images

বিশেষ প্রতিবেদন

ইরানের পর এবার পরবর্তী টার্গেট ঠিক করলো ইসরায়েল! 

শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬ , ০৩:২০ পিএম

Failed to load the video

ইরানের সঙ্গে সংঘাত এখনো শেষ হয়নি পুরোপুরি। কিন্তু এর মধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যের দাবার বোর্ডে এবার নতুন প্রতিপক্ষ খুঁজছে বর্বর ইসরায়েল? আর এমনই ইঙ্গিত দিয়েছেন ইসরায়েলের এক প্রভাবশালী জাতীয়তাবাদী নেতা। তার দাবি, আগামী ১৫ বছরের মধ্যেই মিসরের সঙ্গে যুদ্ধে জড়াবে ইসরায়েল। শুধু তাই নয়, তুরস্ককেও তিনি উল্লেখ করেছেন ভবিষ্যতের বড় হুমকি হিসেবে। 

জেরুজালেমে অনুষ্ঠিত জিউইশ নিউজ সিন্ডিকেট ইন্টারন্যাশনাল পলিসি সামিটে এই ভবিষ্যদ্বাণী করেন হারুত সেন্টারের প্রধান নির্বাহী ও ইসরায়েলের জাতীয়তাবাদী শিবিরের পরিচিত মুখ আমিয়াদ কোহেন। তাঁর মতে, ইরান ও তথাকথিত ‘প্রতিরোধের অক্ষ’কে দুর্বল করার পর মধ্যপ্রাচ্যে তৈরি হবে নতুন বাস্তবতা। আর সেই বাস্তবতায় শিয়া শক্তির পরিবর্তে সুন্নি রাজনৈতিক শক্তিগুলোই হয়ে উঠবে ইসরায়েলের সবচেয়ে বড় কৌশলগত চ্যালেঞ্জ। সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট মনিটর এর প্রতিবেদনে প্রকাশ পেয়েছে এই তথ্য। 

কোহেনের দাবি, শেষ পর্যন্ত মুসলিম ব্রাদারহুড ফিরে আসবে মিসরের ক্ষমতায়। আর সেই পরিবর্তনই দুই দেশের মধ্যে তৈরি করতে পারে নতুন সংঘাতের পথ। এমনকি শুধু মিসর নয়, তুরস্ককেও তিনি উল্লেখ করেন ভবিষ্যতের বড় হুমকি হিসেবে। তাঁর মতে, আঙ্কারা ধীরে ধীরে আঞ্চলিক প্রভাব বাড়াচ্ছে এবং সেই উত্থানকে ইসরায়েলের গুরুত্বের সঙ্গে দেখা উচিত।

আরও পড়ুন
16

স্ট্রেস কমাতে পাহাড়ে ঝুলছেন তরুণেরা

সম্মেলনের আলোচনায় তিনি আরও দাবি করেন, মুসলিম ব্রাদারহুড শুধু মধ্যপ্রাচ্যেই নয়, যুক্তরাষ্ট্রেও নিজেদের প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছে। এমনকি নিউইয়র্কের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তন নিয়েও বিতর্কিত মন্তব্য করেন তিনি।

এর আগে একই ধরনের সতর্কবার্তা দিয়েছিলেন যুক্তরাষ্ট্রে গুপ্তচরবৃত্তির মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক ইসরায়েলি গোয়েন্দা সহযোগী জোনাথন পোলার্ডও। তাঁর মতে, ইরানের পর তুরস্ক ও মিসরই হতে পারে ইসরায়েলের পরবর্তী কৌশলগত উদ্বেগের কেন্দ্র।

তবে বাস্তবতা এখনো দেখাচ্ছে ভিন্ন চিত্র। ১৯৭৯ সালের শান্তিচুক্তির পর থেকে ইসরায়েল ও মিসরের মধ্যে বজায় রয়েছে নিরাপত্তা সহযোগিতা। অন্যদিকে তুরস্ক ও ইসরায়েলের সম্পর্ক নানা সময় উত্তেজনাপূর্ণ হলেও দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগ পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়নি। 

তারপরও জেরুজালেমের এই সম্মেলনে উঠে আসা বক্তব্যগুলো একটি বিষয় স্পষ্ট করেছে। ইসরায়েলের কিছু রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা বিশ্লেষক ইতিমধ্যেই ভবিষ্যতের হুমকির মানচিত্র নতুন করে আঁকতে শুরু করেছেন। যুদ্ধের ধোঁয়া এখনো পুরোপুরি সরেনি। কিন্তু সেই ধোঁয়ার আড়ালেই হয়তো তৈরি হচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যের পরবর্তী ভূরাজনৈতিক লড়াইয়ের ছক। আর সেই ছকে ইরানের জায়গায় নতুন নাম হিসেবে উঠে আসছে মিসর ও তুরস্কের নাম।

আরটিভি/এআর