ঢাকা মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭ আশ্বিন ১৪৩৩

শয়তানের সাগর! যেখানে ঢুকলে আর ফিরে আসে না কেউ!

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ০১ জুলাই ২০২৬, ০৮:২৩ পিএম

জাহাজ থেকে বিমান, সবকিছুই নাকি গায়েব হয়ে যায় সমুদ্রের একটি অঞ্চলে। যে পথে প্রবেশ করলে আর ফিরে আসে না অনেক জাহাজ। উধাও হয়ে যায় উড়ন্ত বিমানও। না এটা বারমুডা ট্রায়ঙ্গেল না। কেউ বলেন, সেখানে বাস করে অশুভ শক্তি। কেউ আবার দাবি করেন, সমুদ্রের গভীরে লুকিয়ে আছে রহস্যময় ড্রাগন। আর তাই এই এলাকাকে অনেকে ডাকেন ‘ডেভিল সি’ নামে। কিন্তু সত্যিই কি এমন কিছু রয়েছে? নাকি কয়েক দশক ধরে ছড়িয়ে পড়া ভয় ও গুজবই তৈরি করেছে এই রহস্য?

বারমুডা ট্রায়াঙ্গলের নাম অনেকেই শুনেছেন। তবে জাপানের দক্ষিণে প্রশান্ত মহাসাগরের বুকে রয়েছে আরেক রহস্যময় অঞ্চল। টোকিও থেকে খুব বেশি দূরে নয়, মিয়াকে দ্বীপের আশপাশের বিস্তীর্ণ জলরাশিকে ঘিরেই জন্ম নিয়েছে এই রহস্যের গল্প। অনেকের কাছে এটি এশিয়ার বারমুডা ট্রায়াঙ্গল হিসেবেও পরিচিত।

পঞ্চাশের দশক থেকে একের পর এক জাহাজ নিখোঁজ হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়ে। এমনকি প্রচার হতে থাকে, কয়েকশ সৈন্যসহ একাধিক জাহাজের আর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়ও নাকি বহু বিমান, যুদ্ধজাহাজ ও নৌযান এই অঞ্চলে হারিয়ে গিয়েছিল। এসব ঘটনার পর মানুষের মনে ভয় আরও গভীর হতে থাকে।

আরও পড়ুন

রহস্য উদঘাটনের জন্য জাপান থেকে কায়ো মারু নামের একটি গবেষণা জাহাজ পাঠানো হয়েছিল বলেও বহু বছর ধরে প্রচলিত রয়েছে। পরে গুজব ছড়িয়ে পড়ে, সেই জাহাজে থাকা বিজ্ঞানীরাও আর ফিরে আসেননি। এমনকি ৩১ জন বিজ্ঞানী নিখোঁজ হওয়ার গল্পও মানুষের মুখে মুখে ছড়িয়ে পড়ে। আর সেখান থেকেই অনেকে বিশ্বাস করতে শুরু করেন, সমুদ্রের গভীরে হয়তো কোনো রহস্যময় শক্তি বা ড্রাগনের অস্তিত্ব রয়েছে।

শুধু তাই নয়, কয়েকশ বছর পুরোনো নানা কিংবদন্তিও জড়িয়ে যায় এই সমুদ্রকে ঘিরে। কেউ দাবি করেন, কুবলাই খাঁর বিশাল নৌবহর এখানেই হারিয়ে গিয়েছিল। আবার কেউ রহস্যময় এক নারীর কথাও বলে থাকেন, যাকে নাকি সেই এলাকায় জাহাজ চালাতে দেখা গিয়েছিল। সময়ের সঙ্গে এসব গল্প আরও রহস্যময় রূপ নিতে থাকে।

তবে সব গল্পের পেছনে যে অতিপ্রাকৃত কোনো শক্তি রয়েছে, তা মানতে রাজি নন গবেষকরা। লেখক ল্যারি কুশে পুরোনো নথিপত্র ঘেঁটে দেখতে পান, প্রচলিত অনেক তথ্যেরই নির্ভরযোগ্য প্রমাণ নেই। তাঁর মতে, বিশাল যুদ্ধজাহাজ নয়, বরং বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ছোট মাছ ধরার নৌকা দুর্ঘটনার শিকার হয়েছিল।

বিজ্ঞানীদের একাংশের মতে, এই অঞ্চলে সক্রিয় আগ্নেয়গিরি রয়েছে। ভূমিকম্পও হয় প্রায়ই। সমুদ্রের তলদেশে রয়েছে গভীর খাদ। প্রচুর গরম লাভা ও কার্বন ডাই-অক্সাইডও পাওয়া গেছে সেখানে। ফলে হঠাৎ পরিবেশ বদলে যাওয়া বা দুর্ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা অস্বাভাবিক নয়। আর পঞ্চাশের দশকে রেডিও যোগাযোগ ব্যবস্থা তেমন শক্তিশালী না হওয়ায় অনেক ঘটনাই পরে রহস্যে পরিণত হয়।

