একের পর এক শীর্ষ নেতাকে হারিয়েও যেভাবে টিকে রইল ইরান! 

হাওলাদার শামীম, আরটিভি নিউজ 

শনিবার, ২০ জুন ২০২৬ , ০১:৫৪ পিএম


যুদ্ধের শুরুতে অনেকেই ভেবেছিলেন, এবার হয়তো ইরানের গল্প শেষ। রাজধানী তেহরানের আকাশে একের পর এক বিস্ফোরণ। ধোঁয়ায় ঢেকে যাওয়া ভবন। জরুরি সাইরেনের শব্দ। আর এর মাঝেই আসতে থাকে একের পর এক খবর। যা শোকে স্তব্ধ করে দেয় ইরান সহ বিশ্বের অসংখ্য মানুষকে।

যুদ্ধে শুধু ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটিই লক্ষ্য ছিলো না। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের শুধু সামরিক স্থাপনাই নয়, দেশটির নেতৃত্বের কেন্দ্রেও আসে বড় আঘাত। নিশানায় ছিলেন ইরানের সবচেয়ে ক্ষমতাধর মানুষগুলো। সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি থেকে শুরু করে সামরিক প্রধান, গোয়েন্দামন্ত্রী, নিরাপত্তা উপদেষ্টা এক এক করে ঝরে পড়েছেন তেহরানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মুখগুলো। কিন্তু এত বড় ধাক্কার পরও ইরান চালিয়ে গেছে যুদ্ধ। 

যুদ্ধের প্রথম দিনেই নিহত হন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি।  ১৯৮৯ সাল থেকে দেশের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করা খামেনি তেহরানে নিজ বাসভবনে এক বৈঠকের সময় শিকার হন বিমান হামলার। সেই হামলায় তাঁর পরিবারের কয়েকজন সদস্যও প্রাণ হারান। আহত হলেও বেঁচে যান তাঁর ছেলে মোজতবা খামেনি। পরে তিনিই দায়িত্ব নেন দেশটির নতুন সর্বোচ্চ নেতার। 

আরও পড়ুন

এরপর আরেকটি বড় ধাক্কা আসে নিরাপত্তাপ্রধান আলী লারিজনির মৃত্যুতে। দীর্ঘদিন ধরেই ইরানের ক্ষমতার কেন্দ্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত এই নেতা মার্চে ইসরায়েলি হামলায় পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিহত হন। অনেক বিশ্লেষকের মতে, খামেনির পর তাঁর মৃত্যু ছিল ইরানের জন্য সবচেয়ে বড় ক্ষতি।

এদিকে যুদ্ধের প্রথম দিনেই প্রাণ হারান ইসলামি বিপ্লবী গার্ডস আইআরজিসির প্রধান মোহাম্মদ পাকপুর। যুদ্ধের মাত্র কয়েক মাস আগে তিনি পেয়েছিলেন এই দায়িত্ব। এছাড়া একই দিনে নিহত হন সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান আবদুর রহিম মুসাভি। যিনি নিয়োজিত ছিলেন আইআরজিসি ও নিয়মিত সেনাবাহিনীর মধ্যে সমন্বয়কারী হিসেবে। পূর্বসূরি মোহাম্মদ বাঘেরি নিহত হওয়ার পর এই পদে যোগ দিয়েছিলেন তিনি। এছাড়া প্রতিরক্ষামন্ত্রী আজিজ নাসিরজাদেহ, সামরিক কার্যালয়ের প্রধান মোহাম্মদ শিরাজি ও নিহত হন প্রথম দিনের হামলায়।
 
শুধু তাই নয় যুদ্ধে ইরান হারিয়েছে, সশস্ত্র বাহিনীর অন্যতম প্রধান ভরসা আলী শামখানিকে। তেহরানের তাজরিখ স্কয়ারে অনুষ্ঠিত হয় তার জানাজা। এছাড়া হামলায় প্রাণ হারান নৌপ্রধান আলিরেজা তাংসিরি, যাকে অভিহিত করা হয় হরমুজ প্রণালিতে মাইন স্থাপন ও তা অবরোধ করার মূল পরিকল্পনাকারী’ হিসেবে। 

গোয়েন্দামন্ত্রী ইসমাইল খাতিব, আধা সামরিক বাহিনী ‘বাসিজ’–এর প্রধান  গোলামরেজা সুলেইমানি এবং আইআরজিসির মুখপাত্র আলী মোহাম্মদ নাইনি সবাই প্রাণ হারান যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের বর্বরোচিত হামলায়। যেখানে মৃত্যুর ঠিক আগেও মোহাম্মদ নাইনি জানিয়েছিলেন, যুদ্ধ চললেও বন্ধ হয়নি ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন। এপ্রিলের শুরুতে নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ৫০ নিহত হয়েছেন জনেরও বেশি শীর্ষ ইরানি নেতা। 

এত বড় ধাক্কার পরও ভেঙে পড়েনি মধ্যপ্রাচ্যের সিংহখ্যাত ইরান। বরং দ্রুত নতুন নেতৃত্ব গড়ে তুলে চালিয়ে যান যুদ্ধ। অনেকের প্রত্যাশা ছিল, এই হামলার মধ্য দিয়েই হয়তো পতন ঘটবে তেহরানের শাসনব্যবস্থার। কিন্তু বাস্তবে ঘটেছে ঠিক উল্টোটা। যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রকে ঘোল খাইয়ে সমঝোতা আদায় করেছে ইরান। 

আরটিভি/এআর 

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission