images

খেলা / ফুটবল

বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলা ১০ দল

মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬ , ১০:৪২ পিএম

ফিফা বিশ্বকাপ মানেই কেবল গোল আর ট্রফি জয়ের লড়াই নয়। বিশ্বমঞ্চের এই শ্রেষ্ঠত্বের লড়াইয়ে কোন দল প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে নিজেদের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পেরেছে, তারও এক অনন্য মাপকাঠি এটি। কিছু দেশ ফুটবল মহোৎসবের এই আঙিনায় নিজেদের এমন এক উচ্চতায় নিয়ে গেছে, যেখানে তারা টুর্নামেন্টটির সমার্থক হয়ে উঠেছে। এদের মধ্যে কেউ কিংবদন্তি চ্যাম্পিয়ন, আবার কেউ ট্রফি না ছুঁয়েও ফুটবল ইতিহাসে তৈরি করেছে এক বিশাল ঐতিহ্য।

ফিফা বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলা শীর্ষ ১০টি পরাশক্তি দলের তালিকা নিচে দেওয়া হলো 

১. ব্রাজিল— ১১৪ ম্যাচ
বিশ্বকাপের যেকোনো পরিসংখ্যানের কথা উঠলেই সবার ওপরে থাকবে ব্রাজিলের নাম। ১১৪টি ম্যাচ খেলে এই ঐতিহাসিক তালিকার শীর্ষে রয়েছে সেলেসাওরা। একই সঙ্গে তাদের দখলে রয়েছে এমন একটি অনন্য রেকর্ড যা পৃথিবীর আর কোনো দেশের নেই— ইতিহাসের একমাত্র দল হিসেবে প্রতিটি বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছে ব্রাজিল। ৫টি বিশ্বকাপ এবং পেলে, জিকো, রোনালদো নাজারিও, রোমারিও, রোনালদিনহো, নেইমার থেকে শুরু করে আজকের ভিনিসিয়ুস জুনিয়রদের মতো মহাতারকাদের হাত ধরে ব্রাজিল আজও বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে বড় প্রতীক।

২. জার্মানি— ১১২ ম্যাচ
ধারাবাহিকতাকে এক চিরন্তন ঐতিহ্যে রূপ দিয়েছে জার্মান ফুটবল দল। ১১২টি ম্যাচ খেলে ইউরোপের সবচেয়ে অভিজ্ঞ দেশ হিসেবে নিজেদের অবস্থান ধরে রেখেছে তারা। জার্মানির ফুটবল ইতিহাস এমন সব কিংবদন্তি প্রজন্মে ঠাসা, যারা প্রতিটি আসরেই কমবেশি সেমিফাইনাল, ফাইনাল কিংবা সরাসরি শিরোপার জন্য লড়েছে। ৪ বারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা ম্যাচের সংখ্যার বিচারে ব্রাজিলের ঘাড়েই নিশ্বাস ফেলছে।

আরও পড়ুন
NEYMAR-BRAZIL

১০ নম্বর জার্সি ফিরে পেলে যে রেকর্ডে নাম লিখবেন নেইমার

৩. আর্জেন্টিনা— ৮৮ ম্যাচ
কাতার ২০২২ বিশ্বকাপে ডানা মেলে বিশ্বজয় করার পর ফুটবলের এই ঐতিহাসিক ম্যাচ খেলার পরিসংখ্যানে শীর্ষ পরাশক্তিদের আরও কাছাকাছি চলে এসেছে আর্জেন্টিনা। আলবিসেলেস্তেরা এ পর্যন্ত বিশ্বমঞ্চে ৮৮টি ম্যাচ খেলেছে। লিওনেল মেসির নেতৃত্বাধীন দলটি তাদের তৃতীয় শিরোপা জয়ের মধ্য দিয়ে নিজেদের সোনালী ঐতিহ্যকে আরও একবার বিশ্ব দরবারে উঁচিয়ে ধরেছে।

৪. ইতালি— ৮৩ ম্যাচ
নিজেদের আধুনিক ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম কঠিন এক সময় পার করার পরও, ৮৩টি ম্যাচ খেলে বিশ্বকাপের ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দল হিসেবে টিকে রয়েছে ইতালি। সাম্প্রতিক সময়ে কয়েকটি বিশ্বকাপে কোয়ালিফাই করতে না পারলেও, ৪টি বিশ্বকাপ জয়ী আজ্জুরিদের দশকের পর দশক ধরে সর্বোচ্চ স্তরে লড়াই করার ঐতিহ্য কোনোভাবেই ম্লান হওয়ার নয়।

৫. ইংল্যান্ড— ৭৪ ম্যাচ
বিশ্বকাপে এক বিশাল ঐতিহ্যের অধিকারী থ্রি লায়ন্সরা এ পর্যন্ত টুর্নামেন্টে ৭৪টি ম্যাচ খেলেছে। যদিও ১৯৬৬ সালে নিজেদের মাটিতে মাত্র একবারই ট্রফি উঁচিয়ে ধরার সৌভাগ্য হয়েছে তাদের, তবুও নকআউট পর্বের শেষ ধাপগুলোতে নিয়মিত লড়াই করে ইংল্যান্ড ফুটবল বিশ্বের অন্যতম চেনা এক পরাশক্তি হিসেবে নিজেদের টিকিয়ে রেখেছে।

