ঢাকা শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ৩১ আশ্বিন ১৪৩৩

যাদের হারাতে পারেননি সুলতান সুলেমান, সেখানেই আটকে আছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২০ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:০৮ পিএম
ছবি: সংগৃহীত

একের পর এক বিস্ফোরণ, কোমর ভাঙার মতো হামলা— মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়ার সর্বাত্মক চেষ্টা। যে ভূখণ্ড দখলের চেষ্টায় সুলতান সুলেমানের মতো শক্তিশালী শাসকও ব্যর্থ হয়েছিলেন, সেই ইতিহাসের কথাই মনে করিয়ে দেয় আজকের বাস্তবতা। তারা হার মানেনি, হারতে শেখেনি। হ্যাঁ, কথা হচ্ছে ইরানকে ঘিরেই।

মধ্যপ্রাচ্যের এই দেশটি শুধু একটি রাষ্ট্র নয়; এটি হাজার বছরের ইতিহাসের উত্তরাধিকার বহন করে। একসময় শক্তিশালী পারস্য সভ্যতার কেন্দ্র ছিল এই ভূখণ্ড। ইতিহাস বলছে, ১৬০০ শতকে সুলতান সুলেমানের নেতৃত্বে উসমানীয় সাম্রাজ্য ইরানের দিকে একের পর এক অভিযান চালায়। বাগদাদসহ বেশ কিছু অঞ্চল দখল হলেও পুরো ইরান কখনোই তাদের নিয়ন্ত্রণে আসেনি।

এর পেছনে ছিল কৌশলগত পরিবর্তন। সরাসরি সংঘর্ষের বদলে ইরান বেছে নেয় ভিন্ন পথ— পিছু হটা, হঠাৎ আঘাত হানা, আবার সরে যাওয়া। এই গেরিলা কৌশলই ধীর করে দেয় শক্তিশালী সাম্রাজ্যের অগ্রযাত্রা।

ইরানের অদম্য মনোভাবের পেছনে ধর্মীয় ও আদর্শিক প্রভাবও গুরুত্বপূর্ণ। হযরত আলী (রা.)— যিনি ছিলেন সাহস, ন্যায় ও দৃঢ়তার প্রতীক। তার আদর্শ অনুসরণ করেন দেশটির প্রায় ৯০ শতাংশ শিয়া মুসলিম। তারা হযরত আলী (রা.)-কে ইসলামের প্রথম বৈধ ইমাম হিসেবে মানেন।

শিয়া বিশ্বাস অনুযায়ী, নবী মুহাম্মদ (সা.)-এর পর নেতৃত্ব শুধু রাজনৈতিক নয়, আধ্যাত্মিক দায়িত্বও। এখানে আলী (রা.) এবং তার বংশধরদের সত্য ও ন্যায়ের পথপ্রদর্শক হিসেবে দেখা হয়।

এই বিশ্বাসের সবচেয়ে শক্তিশালী প্রতিফলন দেখা যায় কারবালার যুদ্ধে। ইমাম হোসাইন (রা.) অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে আত্মত্যাগ করেন। এই ঘটনা শিয়া মানসিকতায় গড়ে তোলে— অন্যায়ের সামনে মাথা নত না করা, কষ্ট সহ্য করা এবং শেষ পর্যন্ত দৃঢ় থাকা।

এই মানসিকতার বড় পরীক্ষা হয়েছিল ইরান-ইরাক যুদ্ধে। টানা আট বছরের সংঘাতে ব্যাপক ধ্বংস ও প্রাণহানি সত্ত্বেও ভেঙে পড়েনি ইরান। বরং সেখান থেকেই তৈরি হয়— টিকে থাকাই সবচেয়ে বড় শক্তি।

বর্তমান বাস্তবতায় ইরান শুধু নিজের ভেতরেই শক্তিশালী হয়নি, বরং বদলে দিয়েছে যুদ্ধের কৌশল। দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্র মনে করত দূরবর্তী দেশে যুদ্ধ চালিয়ে প্রতিপক্ষকে দুর্বল করা সম্ভব, নিজেদের ওপর চাপ কম রেখেই। কিন্তু সেই ধারণা এখন চ্যালেঞ্জের মুখে।

ইরানের কৌশল শুধু সরাসরি যুদ্ধ নয়। ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা, দূরনিয়ন্ত্রিত হামলা এবং আঞ্চলিক মিত্রবলয়ের মাধ্যমে তারা এমন এক প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তুলেছে, যেখানে ইরানকে আঘাত করা মানেই একটি বিস্তৃত প্রতিক্রিয়ার মুখোমুখি হওয়া।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো— ইরান এই সংঘাতের খরচ একা বহন করে না। তাদের প্রতিক্রিয়া এমনভাবে পরিকল্পিত, যাতে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদেরও এর মূল্য দিতে হয়। উপসাগরীয় অঞ্চল, সামরিক ঘাঁটি ও সমুদ্রপথ— সবই চলে আসে ঝুঁকির মধ্যে। ফলে সংঘাত আর দুই পক্ষের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না; এটি পুরো অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে।

