রোববার, ১২ এপ্রিল ২০২৬ , ০৮:২১ এএম
লা লিগায় জয় যাত্রা যেন থামছেই না বার্সেলোনা। সবশেষ দুর্দান্ত নৈপুণ্য দেখিয়ে এস্পানিওলের জালে ১ হালি দিয়েছে কাতালনরা। এতে শিরোপার পথে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেছে বার্সেলোনা।
শনিবার (১১ এপ্রিল) ক্যাম্প ন্যুতে স্পানিওলকে ৪-১ গোলে হারিয়ে হান্সি ফ্লিকের দল। এদিন প্রথমার্ধে জোড়া গোল করেন ফেররান তরেস। তার দুটি গোলেই ভূমিকা রাখা ইয়ামাল দ্বিতীয়ার্ধের শেষ দিকে পান জালের দেখা। বাকি দুইটি গোল করেন মার্কাস র্যাশফোর্ড ও ইয়ামাল।
এদিন আক্রমণাত্মক ফুটবলে শুরু থেকেই এস্পানিওলকে চেপে ধরে বার্সেলোনা। দশম মিনিটে ম্যাচের প্রথম কর্নার থেকে গোল করে এগিয়ে যায় গতবারের চ্যাম্পিয়নরা। ইয়ামালের বাঁকানো শটে চমৎকার হেডে জাল খুঁজে নেন তরেস।
১০ ম্যাচ পর জালের দেখা পেলেন এই স্প্যানিশ ফরোয়ার্ড। তিন মিনিট পর কিকে গার্সিয়ার আড়াআড়ি শট ঝাঁপিয়ে মাঝপথে ঠেকান বার্সেলোনা গোলরক্ষক হোয়ান গার্সিয়া। খরা কাটানোর পর আরেকটি গোলের জন্য তরেসের বেশিক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়নি। ২৫তম মিনিটে ইয়ামালের বাড়ানো শটে একটু দিক পাল্টে দিয়ে জাল খুঁজে নেন তিনি।
মাইলফলক ছোঁয়ার ম্যাচে ইয়ামাল জালের দেখা পেতে পারতেন ৩১তম মিনিটে। ডি বক্সের একটু বাইরে থেকে ফ্রি কিক একটুর জন্য লক্ষ্যে রাখতে পারেননি তিনি। বয়স ১৯ পূর্ণ হওয়ার আগে স্পেনের শীর্ষ লিগে প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে ম্যাচ খেলার সেঞ্চুরি করলেন ইয়ামাল।
রাউল গন্সালেস ১০০ ম্যাচ খেলেন ১৯ বছর ২৮৪ দিন বয়সে। ইয়ামাল তাকে ছাড়িয়ে গেলেন ১৮ বছর ২৭২ দিন বয়সে। ৪০তম মিনিটে ডি বক্সের বাইরে থেকে এরিক গার্সিয়ার গতিময় শট ঝাঁপিয়ে ঠেকান এস্পানিওল গোলেরক্ষক। ফিরতি বলে ফের্মিন লোপেসের শটও ব্যর্থ করে দেন তিনি।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই সুযোগ পান ইয়ামাল। ৪৭তম মিনিটে পায়ের দারুণ কারিকুরিতে জায়গা করে নিয়ে শটও নেন তরুণ এই ফরোয়ার্ড। এস্পানিওলের একজনের গায়ে লেগে দিক পাল্টে কাছের পোস্ট ঘেঁষে বেরিয়ে যায় বল।
৫৪তম মিনিটে জালে বল পাঠান তরেস। তবে তাকে বল দেওয়া এরিক গার্সিয়া অফসাইডে থাকায় মেলেনি গোল। পরের মিনিটে ব্যবধান কমায় এস্পানিওল। ডি বক্সের বাইরে থেকে গতিময় শটে জাল খুঁজে নেন অরক্ষিত পল লোসানো।

৬৯তম মিনিটে দুর্দান্ত রিফ্লেক্সে দূরের পোস্টে বল ঠেকিয়ে ব্যবধান ধরে রাখেন বার্সেলোনা গোলরক্ষক গার্সিয়া। কয়েক সেকেন্ড পর জোয়াও কান্সেলোর গতিময় শট ব্যর্থ করে দেন এস্পানিওল গোলরক্ষক মার্কো দিমিত্রোভিচ।
ব্যবধান কমানোর পর সমানে সমানে লড়াই করছিল এস্পানিওল। কিছুটা চাপেও পড়ে গিয়েছিল বার্সেলোনা। তবে ৮৭তম মিনিটে চমৎকার পাল্টা আক্রমণে ব্যবধান বাড়ান ইয়ামাল। অনেকটা এগিয়ে এসে জোরাল শটে বিপদমুক্ত করার চেষ্টা করেন দিমিত্রোভিচ।
ইয়ামালের পায়ে লেগে উল্টো বল চলে যায় ডি বক্সের কাছে। ছুটে গিয়ে লিগে নিজের শততম ম্যাচ গোল করে রাঙান তরুণ তারকা। দুই মিনিট পর আরেকটি প্রতি আক্রমণে ব্যবধান আরও বাড়ায় বার্সেলোনা। বাইলাইনে বল পেয়েও শট নেননি ফ্রেংকি ডি ইয়ং। সতীর্থদের এগিয়ে আসার সুযোগ দেন তিনি। পরে দেখেশুনে খুঁজে নেন র্যাশফোর্ডকে। বাকিটা অনায়াসে সারেন এই তারকা।
৩ পয়েন্টের উচ্ছ্বাস নিয়ে মাঠ ছাড়ে বার্সেলোনা। ৩১ ম্যাচে ২৬ জয় ও এক ড্রয়ে ৭৯ পয়েন্ট নিয়ে চূড়ায় বার্সেলোনা। সমান ম্যাচে ৭০ পয়েন্ট নিয়ে দুই নম্বরে রিয়াল।
আরটিভি/এসআর