ঢাকা সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩

ন্যাটো সম্মেলনে এরদোয়ানের চমক; বিশ্বনেতাদের দিলেন ‘ব্যতিক্রমী উপহার’!

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ১৫ জুলাই ২০২৬, ০৯:৫৯ পিএম

একটি আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা সম্মেলন। একই মঞ্চে বিশ্বের প্রভাবশালী রাষ্ট্রপ্রধানরা। বিদায়বেলায় সবার হাতে তুলে দেওয়া হলো একটি লাল রঙের বাক্স। অনেকেই ভেবেছিলেন, হয়তো থাকবে কোনো স্মারক, কলম বা ঐতিহ্যবাহী উপহার। কিন্তু বাক্স খুলতেই থমকে যান সবাই। ভেতরে রাখা ছিল একটি সচল ম্যাগনাম রিভলবার। আর তার পাশেই ছয়টি তাজা গুলি। এই উপহার পেয়ে রীতিমতো ধাঁধায় পড়ে যান তারা।

ঘটনাটি ঘটেছে তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারায় অনুষ্ঠিত ন্যাটোর সর্বশেষ শীর্ষ সম্মেলনে। আয়োজক দেশ হিসেবে প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান অংশ নেওয়া বিশ্বনেতাদের প্রত্যেককে উপহার দেন একটি করে রিভলবার। অস্ত্রগুলোর গায়ে খোদাই করা ছিল সংশ্লিষ্ট নেতার নিজের নাম। আর সঙ্গে দেওয়া হয়েছিল একটি বিশেষ নোট, যেখানে উল্লেখ ছিল, এই অস্ত্রের ক্ষেত্রে রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ আইন প্রযোজ্য হবে না। সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান এর প্রতিবেদনে প্রকাশ পেয়েছে এই তথ্য।

প্রথম এ বিষয়ে মুখ খোলেন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার। সম্মেলন শেষে দেশে ফেরার পথে তিনি জানান, শুধু তিনিই নন, অন্য অনেক নেতাও একই ধরনের উপহার পেয়েছেন। বিষয়টি শুনে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমেও শুরু হয়েছে আলোচনা।

হাঙ্গেরির প্রধানমন্ত্রী পিটার মাজিয়ার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের নাম খোদাই করা রিভলবারের ছবিও প্রকাশ করেন। অন্যদিকে বেলজিয়ামের প্রধানমন্ত্রী বার্ট ডি ওয়েভার দেশে ফিরে বুঝতে পারেন, উপহারটি সত্যিই একটি কার্যকর আগ্নেয়াস্ত্র। কোনো ঝুঁকি না নিয়ে তিনি সেটি সরাসরি বিমানবন্দর পুলিশের কাছে জমা দেন, যাতে নিরাপদে সংরক্ষণ করা যায়।

আরও পড়ুন

ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেন ও ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও কস্তাও পান একই উপহার। পরে ভন ডার লেনের কার্যালয় জানায়, অস্ত্রটি অকেজো করে একটি সামরিক জাদুঘরে সংরক্ষণ করা হবে। এদিকে পোল্যান্ডের প্রেসিডেন্টের নিরাপত্তা দলও নেয় বাড়তি সতর্কতা। কারণ, ২০২২ সালে দেশটির পুলিশপ্রধান উপহার পাওয়া একটি ট্যাংকবিধ্বংসী অস্ত্র দুর্ঘটনাবশত বিস্ফোরণ ঘটিয়ে বড় ধরনের বিব্রতকর পরিস্থিতির জন্ম দিয়েছিলেন। সেই স্মৃতি এখনও অনেকের মনে তাজা।

অন্যদিকে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার, জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎস ও নেদারল্যান্ডসের প্রধানমন্ত্রী রব জেটেনের রিভলবার এখনো তুরস্কেই রেখে দেওয়া হয়েছে। কারণ, সচল আগ্নেয়াস্ত্র আন্তর্জাতিকভাবে পরিবহন করা কঠোর আইনি প্রক্রিয়ার মধ্যে পড়ে। কানাডার প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'যা আশা করেছিলাম তা নয়'

তবে এরদোয়ান কেন এমন ব্যতিক্রমী উপহার বেছে নিয়েছেন, সে বিষয়ে তুরস্ক দেয়নি আনুষ্ঠানিক কোনো ব্যাখ্যা। ফলে এটি ছিল নিছক স্মারক, নাকি প্রতীকী কোনো বার্তা তা নিয়েই এখন চলছে নানা আলোচনা। একদিকে কেউ এটিকে তুরস্কের অস্ত্রশিল্পের প্রচারণা হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ বলছেন, ন্যাটোর মতো সামরিক জোটের সম্মেলনে এর চেয়ে বেশি প্রতীকী উপহার হয়তো আর হতে পারে না।

