images

বিশেষ প্রতিবেদন

শয়তানের সাগর! যেখানে ঢুকলে আর ফিরে আসে না কেউ!

বুধবার, ০১ জুলাই ২০২৬ , ০৮:২৩ পিএম

Failed to load the video

জাহাজ থেকে বিমান, সবকিছুই নাকি গায়েব হয়ে যায় সমুদ্রের একটি অঞ্চলে। যে পথে প্রবেশ করলে আর ফিরে আসে না অনেক জাহাজ। উধাও হয়ে যায় উড়ন্ত বিমানও। না এটা বারমুডা ট্রায়ঙ্গেল না। কেউ বলেন, সেখানে বাস করে অশুভ শক্তি। কেউ আবার দাবি করেন, সমুদ্রের গভীরে লুকিয়ে আছে রহস্যময় ড্রাগন। আর তাই এই এলাকাকে অনেকে ডাকেন ‘ডেভিল সি’ নামে। কিন্তু সত্যিই কি এমন কিছু রয়েছে? নাকি কয়েক দশক ধরে ছড়িয়ে পড়া ভয় ও গুজবই তৈরি করেছে এই রহস্য?

বারমুডা ট্রায়াঙ্গলের নাম অনেকেই শুনেছেন। তবে জাপানের দক্ষিণে প্রশান্ত মহাসাগরের বুকে রয়েছে আরেক রহস্যময় অঞ্চল। টোকিও থেকে খুব বেশি দূরে নয়, মিয়াকে দ্বীপের আশপাশের বিস্তীর্ণ জলরাশিকে ঘিরেই জন্ম নিয়েছে এই রহস্যের গল্প। অনেকের কাছে এটি এশিয়ার বারমুডা ট্রায়াঙ্গল হিসেবেও পরিচিত।

পঞ্চাশের দশক থেকে একের পর এক জাহাজ নিখোঁজ হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়ে। এমনকি প্রচার হতে থাকে, কয়েকশ সৈন্যসহ একাধিক জাহাজের আর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়ও নাকি বহু বিমান, যুদ্ধজাহাজ ও নৌযান এই অঞ্চলে হারিয়ে গিয়েছিল। এসব ঘটনার পর মানুষের মনে ভয় আরও গভীর হতে থাকে।

আরও পড়ুন
22

ইরানের পর এবার পরবর্তী টার্গেট ঠিক করলো ইসরায়েল! 

রহস্য উদঘাটনের জন্য জাপান থেকে কায়ো মারু নামের একটি গবেষণা জাহাজ পাঠানো হয়েছিল বলেও বহু বছর ধরে প্রচলিত রয়েছে। পরে গুজব ছড়িয়ে পড়ে, সেই জাহাজে থাকা বিজ্ঞানীরাও আর ফিরে আসেননি। এমনকি ৩১ জন বিজ্ঞানী নিখোঁজ হওয়ার গল্পও মানুষের মুখে মুখে ছড়িয়ে পড়ে। আর সেখান থেকেই অনেকে বিশ্বাস করতে শুরু করেন, সমুদ্রের গভীরে হয়তো কোনো রহস্যময় শক্তি বা ড্রাগনের অস্তিত্ব রয়েছে।

শুধু তাই নয়, কয়েকশ বছর পুরোনো নানা কিংবদন্তিও জড়িয়ে যায় এই সমুদ্রকে ঘিরে। কেউ দাবি করেন, কুবলাই খাঁর বিশাল নৌবহর এখানেই হারিয়ে গিয়েছিল। আবার কেউ রহস্যময় এক নারীর কথাও বলে থাকেন, যাকে নাকি সেই এলাকায় জাহাজ চালাতে দেখা গিয়েছিল। সময়ের সঙ্গে এসব গল্প আরও রহস্যময় রূপ নিতে থাকে।

তবে সব গল্পের পেছনে যে অতিপ্রাকৃত কোনো শক্তি রয়েছে, তা মানতে রাজি নন গবেষকরা। লেখক ল্যারি কুশে পুরোনো নথিপত্র ঘেঁটে দেখতে পান, প্রচলিত অনেক তথ্যেরই নির্ভরযোগ্য প্রমাণ নেই। তাঁর মতে, বিশাল যুদ্ধজাহাজ নয়, বরং বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ছোট মাছ ধরার নৌকা দুর্ঘটনার শিকার হয়েছিল।

বিজ্ঞানীদের একাংশের মতে, এই অঞ্চলে সক্রিয় আগ্নেয়গিরি রয়েছে। ভূমিকম্পও হয় প্রায়ই। সমুদ্রের তলদেশে রয়েছে গভীর খাদ। প্রচুর গরম লাভা ও কার্বন ডাই-অক্সাইডও পাওয়া গেছে সেখানে। ফলে হঠাৎ পরিবেশ বদলে যাওয়া বা দুর্ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা অস্বাভাবিক নয়। আর পঞ্চাশের দশকে রেডিও যোগাযোগ ব্যবস্থা তেমন শক্তিশালী না হওয়ায় অনেক ঘটনাই পরে রহস্যে পরিণত হয়।

কেউ চৌম্বকীয় শক্তির কথা বলেছেন। কেউ আবার ইউএফও বা ভিনগ্রহের প্রাণীর গল্পও ছড়িয়েছেন। কিন্তু এসব দাবির পক্ষে আজও শক্ত কোনো বৈজ্ঞানিক প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

আরটিভি/এআর