কেউ চৌম্বকীয় শক্তির কথা বলেছেন। কেউ আবার ইউএফও বা ভিনগ্রহের প্রাণীর গল্পও ছড়িয়েছেন। কিন্তু এসব দাবির পক্ষে আজও শক্ত কোনো বৈজ্ঞানিক প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

আরটিভি/এআর

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
বুড়িয়ে যাচ্ছে জাপান, প্রবীণদের ভিড়ে কমছে শিশু জন্মহার!
দেশটিতে ১০০ বছর বা তার বেশি বয়সি মানুষের সংখ্যা প্রথমবারের মতো ১ লাখ ছাড়িয়েছে।
বুড়িয়ে যাচ্ছে জাপান, প্রবীণদের ভিড়ে কমছে শিশু জন্মহার!
আলো আর সুরের মায়াজালে জীবন্ত হয়ে উঠল প্রাচীন সমাধি
একটি পাহাড়ি টিলা, যেখানে ভেসে উঠে নানা নকশা, ছুটে চলা হরিণের অবয়ব আর রঙ্গিন আলোর খেলা। আর তা দেখেই অবাক দর্শকরা, অনেকেই আবার ব্যস্ত হয়ে পড়লেন ছবি তুলতে।
আলো আর সুরের মায়াজালে জীবন্ত হয়ে উঠল প্রাচীন সমাধি
যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির দামে রেকর্ড; স্টেশনের ডিসপ্লেতেই জায়গা হচ্ছে না সংখ্যার! 
ডিজেলের দাম এতটাই বেড়েছে যে, পাম্পের ডিজিটাল ডিসপ্লেতেই আর বাড়তি দাম দেখানোর জায়গা নেই কোনো! ইরান যুদ্ধ ও হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহে চাপ তৈরি হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রেও হু হু করে বাড়ছে জ্বালানির দাম।
যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির দামে রেকর্ড; স্টেশনের ডিসপ্লেতেই জায়গা হচ্ছে না সংখ্যার! 
তেল নয়, এবার মদিনার মাটির নিচে মিলল মূল্যবান খনিজ
তেলের দেশ হিসেবেই বিশ্বজুড়ে পরিচিত সৌদি আরব। কিন্তু এবার সেই সৌদির মাটির নিচে মিলেছে আরেক বিশাল সম্পদ। আর জায়গাটিও বেশ পরিচিত—পবিত্র দিনা অঞ্চল। সেখানে প্রায় ১১০ মিলিয়ন টন আকরিক সম্পদের সন্ধান পাওয়ার কথা জানিয়েছে দেশটি। যার মধ্যে রয়েছে মূল্যবান বিরল মৃত্তিকা খনিজ, সঙ্গে ইউরেনিয়ামের আশাব্যঞ্জক উপস্থিতি। সৌদি জ্বালানিমন্ত্রী প্রিন্স আবদুল আজিজ বিন সালমান জানিয়েছেন, মদিনা অঞ্চলের জাবাল সাইদ প্রকল্পে অনুসন্ধান ও ভূতাত্ত্বিক গবেষণায় এই খনিজ সম্পদের সন্ধান মিলেছে। ভিয়েনায় আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার সাধারণ সম্মেলনে তিনি জানান, এখানে উচ্চ ঘনত্বের বিরল মৃত্তিকা খনিজের পাশাপাশি রয়েছে আশাব্যঞ্জক মাত্রায় ইউরেনিয়াম। নামটা ‘বিরল মৃত্তিকা’ হলেও আধুনিক বিশ্বে এসব খনিজের গুরুত্ব অনেক। বৈদ্যুতিক গাড়ি, স্মার্টফোন, শক্তিশালী চুম্বক, বায়ু বিদ্যুৎ থেকে প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি—বিভিন্ন ক্ষেত্রেই প্রয়োজন হয় এসব উপাদানের। আর ইউরেনিয়াম ব্যবহৃত হয় পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের জ্বালানি হিসেবে। জাবাল সাইদে ডিসপ্রোসিয়াম ও টারবিয়ামের মতো প্রায় ৫ লাখ ৫২ হাজার টন ভারী বিরল মৃত্তিকা খনিজ রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পাশাপাশি নিওডিমিয়াম ও প্রেসিওডিমিয়ামের মতো হালকা বিরল মৃত্তিকা খনিজের পরিমাণ প্রায় ৩ লাখ ৫৫ হাজার টন। একই এলাকায় প্রায় ৩১ হাজার টন ইউরেনিয়ামের মজুত থাকার কথাও উঠে এসেছে বিশ্লেষণে। এই আবিষ্কার সামনে এলো এমন সময়ে, যখন তেলের বাইরেও অর্থনীতির নতুন ক্ষেত্র তৈরিতে খনিজ সম্পদের দিকে