মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬ , ০৭:২৯ পিএম
Failed to load the video
এখন যে মরু শহরটি দেখছেন বছরের পর বছর বৃষ্টি না হলেও এখন আর মানুষের পানির কল শুকিয়ে থাকে না। কারণ এখানে পানির যোগান দেয় কুয়াশা। বাতাসে ভেসে আসা সাদা কুয়াশাই কয়েক ঘণ্টার মধ্যে পরিণত হয় শত শত লিটার বিশুদ্ধ পানিতে। শুনতে অবিশ্বাস্য লাগলেও, এই প্রযুক্তিই বদলে দিয়েছে পেরুর রাজধানী লিমার হাজারো মানুষের জীবন।
প্রশান্ত মহাসাগরের উপকূলে অবস্থিত মরুর দেশ পেরু। আর তার রাজধানী লিমা বিশ্বের অন্যতম শুষ্ক শহর। এক কোটিরও বেশি মানুষের এই শহরে একসময় বিশুদ্ধ পানি ছিল অমাবস্যার চাঁদের মত । অনেক পরিবারকে নির্ভর করতে হতো দিনের পর দিন ওয়াটার ট্রাকের ওপর । আবার অনেক নারীকে শুধু এক কলসি পানি আনতেই প্রতিদিন তিন থেকে সাড়ে তিন ঘণ্টা হেঁটে যেতে হতো। পানির প্রতিটি ফোঁটা ছিল তাদের কাছে সোনার চেয়েও মূল্যবান।
এই কঠিন বাস্তবতার মাঝেই আসে এক অসাধারণ পরিবর্তন। প্রকৃতিকে শত্রু নয়, বন্ধু বানানোর সিদ্ধান্ত নেন একদল মানুষ। তারা বুঝতে পারেন, বৃষ্টি না হলেও এই মরু শহরে নিয়মিত কুয়াশা আসে। আর সেই কুয়াশাকেই যদি ধরা যায়, তাহলে পানির সংকট অনেকটাই দূর করা সম্ভব।
সেখান থেকেই জন্ম নেয় ফগ ক্যাচার। নামের মধ্যেই লুকিয়ে আছে এর কাজ। ফগ অর্থ কুয়াশা, আর ক্যাচার অর্থ ধরে রাখা। বিশেষ ধরনের সূক্ষ্ম প্লাস্টিকের জাল পাহাড়ের ঢালে বাতাসের মুখে স্থাপন করা হয়। কুয়াশা সেই জালে আঘাত করলে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র জলকণা আটকে যায়। ধীরে ধীরে সেই কণাগুলো বড় ফোঁটায় পরিণত হয়। তারপর পাইপ বেয়ে নেমে জমা হয় বড় ট্যাঙ্কে। অর্থাৎ কোনো মোটর নেই, বিদ্যুৎ নেই, রাসায়নিক নেই। শুধু বাতাস ও কুয়াশাই তৈরি করছে বিশুদ্ধ পানি।
এই প্রযুক্তির পেছনে সবচেয়ে বড় অবদান পেরুর প্রকৌশলী আবেল ক্রুসের। ছোটবেলা থেকেই পানির কষ্ট দেখেছিলেন তিনি। সেই অভিজ্ঞতাই একসময় তাকে সমাধানের পথ খুঁজতে বাধ্য করে। এক কুয়াশাচ্ছন্ন সন্ধ্যায় নিজের জমির প্লাস্টিকের জালে জমে থাকা জলকণা দেখে মাথায় আসে নতুন ভাবনা। পরে সেই ভাবনাই বদলে দেয় হাজারো মানুষের জীবন।
আজ পেরুর বিভিন্ন অঞ্চলে দুই হাজারেরও বেশি ফগ ক্যাচার কাজ করছে। একটি জাল থেকেই প্রতিদিন ২০০ থেকে ৪০০ লিটার পর্যন্ত বিশুদ্ধ পানি পাওয়া যায়। সেই পানি শুধু মানুষের তৃষ্ণাই মেটাচ্ছে না, চাষাবাদেও তৈরি করছে নতুন সম্ভাবনা । মরুর পাহাড়ে এখন দেখা যাচ্ছে ফলের বাগান, সবজির ক্ষেত ও সবুজের ছোঁয়া । একসময় যে কুয়াশাকে কেউ গুরুত্ব দিত না, আজ সেটিই হয়ে উঠেছে মরুভূমির সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ।
আরটিভি/এআর