ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩

ন্যাটো সম্মেলনে এরদোয়ানের চমক; বিশ্বনেতাদের দিলেন ‘ব্যতিক্রমী উপহার’!

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ১৫ জুলাই ২০২৬, ০৯:৫৯ পিএম

একটি আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা সম্মেলন। একই মঞ্চে বিশ্বের প্রভাবশালী রাষ্ট্রপ্রধানরা। বিদায়বেলায় সবার হাতে তুলে দেওয়া হলো একটি লাল রঙের বাক্স। অনেকেই ভেবেছিলেন, হয়তো থাকবে কোনো স্মারক, কলম বা ঐতিহ্যবাহী উপহার। কিন্তু বাক্স খুলতেই থমকে যান সবাই। ভেতরে রাখা ছিল একটি সচল ম্যাগনাম রিভলবার। আর তার পাশেই ছয়টি তাজা গুলি। এই উপহার পেয়ে রীতিমতো ধাঁধায় পড়ে যান তারা।

ঘটনাটি ঘটেছে তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারায় অনুষ্ঠিত ন্যাটোর সর্বশেষ শীর্ষ সম্মেলনে। আয়োজক দেশ হিসেবে প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান অংশ নেওয়া বিশ্বনেতাদের প্রত্যেককে উপহার দেন একটি করে রিভলবার। অস্ত্রগুলোর গায়ে খোদাই করা ছিল সংশ্লিষ্ট নেতার নিজের নাম। আর সঙ্গে দেওয়া হয়েছিল একটি বিশেষ নোট, যেখানে উল্লেখ ছিল, এই অস্ত্রের ক্ষেত্রে রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ আইন প্রযোজ্য হবে না। সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান এর প্রতিবেদনে প্রকাশ পেয়েছে এই তথ্য।

প্রথম এ বিষয়ে মুখ খোলেন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার। সম্মেলন শেষে দেশে ফেরার পথে তিনি জানান, শুধু তিনিই নন, অন্য অনেক নেতাও একই ধরনের উপহার পেয়েছেন। বিষয়টি শুনে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমেও শুরু হয়েছে আলোচনা।

হাঙ্গেরির প্রধানমন্ত্রী পিটার মাজিয়ার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের নাম খোদাই করা রিভলবারের ছবিও প্রকাশ করেন। অন্যদিকে বেলজিয়ামের প্রধানমন্ত্রী বার্ট ডি ওয়েভার দেশে ফিরে বুঝতে পারেন, উপহারটি সত্যিই একটি কার্যকর আগ্নেয়াস্ত্র। কোনো ঝুঁকি না নিয়ে তিনি সেটি সরাসরি বিমানবন্দর পুলিশের কাছে জমা দেন, যাতে নিরাপদে সংরক্ষণ করা যায়।

আরও পড়ুন

ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেন ও ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও কস্তাও পান একই উপহার। পরে ভন ডার লেনের কার্যালয় জানায়, অস্ত্রটি অকেজো করে একটি সামরিক জাদুঘরে সংরক্ষণ করা হবে। এদিকে পোল্যান্ডের প্রেসিডেন্টের নিরাপত্তা দলও নেয় বাড়তি সতর্কতা। কারণ, ২০২২ সালে দেশটির পুলিশপ্রধান উপহার পাওয়া একটি ট্যাংকবিধ্বংসী অস্ত্র দুর্ঘটনাবশত বিস্ফোরণ ঘটিয়ে বড় ধরনের বিব্রতকর পরিস্থিতির জন্ম দিয়েছিলেন। সেই স্মৃতি এখনও অনেকের মনে তাজা।

অন্যদিকে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার, জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎস ও নেদারল্যান্ডসের প্রধানমন্ত্রী রব জেটেনের রিভলবার এখনো তুরস্কেই রেখে দেওয়া হয়েছে। কারণ, সচল আগ্নেয়াস্ত্র আন্তর্জাতিকভাবে পরিবহন করা কঠোর আইনি প্রক্রিয়ার মধ্যে পড়ে। কানাডার প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'যা আশা করেছিলাম তা নয়'

