরযোগ্য তথ্য খুবই কম, কারণ অধিকাংশ ঘটনাই রিপোর্ট হয় না।
এদিকে আইন থাকলেও, অনেক দেশে এই অপরাধগুলো আলাদাভাবে ট্র্যাক করা হয় না। কিছু প্ল্যাটফর্ম বন্ধ হলেও নতুন নতুন সাইট তৈরি হচ্ছে, আর অনলাইনের গোপনীয়তা অপরাধীদের করে রাখছে আড়াল। ফলে এই নেটওয়ার্ক ক্রমেই আরও বিস্তৃত হচ্ছে।
আরটিভি/এমএইচজে