ঢাকা শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩

একের পর এক শীর্ষ নেতাকে হারিয়েও যেভাবে টিকে রইল ইরান! 

হাওলাদার শামীম, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২০ জুন ২০২৬, ০১:৫৪ পিএম

যুদ্ধের শুরুতে অনেকেই ভেবেছিলেন, এবার হয়তো ইরানের গল্প শেষ। রাজধানী তেহরানের আকাশে একের পর এক বিস্ফোরণ। ধোঁয়ায় ঢেকে যাওয়া ভবন। জরুরি সাইরেনের শব্দ। আর এর মাঝেই আসতে থাকে একের পর এক খবর। যা শোকে স্তব্ধ করে দেয় ইরান সহ বিশ্বের অসংখ্য মানুষকে।

যুদ্ধে শুধু ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটিই লক্ষ্য ছিলো না। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের শুধু সামরিক স্থাপনাই নয়, দেশটির নেতৃত্বের কেন্দ্রেও আসে বড় আঘাত। নিশানায় ছিলেন ইরানের সবচেয়ে ক্ষমতাধর মানুষগুলো। সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি থেকে শুরু করে সামরিক প্রধান, গোয়েন্দামন্ত্রী, নিরাপত্তা উপদেষ্টা এক এক করে ঝরে পড়েছেন তেহরানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মুখগুলো। কিন্তু এত বড় ধাক্কার পরও ইরান চালিয়ে গেছে যুদ্ধ।

যুদ্ধের প্রথম দিনেই নিহত হন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। ১৯৮৯ সাল থেকে দেশের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করা খামেনি তেহরানে নিজ বাসভবনে এক বৈঠকের সময় শিকার হন বিমান হামলার। সেই হামলায় তাঁর পরিবারের কয়েকজন সদস্যও প্রাণ হারান। আহত হলেও বেঁচে যান তাঁর ছেলে মোজতবা খামেনি। পরে তিনিই দায়িত্ব নেন দেশটির নতুন সর্বোচ্চ নেতার।

আরও পড়ুন

এরপর আরেকটি বড় ধাক্কা আসে নিরাপত্তাপ্রধান আলী লারিজনির মৃত্যুতে। দীর্ঘদিন ধরেই ইরানের ক্ষমতার কেন্দ্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত এই নেতা মার্চে ইসরায়েলি হামলায় পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিহত হন। অনেক বিশ্লেষকের মতে, খামেনির পর তাঁর মৃত্যু ছিল ইরানের জন্য সবচেয়ে বড় ক্ষতি।

এদিকে যুদ্ধের প্রথম দিনেই প্রাণ হারান ইসলামি বিপ্লবী গার্ডস আইআরজিসির প্রধান মোহাম্মদ পাকপুর। যুদ্ধের মাত্র কয়েক মাস আগে তিনি পেয়েছিলেন এই দায়িত্ব। এছাড়া একই দিনে নিহত হন সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান আবদুর রহিম মুসাভি। যিনি নিয়োজিত ছিলেন আইআরজিসি ও নিয়মিত সেনাবাহিনীর মধ্যে সমন্বয়কারী হিসেবে। পূর্বসূরি মোহাম্মদ বাঘেরি নিহত হওয়ার পর এই পদে যোগ দিয়েছিলেন তিনি। এছাড়া প্রতিরক্ষামন্ত্রী আজিজ নাসিরজাদেহ, সামরিক কার্যালয়ের প্রধান মোহাম্মদ শিরাজি ও নিহত হন প্রথম দিনের হামলায়।

শুধু তাই নয় যুদ্ধে ইরান হারিয়েছে, সশস্ত্র বাহিনীর অন্যতম প্রধান ভরসা আলী শামখানিকে। তেহরানের তাজরিখ স্কয়ারে অনুষ্ঠিত হয় তার জানাজা। এছাড়া হামলায় প্রাণ হারান নৌপ্রধান আলিরেজা তাংসিরি, যাকে অভিহিত করা হয় হরমুজ প্রণালিতে মাইন স্থাপন ও তা অবরোধ করার মূল পরিকল্পনাকারী’ হিসেবে।

গোয়েন্দামন্ত্রী ইসমাইল খাতিব, আধা সামরিক বাহিনী ‘বাসিজ’–এর প্রধান গোলামরেজা সুলেইমানি এবং আইআরজিসির মুখপাত্র আলী মোহাম্মদ নাইনি সবাই প্রাণ হারান যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের বর্বরোচিত হামলায়। যেখানে মৃত্যুর ঠিক আগেও মোহাম্মদ নাইনি জানিয়েছিলেন, যুদ্ধ চললেও বন্ধ হয়নি ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন। এপ্রিলের শুরুতে নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ৫০ নিহত হয়েছেন জনেরও বেশি শীর্ষ ইরানি নেতা।