তবে এরদোয়ান কেন এমন ব্যতিক্রমী উপহার বেছে নিয়েছেন, সে বিষয়ে তুরস্ক দেয়নি আনুষ্ঠানিক কোনো ব্যাখ্যা। ফলে এটি ছিল নিছক স্মারক, নাকি প্রতীকী কোনো বার্তা তা নিয়েই এখন চলছে নানা আলোচনা। একদিকে কেউ এটিকে তুরস্কের অস্ত্রশিল্পের প্রচারণা হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ বলছেন, ন্যাটোর মতো সামরিক জোটের সম্মেলনে এর চেয়ে বেশি প্রতীকী উপহার হয়তো আর হতে পারে না।

আরটিভি/এআর

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
স্কুলমাঠে শিশুদের খেলার বদলে সাঁতার কাটছে হাঁস
ভিডিওর এই শিশুরা সবাই প্রাথমিকের শিক্ষার্থী। যাদের এখন সহপাঠীদের সাথে ছুটোছুটি করার কথা বিদ্যালয়ের মাঠে। অথচ পানি জমে থাকায় তারা পারছে না খেলতে, কেউ আবার যেতে পারে না টয়লেটেও। আবার পানি পেরিয়ে ক্লাসে যেতে গিয়ে ভিজে যায় কারও পোশাক। বই-খাতায় লেগে যায় কাদা। অভিযোগের যেন শেষ নেই কোমলমতি এই শিশুদের। 
স্কুলমাঠে শিশুদের খেলার বদলে সাঁতার কাটছে হাঁস
সৌদি রক্ষায় নামছে ফরাসি সেনারা!
হরমুজ সংকটে সৌদি আরবের তেল রপ্তানির গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প হয়ে উঠেছিল লোহিত সাগরের ইয়ানবু বন্দর। কিন্তু সেই পথও এখন রয়েছে হামলার ঝুঁকিতে। হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ এই তেলবন্দর রক্ষায় এবার সৌদি আরবে সেনা পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছে ফ্রান্স। শুধু সেনা নয়, সঙ্গে যাচ্ছে রাডার ও প্রতিরক্ষাব্যবস্থাও।  বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) রাতে টেলিভিশনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই ঘোষণা দিয়েছেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁ। সংবাদমাধ্যম রয়টার্স এর প্রতিবেদনে প্রকাশ পেয়েছে এই তথ্য।  মাখোঁ জানান, ইয়ানবু রক্ষায় সৌদি আরবের সঙ্গে একটি চুক্তি চূড়ান্ত করেছে ফ্রান্স। সেই চুক্তির আওতায় সেখানে পাঠানো হবে ফরাসি সেনাসদস্য, রাডার ও প্রতিরক্ষাব্যবস্থা। তবে মাখোঁ একটি বিষয় স্পষ্ট করেছেন। ফরাসি সেনাদের পাঠানো হচ্ছে ইয়ানবু রক্ষার জন্য, চলমান সংঘাতে সরাসরি অংশ নেওয়ার জন্য নয়। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে সৌদি আরবের একটি বন্দর রক্ষায়  কেন সেনা পাঠাতে হচ্ছে ফ্রান্সকে? এর পেছনে বড় কারণ হরমুজ প্রণালির চলমান সংকট। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে হরমুজ দিয়ে জ্বালানি পরিবহন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ার পর বিকল্প পথ হিসেবে ইয়ানবুর গুরুত্ব অনেক বেড়ে যায়। সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চল থেকে ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইনের মাধ্যমে তেল নিয়ে যাওয়া হয় লোহিত সাগরের এই বন্দরে। সেখান থেকে হরমুজ এড়িয়ে সরাসরি তেল পাঠানো সম্ভব আন্তর্জাতিক বাজারে। কিন্তু সম্প্রতি সেই ব্যবস্থাও খেয়েছে বড় ধাক্কা। ইয়েমেনের হুতিরা সৌদি