বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬ , ১০:৫৪ পিএম
Failed to load the video
এবার ডেটা প্রযুক্তিতে চীনের পথেই কি হাঁটছে ইউরোপ? প্রায় ২০ বছরেরও বেশি সময় ধরে অনলাইন দুনিয়ায় তথ্য খোঁজার ক্ষেত্রে একচ্ছত্র আধিপত্য ধরে রেখেছে মার্কিন সার্চ ইঞ্জিন গুগল। কিন্তু এবার সেই গুগলকেই নিজেদের দাপ্তরিক কম্পিউটার থেকে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইউরোপ। গুগলের বদলে নিজেদের ফরাসি সার্চ ইঞ্জিন কুয়ান্ট ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইউরোপীয় পার্লামেন্ট।
সংবাদ মাধ্যম রয়টার্স ও পলিটিকোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ডিজিটাল সার্বভৌমত্ব জোরদার এবং ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত তথ্যের গোপনীয়তা নিশ্চিত করতেই নেওয়া হয়েছে এই সিদ্ধান্ত। ৪ জুন থেকে ইউরোপীয় পার্লামেন্টের কম্পিউটারগুলোতে ডিফল্ট সার্চ ইঞ্জিন হিসেবে গুগলের জায়গা নেবে কুয়ান্ট। ঠিক যেন নিজস্ব প্রযুক্তিতে চীনের পথে হাঁটতে চাইছে ইউরোপ!
পার্লামেন্টের আইনপ্রণেতাদের কাছে পাঠানো এক ইমেইলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষা এবং ইউরোপের ডিজিটাল স্বাধীনতা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবেই আনা হচ্ছে এই পরিবর্তন।
কর্মকর্তারা জানান, কুয়ান্ট এমন একটি সার্চ ইঞ্জিন, যা ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত তথ্য জমা করে না বা তারা কী খুঁজছে, সেটিও নজরদারি করে না।
জানা গেছে, মাইক্রোসফট এজ এবং মজিলা ফায়ারফক্স ব্রাউজারের অ্যাড্রেস বারে কোনো কিছু খুঁজলে তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে কুয়ান্টের মাধ্যমে পরিচালিত হবে। তবে আইনপ্রণেতারা চাইলে গুগলসহ অন্য যেকোনো সার্চ ইঞ্জিন ব্যবহার করতে পারবেন কিংবা নিজেদের পছন্দ অনুযায়ী ডিফল্ট সেটিংস পরিবর্তন করে নিতে পারবেন।
তবে শুধু সার্চ ইঞ্জিন বদলেই থেমে থাকছে না ইউরোপ। ক্লাউড সেবা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং চিপ উৎপাদনেও নিজেদের সক্ষমতা বাড়াতে নতুন পরিকল্পনা নিয়েছে তারা। লক্ষ্য একটাই— মার্কিন প্রযুক্তি কোম্পানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে ইউরোপের নিজস্ব প্রযুক্তি খাতকে আরও শক্তিশালী করা।
ইউরোপীয় পার্লামেন্টের এক মুখপাত্র বলেছেন, ডিজিটাল প্রযুক্তির ভবিষ্যতের জন্য নিজেদের প্রস্তুত ও শক্ত অবস্থানে নেওয়ার পথে এটি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। কারণ ইউরোপের প্রয়োজনীয় সব সামর্থ্যই আছে। তাদের আছে মেধাবী মানুষ, আছে শক্তিশালী শিল্পভিত্তি, নিজস্ব অভ্যন্তরীণ বাজার; পাশাপাশি তাদের স্টার্টআপ ও স্কেল-আপ প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যেও রয়েছে বিশাল সম্ভাবনা।
বর্তমানে ইউরোপীয় পার্লামেন্টে ৭২০ জন আইনপ্রণেতাসহ কয়েক হাজার কর্মকর্তা ও কর্মচারী কাজ করেন। ফলে গুগলের বদলে কুয়ান্ট ব্যবহারের এই সিদ্ধান্তের প্রভাব পড়বে হাজার হাজার ব্যবহারকারীর ওপর। ফলে এটি হবে মার্কিন কোম্পানিগুলোর ওপর নির্ভরতা কমিয়ে চীনের মতো নিজেদের প্রযুক্তি ও ডেটার নিয়ন্ত্রণ আরও শক্তিশালী করার পথে ইউরোপের একটি বড় পদক্ষেপ।
আরটিভি/এআর