কাতার বিশ্বকাপের সেই দুঃসহ স্মৃতি এখনো ভোলেনি ব্রাজিল। সেবার কোয়ার্টার ফাইনালে ক্রোয়েশিয়ার কাছে হেরেই স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিল সেলেসাওদের হেক্সা জয়ের স্বপ্ন। দীর্ঘ সময় পর আবারও সেই লুকা মদ্রিচদের মুখোমুখি হতে যাচ্ছে কাসেমিরোরা। বাংলাদেশ সময় বুধবার (১ এপ্রিল) সকাল ৬টায় এক হাইভোল্টেজ প্রীতি ম্যাচে ক্রোয়েশিয়ার মুখোমুখি হবে ব্রাজিল।
বিশ্বকাপের আগে নিজের সেরা একাদশ ও স্কোয়াড গুছিয়ে নেওয়ার এটাই শেষ সুযোগ ব্রাজিলের ইতালিয়ান কোচ কার্লো আনচেলত্তির সামনে। সবশেষ ম্যাচে ফ্রান্সের কাছে ২-১ গোলে হারের পর বেশ চাপে আছে ব্রাজিল। গ্যালারি থেকে নেইমারের নামে স্লোগান ওঠায় এবং ব্রাজিলিয়ান মিডিয়ায় তাকে দলে ফেরানোর দাবি জোরালো হওয়ায় আনচেলত্তির ওপর চাপ এখন তুঙ্গে। ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে জয় না পেলে নেইমারকে স্কোয়াডে নেওয়ার দাবি আরও জোরালো হবে।
ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে বড় ধাক্কা খেয়েছে ব্রাজিল। চোটের কারণে ছিটকে গেছেন বার্সেলোনা তারকা রাফিনহা। অন্যদিকে, ফ্রান্সের বিপক্ষে বিবর্ণ পারফরম্যান্সের পর হালকা চোটে পড়েছেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়রও। নিয়মিত দুই তারকাকে ছাড়া আক্রমণভাগে ম্যাথিউস কুনহা ও পেদ্রোর ওপরই ভরসা রাখতে হচ্ছে কোচকে। মাঝমাঠে কাসেমিরোর সঙ্গে থাকবেন সান্তোস ও মার্টিনেল্লি। রক্ষণ সামলানোর দায়িত্বে দেখা যেতে পারে ব্রেমার, মার্কিনহোস ও ডি সান্তোসকে।
ব্রাজিলের ম্যাচের কিছুক্ষণ আগেই (ভোর ৫টা ১৫ মিনিটে) বুয়েনস আইরেসে ঘরের মাঠে নামবে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। তাদের প্রতিপক্ষ আফ্রিকার দেশ জাম্বিয়া। বিশ্বকাপের আগে নিজেদের কম্বিনেশন ঠিক করে নিতে কোচ লিওনেল স্কালোনির জন্য এটাই শেষ সুযোগ। র্যাঙ্কিংয়ের ৯১ নম্বর দল জাম্বিয়ার বিপক্ষে মেসিকে শুরু থেকেই খেলানোর পরিকল্পনা আছে কোচের। পাশাপাশি সাইড বেঞ্চের শক্তি পরখ করতে ভ্যালেন্টিন বার্কো, জিউলিয়ানো সিমিওনে এবং গোলরক্ষক রুলিকে সুযোগ দিতে পারেন স্কালোনি।
বিশ্বকাপের প্রস্তুতির ক্ষেত্রে দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দেশ ভিন্ন পথ বেছে নিয়েছে। আর্জেন্টিনা যেখানে র্যাঙ্কিংয়ে পিছিয়ে থাকা আফ্রিকান দলগুলোর বিপক্ষে খেলে আত্মবিশ্বাস বাড়াতে চাইছে, সেখানে আনচেলত্তি বেছে নিয়েছেন ইউরোপের শক্তিশালী দলগুলোকে। তবে এই কঠিন চ্যালেঞ্জ নিতে গিয়ে গত দুই ম্যাচে জয়ের মুখ দেখেনি ব্রাজিল।
আগামী ৭ জুন মিসরের বিপক্ষে আরেকটি ম্যাচ খেলবে ব্রাজিল। তবে ফুটবল ভক্তদের নজর এখন বুধবারের সকালের দিকে— যেখানে নির্ধারিত হতে পারে দুই লাতিন পরাশক্তির বিশ্বকাপ স্কোয়াডের ভবিষ্যৎ রূপরেখা।
আরটিভি/এমএইচজে