নজর বাড়াচ্ছে সৌদি আরব। দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ত খনি কোম্পানি মা'আদেন গুরুত্বপূর্ণ খনিজ উত্তোলন ও প্রক্রিয়াকরণে বাড়াচ্ছে আন্তর্জাতিক অংশীদারত্ব। এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতাও এগিয়েছে। সৌদি ও মার্কিন জ্বালানিমন্ত্রীর মধ্যে হওয়া চুক্তি দীর্ঘমেয়াদি পারমাণবিক সহযোগিতার ভিত্তি তৈরি করেছে বলে জানিয়েছে মার্কিন জ্বালানি দপ্তর। তেল এতদিন সৌদি আরবের সম্পদের সবচেয়ে বড় পরিচয়। এবার মদিনার জাবাল সাইদের মাটির নিচে পাওয়া বিরল খনিজ ও ইউরেনিয়ামের সম্ভাবনা সেই পরিচয়ে যোগ করতে পারে নতুন এক অধ্যায়।  আরটিভি/ এসকেডি  
তেল নয়, এবার মদিনার মাটির নিচে মিলল মূল্যবান খনিজ
প্রায় ২শ’ বছর পরও দাঁড়িয়ে জমিদারদের মসজিদ-পুকুরঘাট
ভাঙা দেয়াল, খসে পড়া পলেস্তারা আর সময়ের ক্ষয়ে জীর্ণ হয়ে যাওয়া ভবন। দেখে এখন হয়তো বোঝার উপায় নেই, একসময় এখানেই ছিল জমিদারদের প্রভাব আর জৌলুশ। সেই সময় পেরিয়েছে বহু আগেই। তবে প্রাসাদের ধ্বংসাবশেষ, পুরোনো মসজিদ, বাঁধানো পুকুরঘাট আর পারিবারিক কবরস্থান এখনো ধরে রেখেছে সেই ইতিহাসের কিছু চিহ্ন। চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলা সদর থেকে প্রায় ৫ কিলোমিটার দূরের রূপসা গ্রাম। এখানেই রয়েছে ঐতিহ্যবাহী রূপসা জমিদারবাড়ি। মূল প্রাসাদের অনেক অংশ এখন আর অক্ষত নেই। তবে টিকে থাকা বিভিন্ন স্থাপনা দেখতে এখনো এখানে আসেন দর্শনার্থীরা। জমিদারবাড়ির ইতিহাস নিয়েও রয়েছে আগ্রহ। ফরিদগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনের তথ্যে মোহাম্মদ গাজী ও তাঁর উত্তরসূরি আহমেদ গাজী চৌধুরীর নাম পাওয়া যায়। তবে স্থানীয় ইতিহাসভিত্তিক বিভিন্ন সূত্রে প্রতিষ্ঠার ইতিহাস ও নাম নিয়ে কিছুটা ভিন্ন তথ্যও রয়েছে। এখানকার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা পুরোনো মসজিদ। স্থানীয় সংবাদসূত্রে এটি ‘মসজিদে নূর’ নামে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সূত্রের দাবি, মসজিদটি প্রায় দুই শতাব্দীর পুরোনো এবং ১২৮৪ বঙ্গাব্দে জমিদার মোহাম্মদ গাজী চৌধুরী এটি নির্মাণ করেন।  মসজিদের পাশেই রয়েছে জমিদার পরিবারের কবরস্থান। পুরোনো কবর ও ফলকে এখনো পাওয়া যায় পরিবারের কয়েক প্রজন্মের স্মৃতি। কাছেই রয়েছে বাঁধানো পুকুরঘাট, যা জমিদারি আমলের জীবনযাত্রার আরেকটি চিহ্ন। সময়ের সঙ্গে রূপসা জমিদারবাড়ির অনেক স্থাপনাই ক্ষয়ে যাচ্ছে। কোথাও দেয়াল ভেঙেছে, কোথাও হারিয়ে যাচ্ছে পুরোনো কাঠামোর চিহ্ন। ফলে ঐতিহাসিক এই স্থাপনা সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তাও সামনে আসছে। জমিদার নেই, নেই সেই সময়ের জৌলুশও। পড়ে আছে শুধু কিছু ভবন, মসজিদ, পুকুরঘাট আর কবরস্থান। সময়ের সঙ্গে এগুলোও হারিয়ে গেলে হারিয়ে যাবে রূপসার ইতিহাসের দৃশ্যমান একটি অধ্যায়।  আরটিভি/ এসিকেডি  
প্রায় ২শ’ বছর পরও দাঁড়িয়ে জমিদারদের মসজিদ-পুকুরঘাট
আরও পড়ুন
সাগরে লঘুচাপের শঙ্কা, টানা বৃষ্টি থাকবে কতদিন
ঘূর্ণিঝড়ের নাম ‘অর্ণব’ রেখেছে বাংলাদেশ, আঘাত হানবে কবে?
ফিজিতে প্রতি ৫০ জন গর্ভবতী নারীর একজন এইচআইভিতে আক্রান্ত, জরুরি অবস্থা জারি 
‘সন্দেহের কারাগারে’ ১৪ বছর এনামুলের অপেক্ষায় মা