images

বিশেষ প্রতিবেদন

লাখ লাখ ডলারের ট্যাংক ধ্বংস করে দিচ্ছে মাত্র ৫শ’ ডলারের ড্রোন 

রোববার, ২৪ মে ২০২৬ , ০৩:৪৪ পিএম

Failed to load the video

লাখ লাখ ডলারের রাশিয়ান ট্যাংক। আর সেই ট্যাংকই ধ্বংস করে দিচ্ছে মাত্র ৫০০ ডলারের ছোট একটি ইউক্রেনীয় ড্রোন। আধুনিক যুদ্ধের চেহারা যে কত দ্রুত বদলে যাচ্ছে, ইউক্রেন যুদ্ধ যেন সেটিই দেখিয়ে দিচ্ছে পুরো বিশ্বকে। এখন যুদ্ধক্ষেত্রে সবচেয়ে ভয়ংকর অস্ত্র হয়ে উঠছে চালকবিহীন ড্রোন। আর সেই কারণেই বিশেষ ড্রোন প্রতিযোগিতার মাধ্যমে নিজেদের প্রস্তুত করছে ইউক্রেনের সৈন্যরা। সেখানে তারা শিখছেন কীভাবে আরও দ্রুত, নিখুঁত ও কার্যকরভাবে শত্রুকে লক্ষ্যবস্তু বানানো যায়। মূলত প্রযুক্তিনির্ভর নতুন এই যুদ্ধের জন্যই এভাবে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে তাদের।

ইউক্রেনের ৯৩তম স্বতন্ত্র যান্ত্রিক ব্রিগেডের সৈন্যরা এখন অংশ নিচ্ছেন “ওয়াইল্ড ড্রোনস” নামে বিশেষ প্রতিযোগিতায়। বাইরে থেকে এটি সাধারণ ড্রোন রেস মনে হলেও বাস্তবে যুদ্ধক্ষেত্রের প্রশিক্ষণ। আগে যেখানে যুদ্ধ হতো কয়েকশ মিটার এলাকার মধ্যে। কিন্তু এখন পুরো যুদ্ধক্ষেত্রই পরিণত হয়েছে “১৫ কিলোমিটার কিল জোনে”। অর্থাৎ এমন এক এলাকা, যেখানে মানুষের চেয়ে বেশি চালকবিহীন এই যান।

আরও পড়ুন
22

বিশ্বে কি আবার ফিরছে ‘জঙ্গলের আইন’!  

একজন ব্যাটালিয়ন কমান্ডার জানান, বর্তমানে শত্রুপক্ষের ধ্বংস হওয়া সরঞ্জাম ও নিহত সেনাদের প্রায় ৯৯ শতাংশের পেছনেই দায়ী ড্রোন। ভারী সাঁজোয়া যান এখন খুব কমই পাঠানো হয় যুদ্ধক্ষেত্রে। তার বদলে ব্যবহার করা হচ্ছে এফপিভি, বোমারু এবং নজরদারি ড্রোন। এগুলো আকাশ থেকেই শনাক্ত করছে শত্রুর অবস্থান, আবার মুহূর্তেই চালাচ্ছে হামলা। আর শুধু আকাশেই নয়, যুদ্ধক্ষেত্রে বাড়ছে চালকবিহীন স্থলযানের ব্যবহার। এসব যান কখনও রসদ পৌঁছে দিচ্ছে, কখনও আহত সেনাদের সরিয়ে নিচ্ছে নিরাপদ স্থানে। এতে সৈন্যদের ঝুঁকি অনেকটাই কমছে বলে মনে করছেন সামরিক কর্মকর্তারা।

ডেভড্রয়েড কোম্পানির গবেষণা ও উন্নয়ন পরিচালক ওলেগ ফেদোরিশিনের ভাষায়, একটি মেশিন হারানো মানুষের জীবন হারানোর চেয়ে অনেক কম ক্ষতিকর। আর সেই কারণেই দিন দিন যুদ্ধক্ষেত্রে বাড়ছে চালকবিহীন প্রযুক্তির ব্যবহার। ইউক্রেন যুদ্ধ যেন এখন পুরো বিশ্বকে দেখাচ্ছে নতুন বাস্তবতা, যেখানে কোটি ডলারের ট্যাংকের চেয়েও বেশি ভয়ংকর হয়ে উঠছে হাতে ধরা ছোট একটি ড্রোন।

আরটিভি/এআর