বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬ , ১০:৪৫ পিএম
Failed to load the video
প্রায় ৩০ বছর আগের একটি ঘটনা। একটি পোশাকের দোকানের চেঞ্জিং রুম। যেখানে ঘটে যায় ভয়ংকর এক ঘটনা। আর সেই ঘটনাকে ঘিরেই যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে শুরু হয়েছিল অন্যতম আলোচিত এক আইনি লড়াই। বহুবার অভিযোগ অস্বীকারও করেছেন তিনি। গিয়েছেন আপিল আদালতে, এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টেও। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আর পারেননি এড়াতে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অবশেষে যৌন নিপীড়ন ও মানহানির দায়ে কলাম লেখক ই. জিন ক্যারলকে ক্ষতিপূরণ হিসেবে পরিশোধ করেছেন ৫৬ লাখ ২০ হাজার ডলারের বেশি অর্থ।
এই অর্থের মধ্যে রয়েছে আদালতের নির্ধারণ করা ৫০ লাখ ডলার ক্ষতিপূরণ এবং গেলো তিন বছরে জমা হওয়া সুদ। ক্যারলের আইনজীবীরা আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছেন এই অর্থ পাওয়ার বিষয়টি। ফোর্বস সাময়িকীর প্রতিবেদনে প্রকাশ পেয়েছে এই তথ্য।
ঘটনার সূত্রপাত ১৯৯০-এর দশকের মাঝামাঝি সময়ে। ই. জিন ক্যারল অভিযোগ করেন, নিউইয়র্কের একটি বিলাসবহুল ডিপার্টমেন্ট স্টোরের পোশাক বদলানোর কক্ষে ডোনাল্ড ট্রাম্প তাকে যৌন নিপীড়ন করেছিলেন। দীর্ঘদিন পর ২০১৯ সালে তিনি প্রকাশ্যে আনেন বিষয়টি। তবে ট্রাম্প শুরু থেকেই এ অভিযোগকে সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে দাবি করে আসছেন।
এরপর ২০২২ সালে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে একটি পোস্টে ক্যারলকে নিয়ে মন্তব্য করেন ট্রাম্প। ক্যারলের অভিযোগ, সেই পোস্ট তার মানহানি করেছে। পরে দুটি বিষয় নিয়েই শুরু হয় আইনি লড়াই। ২০২৩ সালে নিউইয়র্কের একটি জুরি সর্বসম্মতিক্রমে রায় দেয় ক্যারলের পক্ষে। আদালত ট্রাম্পকে যৌন নিপীড়ন ও মানহানির ঘটনায় দায়ী সাব্যস্ত করে ৫০ লাখ ডলার ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেন। তবে সেই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করতে থাকেন ট্রাম্প। এমনকি মামলাটি পুনর্বিবেচনার জন্য সুপ্রিম কোর্টেও আবেদন করেন তিনি।
কিন্তু গেলো মাসে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্পের আবেদন গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানায়। এর মধ্য দিয়েই কার্যত পুরোপুরি পরিষ্কার হয়ে যায় ক্ষতিপূরণের অর্থ পরিশোধের পথ। পরে আদালতের নির্দেশে অবশেষে সেই অর্থ ক্যারলের হাতে পৌঁছেছে।
বর্তমানে ই. জিন ক্যারলের বয়স ৮২ বছর। ক্ষতিপূরণের অর্থ পাওয়ার পর তার আইনজীবীরা বলেন, জুরির দেওয়া রায় অনুযায়ী তিনি তার প্রাপ্য অর্থ পেয়েছেন। অন্যদিকে ট্রাম্পের আইনজীবীরা এখনো এই মামলাকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করছেন। তবে এখানেই শেষ নয়। ২০২৪ সালে আরেকটি মানহানির মামলায় ক্যারলকে প্রায় ৮ কোটি ৪০ লাখ ডলার ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল জুরি বোর্ড। সেই রায়ের বিরুদ্ধেও আপিল করেছিলেন ট্রাম্প। কিন্তু ফেডারেল আদালত সেই আপিলও দিয়েছে খারিজ করে।
আরটিভি/এআর