images

খেলা / ক্রিকেট

২০২৭ বিশ্বকাপে সরাসরি খেলা নিয়ে যা বললেন আশরাফুল

শনিবার, ০৪ এপ্রিল ২০২৬ , ০৬:৪৭ পিএম

২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপে বাংলাদেশের সরাসরি অংশগ্রহণ এখনো নিশ্চিত হয়নি। সামনে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিরিজ থাকলেও এ নিয়ে আপাতত চিন্তিত নন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) ব্যাটিং কোচ মোহাম্মদ আশরাফুল। বরং তার মতে, এখনই মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত বিশ্বকাপকে সামনে রেখে দলকে আরও শক্তিশালী করে তোলা।

গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে আশরাফুল বলেন, আমাদের প্রধান কোচ ফিল সিমন্স পাকিস্তান সিরিজের আগে সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, তিনি কোয়ালিফাই নিয়ে একদমই চিন্তিত নন। আমাদের এখন চিন্তা আসলে ২০২৭ বিশ্বকাপ নিয়ে আমরা কীভাবে আইসিসির টুর্নামেন্টে সেরা ক্রিকেট খেলতে পারি এবং শিরোপা জিততে পারি। 

তিনি আরও বলেন, দেশের মাটিতে অনুষ্ঠিত প্রতিটি সিরিজেই জয়ের লক্ষ্য থাকবে বাংলাদেশের। অবশ্যই আমরা নিজেদের মাঠে যতগুলো সিরিজ হবে, সবগুলোতেই জিততে চাইব, যোগ করেন তিনি।

দেশীয় ক্রিকেটের অন্যতম বড় আসর ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ (ডিপিএল) নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন আশরাফুল। তার মতে, এই সমস্যার জন্য ক্রিকেট বোর্ডকে এককভাবে দায়ী করা ঠিক হবে না।

তিনি বলেন, অবশ্যই খারাপ লাগে। এখানে কিন্তু বোর্ডের কোনো হাত নেই। বোর্ড সবকিছু প্রস্তুত করে রেখেছে মাঠ প্রস্তুত, আম্পায়ার প্রস্তুত, বল প্রস্তুত, সবকিছুই ঠিক আছে। কিন্তু ক্লাব যদি না খেলতে চায়, সেখানে বোর্ডের কিছু করার থাকে না।

দেশের ক্রিকেটকে আরও কার্যকর ও দীর্ঘমেয়াদি ভিত্তির ওপর দাঁড় করাতে একটি নতুন প্রতিযোগিতা কাঠামোর প্রস্তাব দিয়েছেন আশরাফুল। তার মতে, বিসিবির আটটি বিভাগকে কেন্দ্র করে বছরজুড়ে ক্রিকেট আয়োজন করা গেলে খেলোয়াড়রা আরও বেশি ম্যাচ খেলার সুযোগ পাবে।

এ বিষয়ে তিনি বলেন, আমাদের ক্রিকেট বোর্ডের যে আটটা বিভাগ আছে, তাদের নিয়ে যদি চার দিনের ম্যাচ, ওয়ানডে ম্যাচ এবং ২০ ওভারের ম্যাচ চালু করা যায়, তাহলে ভালো হবে। তাদের অধীনে অনূর্ধ্ব-১৯, অনূর্ধ্ব-১৭, অনূর্ধ্ব-১৬ ও অনূর্ধ্ব-১৩ পর্যায়ের ক্রিকেটও রাখা যেতে পারে।

তিনি মনে করেন, এ ধরনের কাঠামো চালু হলে ক্লাব ক্রিকেটে স্থবিরতা এলেও খেলোয়াড়দের মাঠের বাইরে থাকতে হবে না।
“ক্লাব যদি না খেলতে চায়, তখন অন্তত খেলোয়াড়রা খেলার মাঠে থাকবে,” বলেন তিনি।

আশরাফুল মনে করেন, দেশের ক্রিকেটকে কেবল দেড়-দুই মাসের টুর্নামেন্টনির্ভর না রেখে সারা বছরব্যাপী কার্যক্রমে নিয়ে যেতে হবে।

তার ভাষায়, শুধু ক্লাবগুলো এসে দল গঠন করবে, দেড় মাস খেলবে তা না হয়ে ১২ মাস খেলার পদ্ধতি থাকতে হবে। অন্য দেশগুলোতে যেভাবে হয়, সেভাবে আমাদেরও চালু করতে হবে।

বর্তমান বোর্ডের কাজের মূল্যায়ন করতে গিয়ে আশরাফুল ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, নতুন বোর্ড দায়িত্ব নেওয়ার পর খুব অল্প সময় পেয়েছে এবং নানা জটিলতার মধ্য দিয়ে কাজ করতে হচ্ছে।

সবকিছু মাত্র শুরু হয়েছে। আপনাকে সময় দিতে হবে। নতুন বোর্ডও এসেছে মাত্র চার-পাঁচ মাস হলো। একটার পর একটা ঝামেলা যাচ্ছে। তাই আমার মনে হয়, সবাইকে সময় দিতে হবে এবং সবার সৎ চিন্তা থাকতে হবে, বলেন আশরাফুল।

আরও পড়ুন
bangladesh

অনূর্ধ্ব-২০ নারী এশিয়ান কাপে টানা দ্বিতীয় ম্যাচেও হার বাংলাদেশের

সব মিলিয়ে, ২০২৭ বিশ্বকাপে সরাসরি খেলার সমীকরণ নিয়ে আপাতত অতিরিক্ত চাপ নিতে চাইছেন না আশরাফুল। বরং তার দৃষ্টিতে, বাংলাদেশের ক্রিকেটকে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় এগিয়ে নিতে হলে এখনই ঘরোয়া ক্রিকেটের কাঠামো, ধারাবাহিক ম্যাচ আয়োজন এবং তরুণদের উন্নয়ন এই তিনটি জায়গায় জোর দিতে হবে।

আরটিভি/এসকে