মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬ , ০৮:৪১ পিএম
২০১৪ সালের এক বৃষ্টিভেজা বিকেল। হাইতির বিপক্ষে নিজেদের প্রথম আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলতে নেমেছে কসোভো। দলটির গোলরক্ষক সামির উজকানি তখন অবাক হয়ে লক্ষ্য করলেন, ড্রেসিংরুমে বসা সতীর্থদের অর্ধেকের নামও তিনি জানেন না! ইউরোপের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে অখ্যাত সব খেলোয়াড়দের নিয়ে তড়িঘড়ি করে গড়া হয়েছিল সেই দল। অথচ এক যুগ পর সেই কসোভোই আজ দাঁড়িয়ে ইতিহাসের পাতায় নাম লেখানোর অপেক্ষায়। মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) রাতে তুরস্ককে হারাতে পারলেই প্রথমবারের মতো ফিফা বিশ্বকাপের মূল পর্বে জায়গা করে নেবে বলকান অঞ্চলের এই দেশটি।
শূন্য থেকে শুরু:
২০০৮ সালে স্বাধীনতা ঘোষণা করা কসোভোর ফুটবলের পথচলা ছিল কণ্টকাকীর্ণ। নব্বইয়ের দশকে সার্বীয় শাসনামলে দেশটিতে ফুটবল ছিল নিষিদ্ধ। এরপর ভয়াবহ যুদ্ধ আর ধ্বংসলীলার ক্ষত বয়ে বেড়ানো দেশটিতে খেলাধুলা ছিল এক বিলাসিতা। শুরুর দিকে প্রিস্টিনার ভাঙাচোরা মাঠে যখন তারা অনুশীলন করত, তখন মাথার ওপর দিয়ে কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিষাক্ত ধোঁয়া উড়ত। সেই প্রতিকূলতা জয় করেই ২০১৬ সালে ফিফা ও উয়েফার পূর্ণ সদস্যপদ পায় তারা।
কান্নাভেজা সেই মুহূর্ত:
কসোভো ফুটবল ফেডারেশনের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এরোল সালিহু স্মৃতিচারণ করে বলেন, যেদিন শুনলাম আমরা ফিফার স্বীকৃতি পাচ্ছি, তৎকালীন সভাপতি ফাদিল ভোকরি কান্নায় ভেঙে পড়েছিলেন। তিনি আজ বেঁচে নেই, কিন্তু তার নামেই প্রিস্টিনার সংস্কার করা স্টেডিয়ামে আজ ১৪ হাজার দর্শক গর্জন তুলবে। আজ সেই ভোকরির স্মৃতিধন্য মাঠেই হবে ভাগ্যনির্ধারণী ম্যাচ।
পরিবর্তনের কারিগর ও বর্তমান শক্তি:
২০২৪ সালে জার্মান কোচ ফ্রাঙ্কো ফোভা দায়িত্ব নেওয়ার পর কসোভো দল এক অপরাজেয় শক্তিতে পরিণত হয়েছে। তার রণকৌশলে ভর করে বাছাইপর্বে সুইডেনকে দুবার হারানো এবং প্লে-অফ সেমিফাইনালে স্লোভাকিয়াকে ৪-৩ গোলে হারিয়ে ফাইনাল নিশ্চিত করেছে তারা। দলের প্রধান ভরসা এখন রিয়াল মায়োর্কার স্ট্রাইকার ভেদাত মুরিচি এবং জুভেন্টাসের এডন জেগ্রোভার মতো প্রতিভারা।
তুরস্কের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও প্রতিদ্বন্দ্বিতা:
২০১৪ সালে যখন কোনো দেশ কসোভোর সাথে খেলতে রাজি হচ্ছিল না, তখন তুরস্ক এগিয়ে এসেছিল। সেই প্রীতি ম্যাচে তুরস্ক ৬-১ গোলে জিতলেও কসোভোর মানুষের মনে তারা জায়গা করে নিয়েছিল। তবে আজকের লড়াইয়ে কোনো সহমর্মিতা নয়, বরং সমানে সমান লড়তে প্রস্তুত কসোভো।
সামির উজকানি আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বলেন, এই জয় শুধু মাঠের ১১ জন খেলোয়াড়ের জন্য নয়; এটি সেই সব মানুষের জন্য যারা কসোভোর অস্তিত্বের জন্য লড়াই করেছেন। এটা আমাদের কাছে একটি স্বপ্ন সত্যি হওয়ার মতো ব্যাপার।
বিশ্ব ফুটবলের নতুন শক্তি হিসেবে কসোভোর এই অদম্য যাত্রা কি আজ পূর্ণতা পাবে? ফুটবল বিশ্ব এখন সেই রোমাঞ্চকর মুহূর্তের অপেক্ষায়।
আরটিভি/এমএইচজে