মঙ্গলবার, ০৮ জুলাই ২০২৫ , ১১:০৩ এএম
কলকাতা লিগে দাপুটে ফর্মে ফিরেছে মোহনবাগান। সোমবার (৮ জুলাই) ব্যারাকপুর স্টেডিয়ামে তারা ২-০ গোলে হারাল রেলওয়েকে। তবে ম্যাচের উত্তাপ ছাড়িয়ে গেল মাঠের বাইরে। কারণ এক ফুটবলারের চোট পাওয়ার পর দেখা গেল না ন্যূনতম চিকিৎসা পরিষেবা। ছাতা দিয়ে বাঁধা হলো ব্যান্ডেজ, অ্যাম্বুল্যান্স আসতেও সময় লাগল।
প্রথমার্ধেই এগিয়ে যায় মোহনবাগান। রেলওয়ের গোলকিপার সুদীপ্ত ঘোষের ভুলে গোল করেন সন্দীপ মালিক। কর্দমাক্ত মাঠে বলের গতি বুঝতে না পেরে গোল থেকে এগিয়ে এসেছিলেন সুদীপ্ত। সালাউদ্দিন তার সামনে থেকে বল কেড়ে দেন সন্দীপকে, যিনি ফাঁকা পোস্টে বল জড়িয়ে দেন।
দ্বিতীয়ার্ধে শারীরিক সংঘর্ষ আরও বাড়ে। মোট তিনটি লাল কার্ড ও একাধিক হলুদ কার্ড দেখান রেফারি। মোহনবাগানের সালাউদ্দিন ও রেলের দুই খেলোয়াড় সুদীপ্ত ও সন্দীপ লাল কার্ড দেখেন। খেলা কিছু সময়ের জন্য বন্ধও থাকে। শেষদিকে ১০ জনের মোহনবাগান ও ৯ জনের রেলের মধ্যে ব্যবধান আরও বাড়িয়ে দেন পরিবর্ত ফুটবলার শিবম মুন্ডা।
প্রথমার্ধেই বড় ধাক্কা খায় রেলওয়ে। খেলায় সংঘর্ষে চোট পান তারক হেমব্রম। মাঠেই বোঝা যাচ্ছিল চোট গুরুতর। কিন্তু তাকে সরাতে বা চিকিৎসা দিতে দেখা যায়নি পেশাদার কোনও ব্যবস্থা। দুই পাশে ছাতা জুড়ে তার পায়ে ব্যান্ডেজ বেঁধে তাকে মাঠের বাইরে নিয়ে যাওয়া হয়।
এই ঘটনার ছবি ভাইরাল হয় সামাজিক মাধ্যমে, সমর্থকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সঞ্চার করে।
প্রাথমিকভাবে তাকে ঢাকুরিয়ার একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা হলেও, মাঠে থাকা একমাত্র অ্যাম্বুল্যান্স সরিয়ে নিতে ভয় হচ্ছিল আয়োজকদের। পরে দ্বিতীয় একটি অ্যাম্বুল্যান্স ডাকা হয়, যা আসতেও দেরি করে। অবশেষে তারককে হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। কিন্তু প্রশ্ন থেকে যায় — বড় লিগ ম্যাচে কেন পর্যাপ্ত চিকিৎসা ও জরুরি পরিষেবা থাকল না?
উল্লেখ্য, মোহনবাগান জিতে লিগে ভালো জায়গায় ফিরলেও, ম্যাচের মূল আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে রইল তারক হেমব্রমের চোট এবং দুর্বল পরিষেবা। খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা ও প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে কর্তৃপক্ষকে আরও দায়িত্ববান হওয়ার দাবি উঠছে ক্রীড়ামহল জুড়ে।
আরটিভি/এসকে