আরটিভি/এআর

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
উলশী-যদুনাথপুর প্রকল্পের ৫০ বছর: স্বেচ্ছাশ্রমে গ্রামীণ উন্নয়নের ঐতিহাসিক দৃষ্টান্ত
দেশের গ্রামীণ উন্নয়ন ও কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধিতে জনসম্পৃক্ততার এক ঐতিহাসিক দৃষ্টান্ত উলশী-যদুনাথপুর খাল খনন প্রকল্পের ৫০ বছর পূর্ণ হচ্ছে আজ। ১৯৭৬ সালের এই দিনে যশোরের শার্শা উপজেলায় তৎকালীন সেনাপ্রধান মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান খনন কাজের উদ্বোধন করেন।
উলশী-যদুনাথপুর প্রকল্পের ৫০ বছর: স্বেচ্ছাশ্রমে গ্রামীণ উন্নয়নের ঐতিহাসিক দৃষ্টান্ত
শব্দদূষণের নতুন ৪ উৎস শনাক্ত
পরিবেশ অধিদপ্তর শব্দদূষণের নতুন চারটি উৎস শনাক্ত করেছে। এসব উৎস থেকে অতিরিক্ত বা অনাকাঙ্ক্ষিত শব্দ সৃষ্টি হলে, তা মানবস্বাস্থ্য ও পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।
শব্দদূষণের নতুন ৪ উৎস শনাক্ত
সাধুসঙ্গে নিজেকে ও অজানাকে জানছেন লালন ভক্তরা
‘মানুষ ভজলে সোনার মানুষ হবি’ আধ্যাত্মিক এই বাণীকে সামনে নিয়ে একতারা, দোতারা আর ঢোল বাশির সুরে প্রকম্পিত হয়ে উঠেছে লালন ফকিরের ভবের হাট। 
সাধুসঙ্গে নিজেকে ও অজানাকে জানছেন লালন ভক্তরা
নজর কাড়ছে ৪০ কেজি শস্যদানার দুর্গাপ্রতিমা
দূর থেকে মনে হচ্ছে যেন সোনালি চাদরে মোড়ানো দেবী দুর্গা। কিন্তু একি কাছে যেতেই পুরো ভিন্ন চিত্র। এ কোনো আবরণ নয় প্রতিমার পুরো শরীরজুড়ে রয়েছে ছোট ছোট শস্যদানা, তাও আবার সেটি নাকি মানুষের নয় পরিচিত পাখির খাবার হিসেবেই। যা আবার ফলে বিদেশের মাটিতে। ব্যতিক্রমী এই প্রতিমা তৈরি করে নজির গড়েছেন নাটোরের হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা। 
নজর কাড়ছে ৪০ কেজি শস্যদানার দুর্গাপ্রতিমা
পূজায় নতুন জামা নয়, বাবাকে খুঁজছে এই শিশুরা!
বাবা, এক বটবৃক্ষের নাম। সন্তানের সবরকম ভাল থাকার উৎস, সেটিই যেন আবারও প্রমাণিত এই বাচ্চাদের কণ্ঠে। চারদিকে যখন বিরাজ করছে পূজার আমেজ তখন এই কোমলমতি শিশুদের চোখে পানি, আর কণ্ঠে আক্ষেপ। এ বছর যেন উৎসবের দিনগুলোতে নতুন জামার চেয়েও বড় অভাব হয়ে দাঁড়িয়েছে তাদের বাবা। তাই আনন্দের সময়ও যেন থামছেই না তাদের কান্না।
পূজায় নতুন জামা নয়, বাবাকে খুঁজছে এই শিশুরা!
আরও পড়ুন
তারেক রহমানের সঙ্গে এরদোয়ানের বৈঠক, সম্পর্ক আরও জোরদারের প্রত্যয়
নেতানিয়াহুর নির্বাচনি বিলবোর্ডে খামেনি ও এরদোয়ানের পাশে মামদানির ছবি, নেপথ্যে কী
রাশিয়ার কারণে আমি রাতে ঘুমাতে পারি না: ন্যাটো প্রধান
ভেনেজুয়েলায় ট্রাম্প কাণ্ডে ক্ষুব্ধ এরদোয়ান, দিলেন কড়া হুঁশিয়ারি!