মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬ , ০৩:০০ পিএম
অস্ট্রেলিয়ার কিংবদন্তি স্পিনার শেন ওয়ার্ন আকস্মিক মৃত্যু ক্রিকেট বিশ্বকে স্তব্ধ করে দিয়েছিল ২০২২ সালে। থাইল্যান্ডের কোহ সামুইতে হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে তাঁর মৃত্যু হয়, যা ময়নাতদন্তে ‘স্বাভাবিক মৃত্যু’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল।
তবে চার বছর পর নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিলেন তার ছেলে জ্যাকসন ওয়ার্ন। তিনি দাবি করেছেন, কোভিড-১৯ টিকা তার বাবার মৃত্যুর সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে।
সম্প্রতি ‘টু ওয়ার্ল্ডস কোলাইড’ নামের একটি পডকাস্টে সাবেক সেনাসদস্য স্যাম ব্যামফোর্ডের সঙ্গে আলাপে জ্যাকসন বলেন,আমি নিশ্চিতভাবে মনে করি, টিকা এতে জড়িত ছিল। এখন এটা বলা মোটেও বিতর্কিত কোনো বিষয় নয়।
তিনি আরও বলেন, তার বাবার যদি আগে থেকেই কোনো শারীরিক সমস্যা থেকেও থাকে, টিকা সেটিকে তীব্র করে তুলতে পারে। এমনকি মৃত্যুসংবাদ পাওয়ার পর প্রথমেই তার মনে হয়েছিল এর জন্য সরকার, কোভিড এবং টিকাই দায়ী।
ওয়ার্নের মৃত্যুর সময় নানা গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছিল। থাই পুলিশ তার কক্ষ থেকে কিছু ওষুধ সরিয়ে ফেলেছে বলে অভিযোগ ওঠে। এছাড়া তার শরীরে যৌন উত্তেজক ওষুধের উপস্থিতির কথাও জানা যায়।
তবে এসবের বাইরে গিয়ে জ্যাকসন এখন সরাসরি কোভিড টিকাকেই দায়ী করছেন। তার দাবি, সরকারি নিয়মের কারণে ওয়ার্ন একাধিক ডোজ টিকা নিতে বাধ্য হয়েছিলেন।
ভিক্টোরিয়া সরকারের অর্থায়নে আয়োজিত রাষ্ট্রীয় অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় নিজের ক্ষোভ চেপে রেখেছিলেন বলে জানান জ্যাকসন। তার ভাষায়, আমি বলতে চেয়েছিলাম আমি এই সরকারকে দায়ী করি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত বলিনি, চুপ থাকাই তখন বুদ্ধিমানের কাজ ছিল।
তবে শেষ পর্যন্ত সত্য হয়তো জানা যাবে না বলেও স্বীকার করেন জ্যাকসন। তিনি বলেন, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট সবার জন্য উন্মুক্ত, কিন্তু তাতে সব প্রশ্নের উত্তর মেলে না।
তিনি উল্লেখ করেন, তার বাবা ধূমপান ও মদ্যপান করতেন, তবে অনেকেই এর চেয়েও বেশি করে এখনো সুস্থ আছেন এমন যুক্তিও দেন তিনি।
শেন ওয়ার্ন টেস্ট ক্রিকেটে ১৪৫ ম্যাচে ৭০৮ উইকেট নিয়ে ইতিহাসের অন্যতম সেরা বোলার হিসেবে স্বীকৃত। শুধুমাত্র মুত্তিয়া মুরালিধরনের পরেই তার অবস্থান।
বর্তমানে জ্যাকসন শেন ওয়ার্ন লিগ্যাসি’র মাধ্যমে হৃদ্রোগ সচেতনতা বৃদ্ধিতে কাজ করছেন, যাতে অন্য কোনো পরিবারকে এমন আকস্মিক দুঃসংবাদ সহ্য করতে না হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কোভিড-১৯ টিকা ও হৃদ্রোগজনিত মৃত্যুর মধ্যে সরাসরি সম্পর্কের প্রমাণ এখনো প্রতিষ্ঠিত হয়নি। তবে এ বিষয়ে গবেষণা ও বিতর্ক চলমান রয়েছে।
আরটিভি/এসকে