শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬ , ০৯:০৮ এএম
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে অংশ নিচ্ছে ইতিহাসের সর্বোচ্চ ৪৮টি দল। আর প্রতিটি দলের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ জার্সি নম্বরগুলোর একটি হলো ‘১০’। ফুটবলের ইতিহাসে এই নম্বরটি বরাবরই সৃজনশীলতা, নেতৃত্ব এবং অসাধারণ প্রতিভার প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়ে এসেছে। আসন্ন বিশ্বকাপেও বিশ্বের সেরা তারকারা নিজেদের জাতীয় দলের হয়ে এই ঐতিহ্যবাহী জার্সি গায়ে জড়াবেন।

মেসির শেষ বিশ্বকাপের অপেক্ষা
লিওনেল মেসির জন্য ২০২৬ বিশ্বকাপ হতে পারে ক্যারিয়ারের শেষ বিশ্বকাপ। ২০২২ সালে আর্জেন্টিনাকে শিরোপা জেতানো এই কিংবদন্তি এবারও দলকে নেতৃত্ব দেবেন ১০ নম্বর জার্সি পরে। শিরোপা ধরে রাখার পাশাপাশি নতুন রেকর্ড গড়ার লক্ষ্য থাকবে তার সামনে।
ব্রাজিলের শেষ আশা নেইমার?
নেইমার জুনিয়রের জন্যও এটি হতে পারে শেষ বিশ্বকাপ। ইনজুরির কারণে কিছুটা অনিশ্চয়তা থাকলেও ব্রাজিলের সবচেয়ে বড় তারকা এখনও তিনি। বিশ্বকাপ জয়ের অপূর্ণ স্বপ্ন পূরণের লক্ষ্য নিয়েই মাঠে নামবেন।
ক্লোসের রেকর্ডের পেছনে এমবাপ্পে
কিলিয়ান এমবাপ্পে ইতোমধ্যে একটি বিশ্বকাপ জয় করেছেন এবং টানা দুই বিশ্বকাপ ফাইনালে খেলেছেন। মাত্র ২৭ বছর বয়সেই বিশ্বকাপে তার গোল সংখ্যা ১৩। এবার লক্ষ্য থাকবে মিরোস্লাভ ক্লোসের ১৬ গোলের বিশ্বরেকর্ড ছোঁয়া বা অতিক্রম করা।
জার্মানির ভরসা মুসিয়ালা
জামাল মুসিয়ালা নতুন প্রজন্মের জার্মান ফুটবলের অন্যতম সেরা প্রতিভা। তার সৃজনশীলতা, ড্রিবলিং ও আক্রমণভাগে প্রভাব জার্মানির সাফল্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
স্পেনের আক্রমণের কারিগর ওলমো
দানি ওলমো স্পেনের মিডফিল্ডে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন। নিখুঁত পাস ও আক্রমণাত্মক ফুটবলের মাধ্যমে দলকে এগিয়ে নেওয়ার দায়িত্ব থাকবে তার কাঁধে।

পর্তুগালের নেতৃত্বে বের্নার্দো
বের্নার্দো সিলভা দীর্ঘদিন ধরেই ইউরোপীয় ফুটবলের পরিচিত মুখ। পর্তুগালের আক্রমণভাগ পরিচালনায় তিনি হবেন অন্যতম প্রধান অস্ত্র।
ইংল্যান্ডের স্বপ্ন বেলিংহাম
জুড বেলিংহাম ইতোমধ্যে বিশ্বের সেরা তরুণ ফুটবলারদের একজন হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। তার নেতৃত্ব ও মিডফিল্ড নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা ইংল্যান্ডকে শিরোপার অন্যতম দাবিদার করে তুলেছে।
স্বাগতিক মেক্সিকোর ভরসা ভেগা
অ্যালেক্সিস ভেগা ঘরের মাঠে মেক্সিকোর আক্রমণভাগের অন্যতম প্রধান অস্ত্র। কাতার বিশ্বকাপের হতাশা ভুলে স্মরণীয় কিছু করার লক্ষ্য থাকবে তার।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান তারকা পুলিসিচ