আরবের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুর পাশাপাশি ইয়ানবুতে আরামকোর স্থাপনায় হামলার দাবি করেছে। সৌদি কর্তৃপক্ষও ইয়ানবুসহ বিভিন্ন এলাকার দিকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার কথা জানিয়েছে। এর আগে ড্রোন হামলায় সৌদি আরবের ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইনের তিনটি পাম্পিং স্টেশন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। এতে ইয়ানবু দিয়ে তেল রপ্তানিও বন্ধ হয়ে যায়। পরে পাইপলাইনটি আবার চালু করা হয়েছে সীমিত পরিসরে।  ফলে ইয়ানবুর নিরাপত্তা এখন শুধু সৌদি আরবের বিষয় নয়। বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার ক্ষেত্রেও বন্দরটির গুরুত্ব বেড়েছে বন্দরটির। আর ফ্রান্সও অনুভব করছে জ্বালানি সংকটের চাপ। মাখোঁ বলেন, আগামী শীতের জন্য ফ্রান্সে পর্যাপ্ত তেল ও গ্যাসের মজুত রয়েছে। নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে কাজ করছে তাঁর সরকার। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ডিজেল রপ্তানি নিষিদ্ধ করার কথা বিবেচনা করছে। এমন খবর সত্য হলে তার ফল বিশ্ব ও মার্কিন অর্থনীতির জন্য বিপর্যয়কর হতে পারে বলেও সতর্ক করেছেন তিনি। যদিও হোয়াইট হাউস অস্বীকার করেছে এমন কোনো পরিকল্পনার কথা। আরটিভি/এআর 
সৌদি রক্ষায় নামছে ফরাসি সেনারা!
শতবর্ষী এই মুসাফিরখানায় আজও মিলে বিনামূল্যে আশ্রয় ও খাবার
আধুনিকতার ছোঁয়া লাগার আগে বরেন্দ্রভূমির মেঠোপথগুলো কেমন ছিল? সন্ধ্যা নামলেই চারপাশের খাঁ-খাঁ নীরবতা, বন্যপ্রাণীর ভয় আর ডাকাতের উপদ্রব— এমন এক অনিশ্চিত সময়ে ক্লান্ত পথিকের একমাত্র ভরসা হয়ে দাঁড়িয়েছিল একটি অনন্য মানবিক উদ্যোগ। প্রায় ১২ যুগ বা ১১৮ বছর ধরে নওগাঁর পোরশার ঐতিহাসিক ‘মুসাফিরখানা’ সেই মানবতার ঐতিহ্যকে পরম যত্নে টিকিয়ে রেখেছে। নিজ সম্পত্তির উপার্জনে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে আশ্রয় ও খাবারের এমন দৃষ্টান্ত আধুনিক সমাজেও এক বিরল মানবসেবার বার্তা দেয়।
শতবর্ষী এই মুসাফিরখানায় আজও মিলে বিনামূল্যে আশ্রয় ও খাবার
বুড়িয়ে যাচ্ছে জাপান, প্রবীণদের ভিড়ে কমছে শিশু জন্মহার!
দেশটিতে ১০০ বছর বা তার বেশি বয়সি মানুষের সংখ্যা প্রথমবারের মতো ১ লাখ ছাড়িয়েছে।
বুড়িয়ে যাচ্ছে জাপান, প্রবীণদের ভিড়ে কমছে শিশু জন্মহার!
আলো আর সুরের মায়াজালে জীবন্ত হয়ে উঠল প্রাচীন সমাধি
একটি পাহাড়ি টিলা, যেখানে ভেসে উঠে নানা নকশা, ছুটে চলা হরিণের অবয়ব আর রঙ্গিন আলোর খেলা। আর তা দেখেই অবাক দর্শকরা, অনেকেই আবার ব্যস্ত হয়ে পড়লেন ছবি তুলতে।
আলো আর সুরের মায়াজালে জীবন্ত হয়ে উঠল প্রাচীন সমাধি
আরও পড়ুন
তারেক রহমানের সঙ্গে এরদোয়ানের বৈঠক, সম্পর্ক আরও জোরদারের প্রত্যয়
নেতানিয়াহুর নির্বাচনি বিলবোর্ডে খামেনি ও এরদোয়ানের পাশে মামদানির ছবি, নেপথ্যে কী
রাশিয়ার কারণে আমি রাতে ঘুমাতে পারি না: ন্যাটো প্রধান
ভেনেজুয়েলায় ট্রাম্প কাণ্ডে ক্ষুব্ধ এরদোয়ান, দিলেন কড়া হুঁশিয়ারি!