images

বিশেষ প্রতিবেদন

ইসরায়েলিদের চোখে যুদ্ধে ‘জয়ী’ হয়েছে ইরান!

রোববার, ২৮ জুন ২০২৬ , ০২:৪৪ পিএম

Failed to load the video

যে যুদ্ধকে ইসরায়েলের জন্য ঐতিহাসিক সাফল্য হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু, সেই যুদ্ধ নিয়েই এখন প্রশ্ন তুলছেন তার নিজ দেশের মানুষ। বিস্ফোরণের শব্দ থেমে গেছে, কিন্তু পরাজয়ের অনুভূতি যেন এখনো ঘুরে বেড়াচ্ছে ইসরায়েলের রাজনীতিতে। নতুন এক জরিপ বলছে, অধিকাংশ ইসরায়েলির বিশ্বাস এই সংঘাতে শেষ পর্যন্ত জিতেছে ইরান।

হিব্রু ইউনিভার্সিটি ও আগাম ইনস্টিটিউটের যৌথ জরিপে অংশ নেওয়া ৯২ দশমিক ১ শতাংশ ইসরায়েলি মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হওয়া সাম্প্রতিক সমঝোতায় সবচেয়ে বেশি সুবিধা পেয়েছে তেহরান। শুধু তাই নয়, ৮২ দশমিক ৯ শতাংশের মতে, এই যুদ্ধ ইসরায়েলের দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তাকেও করে দিয়েছে দুর্বল। সংবাদমাধ্যম আল–জাজিরার প্রতিবেদনে প্রকাশ পেয়েছে এই তথ্য।

জরিপে আরও দেখা যায়, ৮৬ শতাংশ মানুষ পুরো যুদ্ধের ফলাফলকে দেখছেন নেতিবাচক হিসেবে। অর্থাৎ সামরিক অভিযান শেষ হলেও সাধারণ মানুষের মনে তৈরি হয়নি বিজয়ের অনুভূতি। 

আরও পড়ুন
22

ইরানের পর এবার পরবর্তী টার্গেট ঠিক করলো ইসরায়েল! 

আর এই অসন্তোষের সবচেয়ে বড় চাপ পড়ছে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ওপর। অংশগ্রহণকারীদের ৫৬ দশমিক ৪ শতাংশ মনে করেন, পুরো যুদ্ধ পরিচালনায় তিনি দুর্বল ছিলেন কিংবা ব্যর্থ হয়েছেন। আর ৭২ দশমিক ৫ শতাংশ ইসরায়েলি বিশ্বাস করেন না যে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে সাফল্যের যে দাবি নেতানিয়াহু করেছেন, তা বাস্তবতার সঙ্গে মেলে। রাজনৈতিক সমর্থনেও তার স্পষ্ট প্রভাব পড়েছে। মার্চ মাসে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নেতানিয়াহুর প্রতি সমর্থন ছিল ৪০ শতাংশের বেশি। জুনে সেটি নেমে এসেছে ৩০ শতাংশেরও নিচে। একই সময়ে তাঁর লিকুদ পার্টির জনপ্রিয়তাও কমছে বলে ইঙ্গিত মিলেছে জরিপে।

তবে ইসরায়েলের ভেতরে যুদ্ধ নিয়ে দেখা যাচ্ছে ভিন্ন এক মনোভাবও। প্রায় অর্ধেক মানুষ এখনো হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে নতুন করে বড় ধরনের সামরিক অভিযান চান। এমনকি এতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সম্পর্ক খারাপ হওয়ার ঝুঁকি থাকলেও তারা সেই অবস্থান থেকে সরে আসতে রাজি নন।

এদিকে সুইজারল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির লক্ষ্যে হয়েছে আলোচনা। দুই পক্ষই জানিয়েছে আগ্রগতির কথা। কিন্তু লেবাননে নতুন করে সংঘর্ষ শুরু হওয়ায় আবারও অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে শান্তি প্রক্রিয়া। ইরান স্পষ্ট করে জানিয়েছে, লেবাননে যুদ্ধবিরতি টিকে থাকলেই কেবল আলোচনায় অগ্রগতি সম্ভব। 

অন্যদিকে ওয়াশিংটন আগামী ৬০ দিনের মধ্যে একটি স্থায়ী চুক্তির ভিত্তি তৈরি করতে চায়। বিশ্লেষকদের মতে, ইরান ও লেবাননের সংকটকে আলাদা করে দেখার সুযোগ এখন আর নেই। কারণ যুদ্ধের প্রতিটি সিদ্ধান্ত এখন কূটনৈতিক আলোচনার ওপরও প্রভাব ফেলছে সরাসরি। একদিকে জনসমর্থন কমছে, অন্যদিকে যুদ্ধের ফল নিয়েও বাড়ছে প্রশ্ন। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কেও দেখা দিয়েছে টানাপোড়েন। সব মিলিয়ে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এখন হয়তো পার করছেন তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের সবচেয়ে কঠিন সময়। 

আরটিভি/এআর