এত বড় ধাক্কার পরও ভেঙে পড়েনি মধ্যপ্রাচ্যের সিংহখ্যাত ইরান। বরং দ্রুত নতুন নেতৃত্ব গড়ে তুলে চালিয়ে যান যুদ্ধ। অনেকের প্রত্যাশা ছিল, এই হামলার মধ্য দিয়েই হয়তো পতন ঘটবে তেহরানের শাসনব্যবস্থার। কিন্তু বাস্তবে ঘটেছে ঠিক উল্টোটা। যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রকে ঘোল খাইয়ে সমঝোতা আদায় করেছে ইরান।

আরটিভি/এআর

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
বাংলাদেশ-সৌদি ‘ভাসমান হাসপাতাল’র সেবা পেয়েছেন ৬ লাখেরও বেশি রোগী
সৌদি আরবের সহযোগিতায় বাংলাদেশ সরকারের এই জনকল্যাণমূলক উদ্যোগের ফলে অবহেলিত গড়ইখালী ও আশপাশের অঞ্চলের দুস্থ মানুষের দীর্ঘদিনের স্বাস্থ্য বঞ্চনার অবসান হতে চলেছে।
বাংলাদেশ-সৌদি ‘ভাসমান হাসপাতাল’র সেবা পেয়েছেন ৬ লাখেরও বেশি রোগী
উলশী-যদুনাথপুর প্রকল্পের ৫০ বছর: স্বেচ্ছাশ্রমে গ্রামীণ উন্নয়নের ঐতিহাসিক দৃষ্টান্ত
দেশের গ্রামীণ উন্নয়ন ও কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধিতে জনসম্পৃক্ততার এক ঐতিহাসিক দৃষ্টান্ত উলশী-যদুনাথপুর খাল খনন প্রকল্পের ৫০ বছর পূর্ণ হচ্ছে আজ। ১৯৭৬ সালের এই দিনে যশোরের শার্শা উপজেলায় তৎকালীন সেনাপ্রধান মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান খনন কাজের উদ্বোধন করেন।
উলশী-যদুনাথপুর প্রকল্পের ৫০ বছর: স্বেচ্ছাশ্রমে গ্রামীণ উন্নয়নের ঐতিহাসিক দৃষ্টান্ত
শব্দদূষণের নতুন ৪ উৎস শনাক্ত
পরিবেশ অধিদপ্তর শব্দদূষণের নতুন চারটি উৎস শনাক্ত করেছে। এসব উৎস থেকে অতিরিক্ত বা অনাকাঙ্ক্ষিত শব্দ সৃষ্টি হলে, তা মানবস্বাস্থ্য ও পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।
শব্দদূষণের নতুন ৪ উৎস শনাক্ত
সাধুসঙ্গে নিজেকে ও অজানাকে জানছেন লালন ভক্তরা
‘মানুষ ভজলে সোনার মানুষ হবি’ আধ্যাত্মিক এই বাণীকে সামনে নিয়ে একতারা, দোতারা আর ঢোল বাশির সুরে প্রকম্পিত হয়ে উঠেছে লালন ফকিরের ভবের হাট। 
সাধুসঙ্গে নিজেকে ও অজানাকে জানছেন লালন ভক্তরা
নজর কাড়ছে ৪০ কেজি শস্যদানার দুর্গাপ্রতিমা
দূর থেকে মনে হচ্ছে যেন সোনালি চাদরে মোড়ানো দেবী দুর্গা। কিন্তু একি কাছে যেতেই পুরো ভিন্ন চিত্র। এ কোনো আবরণ নয় প্রতিমার পুরো শরীরজুড়ে রয়েছে ছোট ছোট শস্যদানা, তাও আবার সেটি নাকি মানুষের নয় পরিচিত পাখির খাবার হিসেবেই। যা আবার ফলে বিদেশের মাটিতে। ব্যতিক্রমী এই প্রতিমা তৈরি করে নজির গড়েছেন নাটোরের হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা। 
নজর কাড়ছে ৪০ কেজি শস্যদানার দুর্গাপ্রতিমা
আরও পড়ুন
হরমুজ প্রণালিতে ভারত-চীনসহ ৪ দেশের জাহাজ চলাচলে ছাড় দিল ইরান
ইরানকে ৯০টি অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র লঞ্চার দিতে রাজি রাশিয়া
হরমুজ পার হতে বাংলাদেশকে ইরানের নির্দেশনা মানতে হবে: রাষ্ট্রদূত
‘আমরা ট্রাম্পকে হত্যা করব’, তেহরানে বিশাল বিলবোর্ডে ইরানের হুমকি