বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই ২০২৬ , ১০:৫৫ পিএম
Failed to load the video
তরুণরা কি দেশ চালাতে পারবে? কিছু দেশের রাজনীতিতে এখনো মনে করা হয়, রাষ্ট্র চালাতে হলে চুল পাকা লাগবে, বয়স ভারী হতে হবে, অভিজ্ঞতার ফাইলে মোটা পিএইচডি ডিগ্রি থাকতে হবে যেন তরুণ মানেই আবেগী, অনভিজ্ঞ, আর ক্ষমতার জন্য প্রস্তুত নয়। কিন্তু পৃথিবীর সব দেশ এই পুরোনো খাতায় আটকে নেই। কিছু দেশ সেই সেকেলে ধারণাকে পাশ কাটিয়ে রাষ্ট্রের চাবি তুলে দিয়েছে তরুণদের হাতে। বয়সে কম, কিন্তু দায়িত্বে বিশাল। কেউ র্যাপার থেকে রাজনীতির কেন্দ্রে, কেউ অর্থনীতিবিদ থেকে প্রধানমন্ত্রীর আসনে, কেউ আবার সংকটের ভেতর দাঁড়িয়ে ধরেছেন রাষ্ট্রের হাল ।
বিশ্বের বড় শক্তিগুলোর দিকে তাকালে ছবিটা একটু আলাদা। যুক্তরাজ্যের রাজা ও যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া ও চীনের শীর্ষ নেতারা তুলনামূলকভাবে প্রবীণ। তাদের বয়স সত্তরের ঘরে। অভিজ্ঞতার দীর্ঘ ছায়া সেখানে স্পষ্ট। কিন্তু একই সময়ে বিশ্বের অন্য প্রান্তে দেখা যাচ্ছে ভিন্ন দৃশ্য। তরুণ নেতারা পুরোনো রাজনীতির দেয়ালে নতুন রং লাগানোর চেষ্টা করছেন। কেউ অর্থনীতি নিয়ে নতুন ভাবনা আনছেন। কেউ রাষ্ট্রকে সংকট থেকে টেনে তুলতে চাইছেন। কেউ আবার বিতর্ক ও প্রত্যাশার মাঝখানে দাঁড়িয়ে আছেন।
এই তালিকায় আলোচনায় এসেছেন নেপালের বালেন্দ্র শাহ। তিনি একসঙ্গে রাজনীতিবিদ, স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়ার ও র্যাপার হিসেবে পরিচিত। তরুণদের ভাষা, শহরের ছন্দ ও রাজনীতির কঠিন বাস্তবতা—সব মিলিয়ে তাঁর উত্থান অনেকের নজর কেড়েছে। ৩৫ বছর বয়সী এই নেতা বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম তরুণ রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে আলোচিত।
আইসল্যান্ডের ক্রিস্টরুন ফ্রস্টাডোত্তিরও তরুণ নেতৃত্বের আরেকটি উদাহরণ। রাজনীতি ও অর্থনীতিতে তার অভিজ্ঞতা তাকে দ্রুত সামনে নিয়ে আসে। ৩৭ বছর বয়সে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়া তাঁর জন্য যেমন বড় অর্জন, তেমনি দেশের জন্যও নতুন অধ্যায়ের ইঙ্গিত।
পশ্চিম আফ্রিকার বুরকিনা ফাসোতে ইব্রাহিম ত্রাউরের উত্থান এসেছে এক অস্থির সময়ের ভেতর দিয়ে। সেনা পটভূমি থেকে উঠে এসে তিনি মাত্র ৩৪ বছর বয়সে অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট হন। তার নেতৃত্বের সঙ্গে জড়িয়ে আছে নিরাপত্তা সংকট, রাজনৈতিক চাপ ও ভবিষ্যৎ নিয়ে বড় প্রশ্ন।
ইকুয়েডরের ড্যানিয়েল নোবোয়ার গল্পও আলাদা। মাত্র ৩৫ বছর বয়সে তিনি দেশটির প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। এতে তিনি ইকুয়েডরের ইতিহাসে সবচেয়ে কম বয়সী নির্বাচিত প্রেসিডেন্টের রেকর্ড গড়েন। তরুণ বয়সে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ দায়িত্ব নেওয়া তাঁর জন্য এক বড় টার্নিং পয়েন্ট।
মন্টেনিগ্রোর মিলোজকো স্পাজিচ অর্থ ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অভিজ্ঞতা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর আসনে বসেন। ছোট পাহাড়ি দেশটির ভবিষ্যৎ নিয়ে তার নেতৃত্ব এখন আন্তর্জাতিক পর্যায়েও নজরে। স্যান ম্যারিনোর অ্যালিস মিনাও তরুণ নেতৃত্বের এই ধারায় গুরুত্বপূর্ণ নাম। ক্যাপ্টেন রিজেন্ট হিসেবে তাঁর দায়িত্ব ছোট রাষ্ট্রের রাজনৈতিক ঐতিহ্যের সঙ্গে যুক্ত।
ইতিহাসে আরও কম বয়সে রাষ্ট্রপ্রধান হওয়ার নজির আছে। হাইতির জঁ-ক্লোদ দুভালিয়ে মাত্র ১৯ বছর বয়সে ক্ষমতায় বসেন। যুক্তরাষ্ট্রে থিওডোর রুজভেল্ট ৪২ বছর বয়সে রাষ্ট্রপ্রধান হন। যুক্তরাজ্যে উইলিয়াম পিট দ্য ইয়ংগার মাত্র ২৪ বছর বয়সে প্রধানমন্ত্রী হন।
আরটিভি/এআর