শনিবার, ৩১ জানুয়ারি ২০২৬ , ০৭:২৬ পিএম
সম্প্রতি ভারত ও শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠিত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে বাংলাদেশকে শেষ মুহূর্তে বাদ দেওয়া হয়েছে। ভারতের নিরাপত্তা শঙ্কায় তারা আইসিসিকে অনুরোধ করেছিল বিশ্বকাপের ভারতের ম্যাচগুলো শ্রীলঙ্কায় সরিয়ে নেওয়ার জন্য। কিন্তু আইসিসি বাংলাদেশকে বাদ দিয়ে স্কটল্যান্ডকে অন্তর্ভুক্ত করেছে, যা বাংলাদেশের কড়া প্রতিবাদ ও পাকিস্তানের বিশ্বকাপ বয়কট হুমকির জন্ম দিয়েছে।
এ ঘটনায় আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটি (আইওসি) সতর্ক হয়েছে। আইওসির এক সূত্রের বরাতে জানা গেছে, ভারত যদি অন্য প্রতিবেশি দেশ পাকিস্তান ও বাংলাদেশের সঙ্গে কূটনৈতিক ও ক্রীড়াবিষয়ক সম্পর্ক উন্নয়নে বাস্তব অগ্রগতি না দেখায়, তাহলে তারা ২০৩৬ সালের অলিম্পিক গেমস আয়োজনের মর্যাদা পেতে পারে না।
আইওসি নিয়ম অনুযায়ী ক্রীড়া সংস্থাগুলোকে সায়ত্তশাসিত ও রাজনৈতিক হস্তক্ষেপমুক্ত হতে হবে। ৫০.২ ধারায় স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, অলিম্পিক গেমসে কোনো রাজনৈতিক বা ধর্মীয় অভিব্যক্তি প্রদর্শন করা যাবে না। এই নীতির কঠোর প্রয়োগের উদাহরণ হিসেবে ইন্দোনেশিয়াকে বিশ্ব আর্টিস্টিক জিমন্যাস্টিকস চ্যাম্পিয়নশিপে ইসরায়েলি দলের ভিসা না দেওয়ার কারণে অলিম্পিক ইভেন্ট আয়োজনে স্থগিতাদেশ দেওয়া হয়।
আইওসি ক্রিকেটকে তাদের ক্রীড়া বাজারের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচনা করে, কিন্তু কোনো পরিস্থিতিতেই তারা নিজেদের নীতি থেকে আপস করবে না।
ভারত ২০৩৬ সালের অলিম্পিক গেমস আহমেদাবাদে আয়োজনের ইচ্ছা প্রকাশ করেছে, তবে কাতারের সঙ্গে কঠোর প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছে। আগামী ২০৩০ সালে ভারতের আয়োজনে কমনওয়েলথ গেমস অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে ক্রিকেট বিষয়ক ইস্যু আরও গুরুত্ব পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে বাদ পড়ার এই ঘটনা কেবল ক্রীড়া নয়, কূটনৈতিক দিক থেকেও ভারতের জন্য বড় একটি সংকেত হয়ে দাঁড়িয়েছে, যা তাদের অলিম্পিক আয়োজনের স্বপ্নকে সংকটে ফেলতে পারে।
আরটিভি/এসকে