আরও পড়ুন

এই বাস্তবতা নতুন নয়। ২০২০ সালে কাসেম সোলাইমানি নিহত হওয়ার পর ইরান সরাসরি ইরাকের আল-আসাদ ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। এতে স্পষ্ট হয়— ইরান শুধু প্রতিক্রিয়াশীল নয়, প্রয়োজনে সরাসরি আঘাত করতেও প্রস্তুত।

আরেকটি বড় পরিবর্তন এসেছে যুদ্ধের অর্থনীতিতে। যুক্তরাষ্ট্র বিপুল ব্যয়ে সামরিক শক্তি গড়ে তোলে, কিন্তু ইরান বেছে নিয়েছে ভিন্ন পথ— কম খরচে আঘাত, বেশি খরচে প্রতিরক্ষা বাধ্য করা। অর্থাৎ, একটি তুলনামূলক সস্তা আক্রমণ ঠেকাতে প্রতিপক্ষকে ব্যবহার করতে হয় অত্যন্ত ব্যয়বহুল প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। আর এখানেই বদলে গেছে যুদ্ধের হিসাব।

আরটিভি/এমএইচজে

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
পূজায় নতুন জামা নয়, বাবাকে খুঁজছে এই শিশুরা!
বাবা, এক বটবৃক্ষের নাম। সন্তানের সবরকম ভাল থাকার উৎস, সেটিই যেন আবারও প্রমাণিত এই বাচ্চাদের কণ্ঠে। চারদিকে যখন বিরাজ করছে পূজার আমেজ তখন এই কোমলমতি শিশুদের চোখে পানি, আর কণ্ঠে আক্ষেপ। এ বছর যেন উৎসবের দিনগুলোতে নতুন জামার চেয়েও বড় অভাব হয়ে দাঁড়িয়েছে তাদের বাবা। তাই আনন্দের সময়ও যেন থামছেই না তাদের কান্না।
পূজায় নতুন জামা নয়, বাবাকে খুঁজছে এই শিশুরা!
স্কুলমাঠে শিশুদের খেলার বদলে সাঁতার কাটছে হাঁস
ভিডিওর এই শিশুরা সবাই প্রাথমিকের শিক্ষার্থী। যাদের এখন সহপাঠীদের সাথে ছুটোছুটি করার কথা বিদ্যালয়ের মাঠে। অথচ পানি জমে থাকায় তারা পারছে না খেলতে, কেউ আবার যেতে পারে না টয়লেটেও। আবার পানি পেরিয়ে ক্লাসে যেতে গিয়ে ভিজে যায় কারও পোশাক। বই-খাতায় লেগে যায় কাদা। অভিযোগের যেন শেষ নেই কোমলমতি এই শিশুদের। 
স্কুলমাঠে শিশুদের খেলার বদলে সাঁতার কাটছে হাঁস
সৌদি রক্ষায় নামছে ফরাসি সেনারা!
হরমুজ সংকটে সৌদি আরবের তেল রপ্তানির গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প হয়ে উঠেছিল লোহিত সাগরের ইয়ানবু বন্দর। কিন্তু সেই পথও এখন রয়েছে হামলার ঝুঁকিতে। হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ এই তেলবন্দর রক্ষায় এবার সৌদি আরবে সেনা পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছে ফ্রান্স। শুধু সেনা নয়, সঙ্গে যাচ্ছে রাডার ও প্রতিরক্ষাব্যবস্থাও।  বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) রাতে টেলিভিশনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই ঘোষণা দিয়েছেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁ। সংবাদমাধ্যম রয়টার্স এর প্রতিবেদনে প্রকাশ পেয়েছে এই তথ্য।  মাখোঁ জানান, ইয়ানবু রক্ষায় সৌদি আরবের সঙ্গে একটি চুক্তি চূড়ান্ত করেছে ফ্রান্স। সেই চুক্তির আওতায় সেখানে পাঠানো হবে ফরাসি সেনাসদস্য, রাডার ও প্রতিরক্ষাব্যবস্থা। তবে মাখোঁ একটি বিষয় স্পষ্ট করেছেন। ফরাসি সেনাদের পাঠানো হচ্ছে ইয়ানবু রক্ষার জন্য, চলমান সংঘাতে সরাসরি অংশ নেওয়ার জন্য নয়। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে সৌদি আরবের একটি বন্দর রক্ষায়  কেন সেনা পাঠাতে হচ্ছে ফ্রান্সকে? এর পেছনে বড় কারণ হরমুজ প্রণালির চলমান সংকট। