মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬ , ১০:০২ পিএম
ব্রাজিল জাতীয় দলের হয়ে নেইমার কি আবারও বিশ্বকাপে মাঠে নামতে পারবেন? কোচ কার্লো আনচেলত্তির পরিকল্পনায় তিনি থাকবেন কি না, তা নিয়ে যখন ফুটবল বিশ্বে তুমুল অনিশ্চয়তা, ঠিক তখনই নিজের ক্যারিয়ারের শুরু ও ব্যক্তিগত সংগ্রাম নিয়ে মুখ খুললেন এই সুপারস্টার। পেশাদার ফুটবলার হওয়ার স্বপ্ন পূরণ করতে গিয়ে কৈশোরে কতটা ত্যাগ স্বীকার করতে হয়েছে, নিজের ইউটিউব চ্যানেলে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সেই অজানা গল্পগুলোই তুলে ধরেছেন তিনি।
সান্তোসের হয়ে খেলা এই ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড জানান, মাত্র ১৩-১৪ বছর বয়স থেকেই তাকে সাধারণ জীবন বিসর্জন দিতে হয়েছে। নেইমার বলেন, স্কুলের বন্ধুরা যখন ঘুরতে যেত বা সিনেমা দেখত, আমি তখন ঘরে বসে থাকতাম। কারণ পরদিন সকালেই আমার অনুশীলন থাকত। বন্ধুদের আনন্দ করতে দেখে মাঝে মাঝে খুব খারাপ লাগত, বিরক্ত হতাম। কিন্তু মনে মনে জানতাম, আমার একটা নির্দিষ্ট লক্ষ্য আছে।
বিশ্বজুড়ে খ্যাতি আর অর্থ পেলেও ফুটবলারের জীবন যে সবসময় সহজ নয়, তা মনে করিয়ে দিয়েছেন নেইমার। তার মতে, ব্রাজিলের মতো দেশে একজন ফুটবলার হওয়া মানেই সারাক্ষণ আতশিকাঁচের নিচে থাকা। তিনি বলেন, মানুষ সবসময় বিচার করে, সমালোচনা করে। তারা বুঝতে চায় না যে আমরাও মানুষ। ২০ বছর ধরে আমি এই জীবনের সঙ্গে লড়ছি। আমারও খারাপ লাগে, আমি কাঁদি, রাগ করি—এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু প্রশ্ন হলো, কেন আমি একজন সাধারণ মানুষের মতো জীবন কাটাতে পারব না?
৩৪ বছর বয়সী এই তারকা নিজের ভুলগুলো নিয়েও অকপট। তিনি বলেন, মানুষ মনে করে আমি কোনো ভুল করতে পারি না। অথচ আমি অনেক ভুল করেছি, এখনও করছি এবং ভবিষ্যতেও করব। এটাই জীবনের অংশ। ২০২৩ সালের অক্টোবরে হাঁটুর গুরুতর চোটের (এসিএল) পর থেকে নেইমার জাতীয় দলের বাইরে আছেন। চোট কাটিয়ে মাঠে ফিরলেও আগের সেই চিরচেনা ফর্মে এখনও ফিরতে পারেননি তিনি।
ব্রাজিলের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা (৭৯ গোল) হওয়া সত্ত্বেও আসন্ন বিশ্বকাপ স্কোয়াডে নেইমারকে এখনও অন্তর্ভুক্ত করেননি কোচ আনচেলত্তি। মূলত সেরা ছন্দে ফিরতে না পারায় তার দলে থাকা নিয়ে তৈরি হয়েছে বড় প্রশ্নবোধক চিহ্ন।
সাফল্যের চাকচিক্যের আড়ালে ব্যক্তিগত কষ্ট আর চোটের সঙ্গে এক নিরন্তর লড়াইয়ের গল্পই যেন নতুন করে মনে করিয়ে দিলেন ব্রাজিলের এই পোস্টার বয়।
আরটিভি/এমএইচজে