images

বিশেষ প্রতিবেদন

স্ত্রীকে খুন করে ছবি পাঠালেন প্রেমিকার কাছে!

সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬ , ০৯:৪৫ পিএম

Failed to load the video

এখন যে ব্যক্তিকে দেখছেন, প্রথম দেখায় হয়তো মনে হবে খুবই শান্ত-ভদ্র মানুষ। কিন্তু জেনে অবাক হবেন, তার ভালোবাসা এতটাই গভীর যে, তিনি নিজের স্ত্রীকে হত্যা করে সেই মরদেহের ছবি পাঠিয়েছেন ভারতে থাকা প্রেমিকার কাছে। শুধু তাই নয়, ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে পুলিশকে শুনিয়েছিলেন সম্পূর্ণ ভিন্ন গল্প। কিন্তু তদন্ত যত এগিয়েছে, ততই বেরিয়ে এসেছে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। প্রায় নয় মাস পর সেই হত্যাকাণ্ডের অভিযোগেই গ্রেপ্তার হয়েছেন ভারতীয় প্রযুক্তিকর্মী অবিনাশ নার্নে।

এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যের বেলভিউ শহরে গত বছরের অক্টোবরে স্ত্রী রাজিথা সাব্বিনেনিকে শ্বাসরোধ করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে ৩০ বছর বয়সী সফটওয়্যার প্রকৌশলী অবিনাশ নার্নের বিরুদ্ধে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অবিনাশ দাবি করেছিলেন, তিনি কেনাকাটা করতে বাইরে গিয়েছিলেন। প্রায় ৪০ মিনিট পর ফিরে এসে দেখেন তার স্ত্রী বাথরুমে আটকে আছেন। কিন্তু পুলিশ দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে রাজিথার মরদেহ উদ্ধার করে। পরে তদন্তে সিসিটিভি ও অন্যান্য তথ্য বিশ্লেষণ করে পুলিশ জানতে পারে, ঘটনার সময় বাসায় অন্য কেউ প্রবেশ করেনি। আর ময়নাতদন্তে নিশ্চিত হয়, শ্বাসরোধেই মৃত্যু হয়েছে রাজিথার।

আরও পড়ুন
17

চীনের এক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষাতেই দুশ্চিন্তায় যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা! 

তদন্তে পুলিশ জানতে পারে, ভারতে থাকা এক নারীর সঙ্গে বহু বছর ধরে গোপন সম্পর্কে ছিলেন অবিনাশ। সেই সম্পর্ক চলমান রেখেই ২০২৫ সালের জুনে রাজিথাকে বিয়ে করেন তিনি। এমনকি প্রেমিকাও সেই বিয়েতে উপস্থিত ছিলেন। তদন্তকারীদের দাবি, হত্যার দিন প্রেমিকার সঙ্গে একাধিকবার কথা বলেন অবিনাশ। শুধু তাই নয়, স্ত্রীকে খুন করে ছবিও তিনি পাঠিয়েছিলেন তার প্রেমিকার কাছে।

এদিকে তদন্তে রাজিথার মোবাইল থেকেও গুরুত্বপূর্ণ কিছু বার্তা উদ্ধার করা হয়। সেখানে তিনি অভিযোগ করেছিলেন, তার স্বামী তাকে অস্বাভাবিক তিতা পানীয় বানিয়ে খাওয়াতেন। এমনকি মৃত্যুর দিনও তিনি লিখেছিলেন, তাকে কাশির সিরাপের মতো স্মুদি খাওয়ানো হয়েছে।

অন্যদিকে সবশেষ তথ্য অনুযায়ী, অবিনাশ নার্নের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত হত্যার অভিযোগ প্রমাণিত হলে তার যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হতে পারে। বর্তমানে তিনি ৫০ লাখ মার্কিন ডলারের জামিন অযোগ্য শর্তে পুলিশি হেফাজতে রয়েছেন।

আরটিভি/এআর