শনিবার, ২০ জুন ২০২৬ , ০১:৫৯ পিএম
Failed to load the video
একসময় তারা ছিলেন যেন একই মুদ্রার দুই পিঠ। ডোনাল্ড ট্রাম্প ও বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু একসঙ্গে দেখেছিলেন মধ্যপ্রাচ্যের মানচিত্র বদলে দেওয়ার স্বপ্ন। ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করার সময়ও তাদের বিশ্বাস ছিল, তেহরানের শাসনব্যবস্থা ভেঙে পড়বে এবং সেই বিজয়ের ঢেউ ইসরায়েলের রাজনীতিতেও এনে দেবে নতুন শক্তি। কিন্তু কয়েক মাসের রক্তক্ষয়ী সংঘাতের পর এখন যেন উল্টো হয়ে গেছে দৃশ্যপট।
যে যুদ্ধ নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎকে আরও শক্তিশালী করার কথা ছিল, সেটিই এখন তাঁর জন্য নতুন সংকটের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কারণ, যুদ্ধ থেকে বেরিয়ে আসার পথ খুঁজছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। অন্যদিকে ইসরায়েল মনে করছে, যুদ্ধের ঘোষিত লক্ষ্যগুলোর কোনোটিই অর্জিত হয়নি পুরোপুরি। বার্তাসংস্থা রয়টার্স এর প্রতিবেদনে প্রকাশ পেয়েছে এই তথ্য।
ইসরায়েলি কর্মকর্তারা অবশ্য প্রকাশ্যে খুব সতর্ক ভাষায় কথা বলছেন। কারণ, ট্রাম্পের সঙ্গে প্রকাশ্য বিরোধে জড়াতে তারা চান না। তবে আড়ালের আলোচনা একেবারেই ভিন্ন। কয়েকজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা মনে করছেন, ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের এই প্রাথমিক সমঝোতা ইসরায়েলের জন্য অত্যন্ত হতাশাজনক।
মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তানের তথ্য অনুযায়ী, এই সমঝোতায় লেবাননসহ সব ফ্রন্টে সামরিক অভিযান বন্ধের বিষয়টি ছিলো যুক্ত। আর এই জায়গাটিই সবচেয়ে বেশি উদ্বেগ তৈরি করেছে তেল আবিবে। কারণ, হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে অভিযান থামাতে ইসরায়েলের নেই কোনো আগ্রহ। বরং দক্ষিণ লেবাননে নিজেদের সামরিক উপস্থিতি ধরে রাখতে চায় দেশটি। এ নিয়েই ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর মধ্যে হয়েছে কয়েক দফা মতবিরোধ। এক পর্যায়ে বৈরুতে হামলা ঠেকাতে গিয়ে ট্রাম্প নাকি এক ক্ষুব্ধ ফোনালাপে নেতানিয়াহুকে ‘পুরোপুরি পাগল’ বলেছিলেন। যদিও পরে নেতানিয়াহু আবার লেবাননে হামলার নির্দেশ দেন। এর প্রতিক্রিয়ায় ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা পরিস্থিতিকে করে তোলে আরও উত্তপ্ত।
অবশেষে নেতানিয়াহু নিজেও স্বীকার করেছেন, তাঁর ও ট্রাম্পের মধ্যে সব সময় মতের মিল হয় না। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, অনেক বিষয়ে দুই নেতা একমত হলেও এমন সময় আসে, যখন মতপার্থক্য তৈরি হয়। আর তাঁর প্রথম দায়িত্ব হলো ইসরায়েলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
এরই মধ্যে আগামী অক্টোবরে অনুষ্ঠেয় জাতীয় নির্বাচন চলে এসেছে সামনে। জনমত জরিপগুলো নেতানিয়াহুর জন্য দিচ্ছে না সুখবর। আরও বড় বিষয় হলো, ইসরায়েলিদের একাংশের মধ্যেও আস্থা কমতে শুরু করেছে ট্রাম্পের প্রতি। একসময় ট্রাম্পের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ককে নিজের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে তুলে ধরতেন নেতানিয়াহু। কিন্তু আজ সেই সম্পর্কই যেন নতুন প্রশ্নের মুখে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, নেতানিয়াহুর সবচেয়ে বড় আশা এখন হয়তো একটাই। সেটি হলো, এই সমঝোতা ব্যর্থ হবে এবং কয়েক মাসের মধ্যে আবার পাল্টে যাবে পরিস্থিতি। কারণ, বর্তমান পরিস্থিতিতে ট্রাম্প ও তেহরানের কাছাকাছি চলে আসা ইসরায়েলের জন্য জন্ম দিয়েছে এক নতুন বাস্তবতার।
আরটিভি/এআর