images

বিশেষ প্রতিবেদন

নরসিংদীর চরাঞ্চলে বাড়ছে চিনাবাদাম চাষ, লাভে হাসি কৃষকের মুখে

বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬ , ০৬:৩৯ পিএম

নরসিংদীর চরাঞ্চলে দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে চিনাবাদাম চাষ। স্বল্প খরচে অধিক ফলন, কম ঝুঁকি এবং বাজারে ভালো দামের কারণে কৃষকদের আগ্রহ বাড়ছে এই ফসলে। স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত বাদামের গুণগত মান ভালো হওয়ায় দেশের বিভিন্ন জেলায়ও এর চাহিদা বাড়ছে।

নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার মেঘনা নদীর তীরবর্তী বিস্তীর্ণ চরাঞ্চল এখন যেন সবুজের এক অপার সমারোহ। যতদূর চোখ যায়, শুধু চিনাবাদামের ক্ষেত— বাতাসে দুলছে সবুজ গাছ, আর সেই সঙ্গে দুলছে কৃষকদের স্বপ্নও।

এক সময় অনাবাদি পড়ে থাকা এসব চরাঞ্চল এখন হয়ে উঠেছে কৃষির সম্ভাবনাময় ক্ষেত্র। বিশেষ করে রায়পুরা উপজেলার নিলক্ষ্যা ইউনিয়নের হরিপুর পূর্বের চর এলাকায় দিন দিন বাড়ছে বাদামের আবাদ।

বিঘাপ্রতি মাত্র ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা খরচ করে কৃষকরা ৩৫ থেকে ৪০ হাজার টাকার উৎপাদনের আশা করছেন। অগ্রহায়ণ-পৌষ মাসে বীজ রোপণ করে বৈশাখ-জ্যৈষ্ঠ মাসে ফসল ঘরে তুলছেন তারা।

আরও পড়ুন
Web-Image---Copy

প্রত্যয়নপত্রে আটকে গেছে সেচ কার্যক্রম, তেল নিতে কৃষি অফিসে ভিড়

চরাঞ্চলের উর্বর বালুমাটিতে উৎপাদিত বাদামের স্বাদ ও মান ভালো হওয়ায় স্থানীয় বাজারেই পাইকাররা এসে কিনে নিচ্ছেন এসব পণ্য। পরে তা দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা হচ্ছে।

শুধু তাই নয়, বাদাম চাষ শেষে একই জমিতে আবার অন্য ফসল আবাদ করা সম্ভব হওয়ায় জমির সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত হচ্ছে। এতে কৃষকদের লাভের পরিমাণও উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ছে। তবে কৃষি অধিদপ্তরের পরামর্শ পেলে উৎপাদন আরও বৃদ্ধি পাবে বলে জানাচ্ছেন এখানকার কৃষকরা।

কৃষি বিভাগ বলছে, আধুনিক প্রযুক্তি, উন্নত বীজ এবং নিয়মিত কৃষি পরামর্শ পেলে এই অঞ্চলে চিনাবাদাম উৎপাদন আরও কয়েকগুণ বাড়ানো সম্ভব।

নদীভাঙনপ্রবণ চরাঞ্চলের এই চিনাবাদাম চাষ এখন নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিয়েছে। সঠিক পরিকল্পনা ও সরকারি সহায়তা পেলে এটি হতে পারে নরসিংদীর অর্থনীতির অন্যতম শক্তিশালী খাত।

আরটিভি/এমএইচজে