বৃহস্পতিবার, ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ , ০৯:৫৩ পিএম
মাত্র সাড়ে তিন বছর আগেও গ্লাসগোর একটি ক্রিকেট ক্লাবের বেড়ার বাইরে দাঁড়িয়ে অনুশীলন দেখা ছিল যার দৈনন্দিন চিত্র, সেই কিশোরই আজ আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের মূল মঞ্চে। ১৯ বছর বয়সী জাইনুল্লাহ ইহসান এখন স্কটল্যান্ড জাতীয় দলের পেস আক্রমণের অন্যতম ভরসা।
আফগানিস্তানে জন্ম নেওয়া ইহসান মাত্র ১৩ বছর বয়সে একাই বাড়ি ছাড়েন। এশিয়া ও ইউরোপ পাড়ি দিয়ে দীর্ঘ দুই বছরের যাত্রা শেষে তিনি পৌঁছান স্কটল্যান্ডে, বড় ভাইয়ের কাছে। সেখানে ‘গার্ডিয়ানশিপ স্কটল্যান্ড’-এর সহায়তায় আশ্রয় পান তিনি। ছোটবেলায় টেনিস বলে ইলেকট্রিক্যাল টেপ পেঁচিয়ে ‘টেপবল’ ক্রিকেট খেলে বেড়ে ওঠা ইহসান প্রথমবার যখন নিয়মিত ক্রিকেট নেটে বল করেন, তখনই কোচদের নজর কাড়েন।
ইহসানের বিশ্বকাপ যাত্রা অনেকটাই নাটকীয়। বয়সসীমা অতিক্রম করায় অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ পাননি তিনি। তবে বাংলাদেশ বিশ্বকাপ বয়কট করায় এবং শেষ মুহূর্তে স্কটল্যান্ড সুযোগ পাওয়ায় সিনিয়র দলে ডাক পান এই তরুণ পেসার। সেই মুহূর্তের অনুভূতি জানাতে গিয়ে ইহসান বলেন,বাংলাদেশ বয়কট করার পর সারাদিন ফোন হাতে অপেক্ষা করছিলাম। হেড কোচ ফোন করে যখন ‘অভিনন্দন’ বললেন, তখনকার অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব নয়। সঙ্গে সঙ্গে আফগানিস্তানে বাবা-মাকে ফোন করি।
বিশ্বকাপের প্রস্তুতি ম্যাচে সম্প্রতি আফগানিস্তানের মুখোমুখি হয়েছিল স্কটল্যান্ড। ভিসা জটিলতার কারণে মাঠে নামতে না পারলেও শৈশবের নায়ক রশিদ খান, মোহাম্মদ নবী ও হামিদ হাসানের সঙ্গে সময় কাটানোর সুযোগ হয় ইহসানের। তবে নিজের পরিচয় নিয়ে তিনি একেবারেই স্পষ্ট।
ইহসান বলেন, আফগানিস্তানে আমার জন্ম, কিন্তু স্কটল্যান্ডই আমার দেশ। এই দেশ আমাকে সম্মান দিয়েছে, আমার ওপর বিশ্বাস রেখেছে।
বুধবার নামিবিয়ার বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হয় ইহসানের। সে ম্যাচে ৪ ওভারে ৪৯ রান দিয়ে ১ উইকেট নেন তিনি। পারফরম্যান্সে পুরোপুরি সন্তুষ্ট না হলেও ম্যাচ শেষে তার আত্মসমালোচনা প্রমাণ করে শেখার ক্ষুধা ও লড়াকু মানসিকতা।
স্কটল্যান্ডের সহকারী কোচ গর্ডন ড্রামন্ডের মতে, ইয়র্কার, স্লোয়ার ও বাউন্সার দেওয়ার দক্ষতা ইহসানকে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের জন্য একজন কার্যকর বোলারে পরিণত করেছে।
আরটিভি/এসকে