৬. ফ্রান্স — ৭৩ ম্যাচ
ফুটবল বিশ্বের অন্যতম পরাশক্তি হিসেবে খুব দ্রুত ওপরের দিকে উঠে আসছে ফরাসিরা। বিশ্বমঞ্চে ইতোমধ্যে ৭৩টি ম্যাচ খেলে ফেলেছে তারা এবং প্রতি টুর্নামেন্টেই তাদের এই সংখ্যা বাড়ছে। ২০১৮ রাশিয়া বিশ্বকাপ এবং ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে টানা দুই আসরের ফাইনালে খেলে লেস ব্লুসরা প্রমাণ করেছে যে, ফরাসি ফুটবলের বর্তমান প্রজন্মটি ইতিহাসের অন্যতম সফল এক সময় পার করছে।

৭. স্পেন— ৬৭ ম্যাচ
গত কয়েক দশকে আন্তর্জাতিক ফুটবলে স্পেনের যে অভূতপূর্ব উত্থান হয়েছে, তার প্রতিফলন দেখা যায় বিশ্বকাপের এই পরিসংখ্যানেও। লা রোজারা এ পর্যন্ত বিশ্বমঞ্চে ৬৭টি ম্যাচ খেলেছে। মূলত ২০১০ সালের দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপে শিরোপাজয়ী সেই সোনালী প্রজন্মের হাত ধরেই স্প্যানিশ ফুটবলের ইতিহাসের সেরা অধ্যায়টি রচিত হয়েছিল।

৮. মেক্সিকো— ৬৬ ম্যাচ
খুব কম দেশেরই মেক্সিকোর মতো এত বিশাল বিশ্বকাপ অভিজ্ঞতার ইতিহাস রয়েছে। ‘এল ট্রি’ খ্যাত দলটি এ পর্যন্ত ৬৬টি ম্যাচ খেলেছে এবং আধুনিক ফুটবল ইতিহাসে সবচেয়ে ধারাবাহিক দলগুলোর একটিতে পরিণত হয়েছে। এছাড়া মেক্সিকোর একটি অনন্য ঐতিহাসিক রেকর্ডও রয়েছে। ২০২৬ সালে তারা পৃথিবীর প্রথম দেশ হিসেবে তিনটি ভিন্ন ফিফা বিশ্বকাপ আয়োজনের গৌরব অর্জন করতে যাচ্ছে।

৯. উরুগুয়ে— ৫৯ ম্যাচ
বিশ্বকাপে ৫৯টি ম্যাচ খেলে ফুটবলের সবচেয়ে শক্তিশালী ও প্রাচীন ঐতিহ্যের দেশ হিসেবে নিজেদের অবস্থান ধরে রেখেছে উরুগুয়ে। ‘লা সেলেস্তে’রা কেবল দুটি বিশ্বকাপেরই মালিক নয়, বরং ১৯৩০ সালে ইতিহাসের প্রথম ফিফা বিশ্বকাপ জয়ের অবিস্মরণীয় কীর্তিও তাদের ঝুলিতেই রয়েছে।

১০. নেদারল্যান্ডস— ৫৫ ম্যাচ
কখনো বিশ্বকাপের সোনালী ট্রফিটি ছোঁয়া না হলেও, ৫৫টি ম্যাচ খেলে টুর্নামেন্টের ইতিহাসে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দল হিসেবে নিজেদের টিকিয়ে রেখেছে নেদারল্যান্ডস। ডাচরা এ পর্যন্ত তিনবার বিশ্বকাপের ফাইনাল খেলেছে। জোহান ক্রুইফ, ডেনিস বার্গক্যাম্প, আরিয়েন রবেন কিংবা ভার্জিল ভ্যান ডাইকদের মতো বিশ্বসেরা প্রজন্ম উপহার দিয়ে ট্রফি না জিতেও তারা বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম সম্মানিত দেশ।

২০২৬ বিশ্বকাপে বদলে যেতে পারে ইতিহাস
৩২ দলের চেনা বৃত্ত ভেঙে রেকর্ড ৪৮টি দল এবং আগের চেয়ে অনেক বেশি ম্যাচ নিয়ে মাঠে গড়াতে যাওয়া ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ এই ঐতিহাসিক তালিকায় বড় ধরনের ওলটপালট এনে দিতে পারে। ১১৪ ম্যাচ নিয়ে শীর্ষে থাকা ব্রাজিল যেখানে নিজের রাজত্ব ধরে রাখার লড়াইয়ে নামবে, সেখানে মাত্র ২ ম্যাচ পিছিয়ে থাকা জার্মানি চাইবে শীর্ষস্থানটি কেড়ে নিতে। অন্যদিকে, কাতার জয়ের আত্মবিশ্বাস নিয়ে তালিকায় আরও ওপরে ওঠার স্বপ্ন দেখবে আর্জেন্টিনা।

আরটিভি/এআর