বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬ , ১১:২৫ পিএম
Failed to load the video
কখনো কখনো একটি দেশের সংকট এতটাই গভীর হয়ে ওঠে, যখন মানুষের রাগ, ক্ষোভ আর হতাশা মিলেমিশে থামিয়ে দেয় পুরো একটি দেশকে। খালি হয়েছে দোকানপাট। জ্বালানি স্টেশনেও লম্বা লাইন। ওষুধের সংকটে উদ্বিগ্ন হয়ে ওঠে পরিবারগুলো। ঠিক এমনই এক অস্থির সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে দক্ষিণ আমেরিকার দেশ বলিভিয়া।
শ্রমিক ইউনিয়ন, আদিবাসী গোষ্ঠী ও কোকোচাষিরা রাজপথে নেমে বিভিন্ন শহরে চালিয়ে যাচ্ছেন মিছিল ও অবরোধ। বহু সড়কে দেয়া হয়েছে ব্যারিকেড। ছয় সপ্তাহ ধরে চলা এই অবরোধে, খাদ্য সংকট, জ্বালানি সংকট আর অচল অর্থনীতি। পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছেছে যে শেষ পর্যন্ত জরুরি অবস্থা জারি করে সেনাবাহিনী নামাতে বাধ্য হয়েছেন বলিভিয়ার প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো পাজ। সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান এর প্রতিবেদনে প্রকাশ পেয়েছে এই তথ্য।
এদিকে টেলিভিশনে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো পাজ বলেন, আগামী ৯০ দিনের জন্য সারা দেশে জরুরি অবস্থা কার্যকর থাকবে। এই সময় যেকোনো ধরনের বিক্ষোভ নিষিদ্ধ থাকবে ও দেশের বিভিন্ন স্থানে মোতায়েন করা হবে সামরিক বাহিনী।
তিনি আরও ইঙ্গিত দিয়েছেন, আইন ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে নেওয়া হবে কঠোর ব্যবস্থা। একই সঙ্গে তাঁর দাবি, এই পদক্ষেপ মানুষের স্বাভাবিক জীবন কেড়ে নেওয়ার জন্য নয়, বরং নেওয়া হয়েছে তা ফিরিয়ে আনার জন্য।
প্রেসিডেন্টের এই ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এল আল্টো শহরে সেনা ও সশস্ত্র পুলিশের টহল শুরু হয়। ভারী বুলডোজার দিয়ে রাস্তার অবরোধ সরানোর কাজও শুরু হয়েছে। এএফপির প্রতিবেদনে জানা যায়, শহরের বিভিন্ন এলাকায় সামরিক যান ও পুলিশের উপস্থিতি চোখে পড়েছে।
দীর্ঘদিনের অবরোধে ক্লান্ত হয়ে পড়া অনেক বাসিন্দা সেনাদের স্বাগতও জানিয়েছেন। কেউ কেউ দিয়েছেন হাততালি। রাজধানী লাপাজেও বিরাজ করছে উত্তেজনা। প্রেসিডেন্ট প্রাসাদের সামনে মোতায়েন করা হয়েছে সামরিক পুলিশ ও নৌবাহিনীর সদস্যদের। গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে অবস্থান নিয়েছে বিশেষ নিরাপত্তা ইউনিট।
গেলো দুই দশকের মধ্যে প্রথম অ-সমাজতান্ত্রিক সরকার হিসেবে ক্ষমতায় আসা রদ্রিগো পাজ দায়িত্ব নেওয়ার এক বছরেরও কম সময়ের মধ্যেই পড়েছেন বড় ধরনের রাজনৈতিক সংকটে। বিক্ষোভকারীরা চাইছেন, তিনি উদার অর্থনৈতিক সংস্কার থেকে সরে আসুন এবং পদত্যাগ করুন।
সরকার আলোচনার ইঙ্গিত দিলেও এখনো শান্ত হয়নি পরিস্থিতি। একটি বড় শ্রমিক ইউনিয়নের সঙ্গে সমঝোতা হলেও কয়েকটি আদিবাসী গোষ্ঠী ঘোষণা দিয়েছে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার। এখনো ৪০টিরও বেশি স্থানে রয়েছে অবরোধ। বলিভিয়ার পাহাড়ি শহরগুলোতে তাই এখনো ভাসছে অস্থিরতার ধোঁয়া।
আরটিভি/এআর