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে হরমুজ দিয়ে জ্বালানি পরিবহন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ার পর বিকল্প পথ হিসেবে ইয়ানবুর গুরুত্ব অনেক বেড়ে যায়। সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চল থেকে ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইনের মাধ্যমে তেল নিয়ে যাওয়া হয় লোহিত সাগরের এই বন্দরে। সেখান থেকে হরমুজ এড়িয়ে সরাসরি তেল পাঠানো সম্ভব আন্তর্জাতিক বাজারে। কিন্তু সম্প্রতি সেই ব্যবস্থাও খেয়েছে বড় ধাক্কা। ইয়েমেনের হুতিরা সৌদি আরবের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুর পাশাপাশি ইয়ানবুতে আরামকোর স্থাপনায় হামলার দাবি করেছে। সৌদি কর্তৃপক্ষও ইয়ানবুসহ বিভিন্ন এলাকার দিকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার কথা জানিয়েছে। এর আগে ড্রোন হামলায় সৌদি আরবের ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইনের তিনটি পাম্পিং স্টেশন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। এতে ইয়ানবু দিয়ে তেল রপ্তানিও বন্ধ হয়ে যায়। পরে পাইপলাইনটি আবার চালু করা হয়েছে সীমিত পরিসরে।  ফলে ইয়ানবুর নিরাপত্তা এখন শুধু সৌদি আরবের বিষয় নয়। বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার ক্ষেত্রেও বন্দরটির গুরুত্ব বেড়েছে বন্দরটির। আর ফ্রান্সও অনুভব করছে জ্বালানি সংকটের চাপ। মাখোঁ বলেন, আগামী শীতের জন্য ফ্রান্সে পর্যাপ্ত তেল ও গ্যাসের মজুত রয়েছে। নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে কাজ করছে তাঁর সরকার। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ডিজেল রপ্তানি নিষিদ্ধ করার কথা বিবেচনা করছে। এমন খবর সত্য হলে তার ফল বিশ্ব ও মার্কিন অর্থনীতির জন্য বিপর্যয়কর হতে পারে বলেও সতর্ক করেছেন তিনি। যদিও হোয়াইট হাউস অস্বীকার করেছে এমন কোনো পরিকল্পনার কথা। আরটিভি/এআর 
সৌদি রক্ষায় নামছে ফরাসি সেনারা!
শতবর্ষী এই মুসাফিরখানায় আজও মিলে বিনামূল্যে আশ্রয় ও খাবার
আধুনিকতার ছোঁয়া লাগার আগে বরেন্দ্রভূমির মেঠোপথগুলো কেমন ছিল? সন্ধ্যা নামলেই চারপাশের খাঁ-খাঁ নীরবতা, বন্যপ্রাণীর ভয় আর ডাকাতের উপদ্রব— এমন এক অনিশ্চিত সময়ে ক্লান্ত পথিকের একমাত্র ভরসা হয়ে দাঁড়িয়েছিল একটি অনন্য মানবিক উদ্যোগ। প্রায় ১২ যুগ বা ১১৮ বছর ধরে নওগাঁর পোরশার ঐতিহাসিক ‘মুসাফিরখানা’ সেই মানবতার ঐতিহ্যকে পরম যত্নে টিকিয়ে রেখেছে। নিজ সম্পত্তির উপার্জনে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে আশ্রয় ও খাবারের এমন দৃষ্টান্ত আধুনিক সমাজেও এক বিরল মানবসেবার বার্তা দেয়।
শতবর্ষী এই মুসাফিরখানায় আজও মিলে বিনামূল্যে আশ্রয় ও খাবার
বুড়িয়ে যাচ্ছে জাপান, প্রবীণদের ভিড়ে কমছে শিশু জন্মহার!
দেশটিতে ১০০ বছর বা তার বেশি বয়সি মানুষের সংখ্যা প্রথমবারের মতো ১ লাখ ছাড়িয়েছে।
বুড়িয়ে যাচ্ছে জাপান, প্রবীণদের ভিড়ে কমছে শিশু জন্মহার!
আরও পড়ুন
রাজনৈতিক অঙ্গনে কাউকে বিশ্বাস করেন না ট্রাম্প
ইরানে পরমাণু বোমা ব্যবহার করবেন না ট্রাম্প
আইনজীবী দাবি করলেও বার পরীক্ষায় পাস করেননি ট্রাম্পের প্রেস সচিব 
রাশিয়ার তেল শোধনাগারে ইউক্রেনের হামলা লজ্জাজনক: ট্রাম্প