বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬ , ১১:০২ এএম
২০২৬ বিশ্বকাপের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে বোস্টনে ফ্রান্সের বিপক্ষে বহুল আলোচিত প্রীতি ম্যাচের আগে নেইমার ইস্যুতে মুখ খুলেছেন ব্রাজিল জাতীয় দলের কোচ কার্লো আনচেলত্তি। সান্তোস তারকা নেইমারকে দলে না নেওয়া নিয়ে ব্রাজিলের ফুটবল অঙ্গনে চলমান বিতর্কের জবাবে তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, দল নির্বাচন পুরোপুরি তার সিদ্ধান্ত এবং সেখানে আবেগ নয়, প্রাধান্য পাবে বাস্তবতা ও প্রয়োজন।
সংবাদ সম্মেলনে নেইমারকে স্কোয়াডে না রাখার কারণ জানতে চাইলে ইতালিয়ান এই কোচ বলেন, আমি সব দেখছি, সব শুনছি। কিন্তু আমার কাজ হলো সিদ্ধান্ত নেওয়া। এটা স্বাভাবিক যে সবার নিজস্ব মতামত থাকবে, কারণ ফুটবল কোনো বিশ্ববিদ্যালয় নয়... ফুটবল কোনো ধ্রুব বিজ্ঞান নয়। প্রত্যেকের মতামতের প্রতি আমার সম্মান আছে, কিন্তু দলের প্রয়োজনে আমাকেই কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
জাতীয় দলের দায়িত্ব নেওয়ার পর এখন পর্যন্ত একবারও নেইমারকে দলে ডাকেননি আনচেলত্তি। ফলে ব্রাজিলজুড়ে এই সিদ্ধান্ত নিয়ে তৈরি হয়েছে তীব্র আলোচনা-সমালোচনা। সমর্থকদের একাংশ কোচের সিদ্ধান্তকে সমর্থন করলেও, আরেক অংশ মনে করছে, বড় মঞ্চে নেইমারের অভিজ্ঞতা ও সৃজনশীলতার বিকল্প এখনো তৈরি হয়নি।
এদিকে আনচেলত্তির ওপর চাপ বাড়াতে সরব হয়েছেন ব্রাজিলের সাবেক বিশ্বকাপজয়ী তারকারাও। ১৯৯৪ বিশ্বকাপজয়ী কিংবদন্তি রোমারিও সরাসরি বলেন, একজন তারকা খেলোয়াড়কে খেলাতেই হবে। জাতীয় দল হলো সেরাদের জায়গা। বিশ্বকাপের প্রস্তুতির জন্য এক মাস সময় যথেষ্ট, যাতে একজন অ্যাথলেট শারীরিক ও মানসিকভাবে নিজেকে ফিরে পায়। ১০০ ভাগ ফিট না হলেও নেইমারের মতো একজন জাদুকরকে দলে রাখা যেকোনো সাধারণ খেলোয়াড়ের চেয়ে ভালো।
একই সুরে কথা বলেছেন ব্রাজিলের আরেক কিংবদন্তি রোনালদো নাজারিও। তার ভাষায়, নেইমার যদি শারীরিকভাবে খেলার যোগ্য থাকে, তবে আমি নিশ্চিত আনচেলত্তি তাকে বিশ্বকাপে নিয়ে যাবে। সে দলকে অনেক সাহায্য করতে পারে।
শুধু সাবেক তারকারাই নন, বর্তমান ফুটবলারদের কাছেও নেইমারের গুরুত্ব এখনো অটুট। সান্তোসে খেলা এই ফরোয়ার্ডকে নিয়ে ব্রাজিলিয়ান মিডফিল্ডার ফাবিনহো বলেন, আমার কাছে নেইমার এখনো ব্রাজিলের সবচেয়ে প্রতিভাবান খেলোয়াড়। সে যেকোনো মুহূর্তে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে। ফর্মে থাকলে নেইমারই সেরা।
বিশ্বকাপের চূড়ান্ত স্কোয়াড ঘোষণার আগে নিজেকে প্রমাণ করার জন্য নেইমারের হাতে সময় খুব বেশি নেই। সান্তোসের হয়ে ব্রাজিলিয়ান সিরি আ লিগে তিনি আর মাত্র আটটি ম্যাচ খেলার সুযোগ পাবেন। আগামী ২ এপ্রিল রেমো-পিএর বিপক্ষে ম্যাচ দিয়েই শুরু হবে তার ফিটনেস ও ফর্ম প্রমাণের বড় পরীক্ষা।
এখন দেখার বিষয়, এই অল্প সময়ের মধ্যেই নেইমার কি এমন পারফরম্যান্স দেখাতে পারেন, যা আনচেলত্তির মন গলিয়ে তাকে আবারও ব্রাজিলের জার্সিতে ফিরিয়ে আনবে। বিশ্বকাপের পথে ব্রাজিলের সবচেয়ে বড় প্রশ্নগুলোর একটি এখন একটাই-নেইমার ফিরবেন, নাকি বাদই থাকবেন?
আরটিভি/এসকে