মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬ , ০৯:০৭ পিএম
ইতিহাস কখনও কখনও আয়নার মতো কাজ করে। সামনে যা দেখা যায়, তা সবসময় সত্য নয়; পেছনের প্রতিফলনই প্রকৃত বাস্তবতা তুলে ধরে। আর সেই আয়নায় যখন তাকানো হয়, তখন একটাই প্রশ্ন বারবার ফিরে আসে—যুক্তরাষ্ট্রকে কি সত্যিই বিশ্বাস করা যায়?
ভোরের আলোয় হোয়াইট হাউস শান্ত। সাদা ভবনটি যেন স্থির দাঁড়িয়ে থাকে। কিন্তু এই দেয়ালের ভেতরে নেওয়া অনেক সিদ্ধান্ত পৃথিবীর নানা প্রান্তে ঝড় তুলেছে। সাম্প্রতিক সময়েও সেই ঝড় আবার দেখা গেছে ইরান ইস্যুতে। ক্ষমতায় থাকা ট্রাম্প নিজের অবস্থানকে জয় হিসেবে তুলে ধরতে চেয়েছেন, কিন্তু বাস্তব পরিস্থিতি ভিন্ন ইঙ্গিত দেয়।
তার প্রতিশ্রুতি ছিল যুদ্ধ এড়ানো ও শান্তি প্রতিষ্ঠা। কিন্তু ঘটনাপ্রবাহে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। ইরানকে আত্মসমর্পণে বাধ্য করার যে ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল, তা ধীরে ধীরে ফাঁকা কথায় পরিণত হয়েছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে হুমকি, উত্তেজনা এবং হঠাৎ সামরিক পদক্ষেপ, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে।
এখানেই প্রশ্নটি আরও গভীর হয়। কারণ এটি নতুন কিছু নয়। ইতিহাসে এমন অনেক ঘটনা আছে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্র চুক্তি করেছে, কিন্তু পরে তা ভেঙে দিয়েছে। ২০১৫ সালে ‘জয়েন্ট কমপ্রিহেনসিভ প্ল্যান অব অ্যাকশন’ (JCPOA) নামে একটি গুরুত্বপূর্ণ পারমাণবিক চুক্তি হয়েছিল। দীর্ঘ আলোচনার পর তৈরি হওয়া সেই চুক্তি পরে একতরফাভাবে বাতিল করা হয়। ফলে আস্থার জায়গাটি ধীরে ধীরে ক্ষয়ে যেতে থাকে।
আরও পেছনে তাকালে দেখা যায়, ভিয়েতনাম যুদ্ধের পর পুনর্গঠনের প্রতিশ্রুতি দিয়েও তা পূরণ করা হয়নি। যুদ্ধবিধ্বস্ত একটি দেশ আশা নিয়ে পরিকল্পনা করেছিল, কিন্তু শেষ পর্যন্ত প্রত্যাশা পূরণ হয়নি।
এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব ইতিহাসেও একই চিত্র দেখা যায়। নেটিভ আমেরিকানদের সঙ্গে শত শত চুক্তি করা হয়েছিল, কিন্তু সেগুলোর বেশিরভাগই রক্ষা করা হয়নি। ইতিহাসবিদেরা এটিকে ‘চুক্তিভঙ্গের কলঙ্কিত অধ্যায়’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
এই ধারাবাহিকতার মধ্যেই বর্তমান ইরান পরিস্থিতি দাঁড়িয়ে আছে। ইরান এখন সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। তাদের অভিজ্ঞতা বলছে, শুধু কথার ওপর নির্ভর করা ঝুঁকিপূর্ণ। আলোচনা চলার মাঝেও হামলা হয়েছে, অবরোধ আরোপ করা হয়েছে, আর প্রতিশ্রুতিগুলো ঝুলে আছে অনিশ্চয়তায়।
সব মিলিয়ে চিত্রটি যেন একটাই গল্প বলে— ক্ষমতার পালাবদল হলেও নীতির ধারাবাহিকতা খুব একটা বদলায় না। প্রেসিডেন্ট বদলায়, কিন্তু আচরণের ধরন অনেকটাই একই থেকে যায়।
আরটিভি/এমএইচজে