ক্রিশ্চিয়ান পুলিসিচ স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় আশা। তার গতি, অভিজ্ঞতা ও গোল করার সামর্থ্য দলের সাফল্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
কানাডার গোলমেশিন ডেভিড
জোনাথন ডেভিড ধারাবাহিক গোল করার ক্ষমতার জন্য কানাডার অন্যতম বড় ভরসা। স্বাগতিকদের ভালো ফলের আশা অনেকটাই নির্ভর করবে তার পারফরম্যান্সের ওপর।
২০২৬ বিশ্বকাপে ১০ নম্বর জার্সি পরা এই তারকারা শুধু নিজেদের দেশেরই নয়, পুরো টুর্নামেন্টের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবেন। তাদের পারফরম্যান্সই অনেক ক্ষেত্রে নির্ধারণ করে দিতে পারে বিশ্বকাপের ভাগ্য।
গ্রুপভিত্তিক ১০ নম্বর জার্সিধারীরা
গ্রুপ ‘এ’
জেসুং লি (দক্ষিণ কোরিয়া)
অ্যালেক্সিস ভেগা (মেক্সিকো)
প্যাট্রিক শিক (চেক প্রজাতন্ত্র)
রেলেবোহিলে মোফোকেং (দক্ষিণ আফ্রিকা)
গ্রুপ ‘বি’
জোনাথন ডেভিড (কানাডা)
এরমেদিন ডেমিরোভিচ (বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা)
হাসান আল-হাইদোস (কাতার)
গ্রানিত ঝাকা (সুইজারল্যান্ড)
গ্রুপ ‘সি’
নেইমার জুনিয়র (ব্রাজিল)
চে অ্যাডামস (স্কটল্যান্ড)
জ্যাঁ-রিকনার বেলেগার্দে (হাইতি)
ব্রাহিম দিয়াজ (মরক্কো)
গ্রুপ ‘ডি’
ক্রিশ্চিয়ান পুলিসিক (যুক্তরাষ্ট্র)
আজদিন হ্রুস্টিচ (অস্ট্রেলিয়া)
মিগেল আলমিরন (প্যারাগুয়ে)
হাকান চালহানওগ্লু (তুরস্ক)
গ্রুপ ‘ই’
জামাল মুসিয়ালা (জার্মানি)
সিমন আদিংরা (আইভরি কোস্ট)
লিয়ান্দ্রো বাকুনা (কুরাসাও)
কেন্দ্রি পায়েজ (ইকুয়েডর)
গ্রুপ ‘এফ’
মেমফিস ডিপাই (নেদারল্যান্ডস)
রিতসু দোয়ান (জাপান)
বেঞ্জামিন নাইগ্রেন (সুইডেন)
হ্যানিবাল মেজব্রি (তিউনিসিয়া)
গ্রুপ ‘জি’
লিয়ান্দ্রো ট্রোসার্ড (বেলজিয়াম)
মোহামেদ সালাহ (মিশর)
মেহদি গায়েদি (ইরান)
সারপ্রিত সিং (নিউজিল্যান্ড)
গ্রুপ ‘এইচ’
দানি ওলমো (স্পেন)
জর্জিয়ান দে আররাসকায়েতা (উরুগুয়ে)
সালেম আল-দাওসারি (সৌদি আরব)
জামিরো মন্টেইরো (কেপ ভার্দে)
গ্রুপ ‘আই’
কিলিয়ান এমবাপ্পে (ফ্রান্স)
আলি মোহানাদ (ইরাক)
মার্টিন ওদেগার্ড (নরওয়ে)
সাদিও মানে (সেনেগাল)
গ্রুপ ‘জে’
লিওনেল মেসি (আর্জেন্টিনা)
ফারেস শাইবি (আলজেরিয়া)
ফ্লোরিয়ান গ্রিলিটশ (অস্ট্রিয়া)
মুসা আল-তামারি (জর্ডান)
গ্রুপ ‘কে’
বের্নার্দো সিলভা (পর্তুগাল)
হামেস রদ্রিগেস (কলম্বিয়া)
থিও বংগোন্ডা (ডিআর কঙ্গো)
জালোলিদ্দিন মাশারিপভ (উজবেকিস্তান)
গ্রুপ ‘এল’
লুকা মদ্রিচ (ক্রোয়েশিয়া)
জুড বেলিংহাম (ইংল্যান্ড)
ব্র্যান্ডন থমাস-আসান্তে (ঘানা)
ইসমায়েল দিয়াজ (পানামা)।
তথ্যসূত্র: টিওয়াইসি স্পোর্টস
আরটিভি/এসকে