images

খেলা

জার্মানি ছাড়া আরও যাদের কাছে ‘সেভেন আপ’ খেয়েছে ব্রাজিল

সোমবার, ০৮ জুন ২০২৬ , ০৯:২৬ পিএম

আর মাত্র দিন তিনেক বাদেই মাঠে গড়াতে যাচ্ছে ফিফা বিশ্বকাপ ফুটবল। এখন পর্যন্ত বিশ্বের সবচেয়ে উত্তেজনাপূর্ণ এই টুর্নামেন্টের সফলতম দল নিঃসন্দেহে ব্রাজিল। আবার বড় বেশ কয়েকটি ট্রাজেডি ও অঘটনের শিকারও এই সেলেসাওরাই। 

উদাহরণস্বরূপ, ২০০২ বিশ্বকাপের পর থেকেই প্রতিটি বিশ্বকাপের আসর যেমন ব্রাজিল ফ্যানদের জন্য হেক্সা মিশন; তেমনি ২০১৪ বিশ্বকাপের পর থেকে নিন্দুকদের জন্য ব্রাজিল মানেই ‘সেভেন আপ’ খাওয়া দল।   

২০১৪ সালের ৮ জুলাই। ঘরের মাঠে ‘হট ফেভারিট’ হিসেবেই মাঠে নেমেছিল ব্রাজিল। গ্যালারির ৬২ হাজার সমর্থক আর বিশ্বজোড়া কোটি চোখ অপেক্ষায় ছিল জোগো বোনিতোর ছন্দ দেখার। কিন্তু, সেদিন নেইমার ও থিয়াগো সিলভাবিহীন ব্রাজিলকে নিয়ে রীতিমতো ছেলেখেলায় মেতেছিল জার্মানি। একে একে সেলেসাওদের জালে ৭ গোল দিয়েছিল জার্মানরা। ম্যাচের শেষ দিকে অস্কারের সান্ত্বনাসূচক গোলে ফলাফল শেষ পর্যন্ত ৭-১।

তবে, সেভেন আপের লজ্জায় সেবারই প্রথম ডোবেনি ব্রাজিল। ইতিহাস ঘেঁটে দেখা যায় সেলেসাওদের এই লজ্জা দিয়েছে আরও এক দেশ। জার্মানির সঙ্গে এই অঘটনের প্রায় ৮০ বছর আগে ঘটেছিল প্রথম অঘটনটি।

আরও পড়ুন
MESSI

এবারের বিশ্বকাপে যেসব রেকর্ড গড়তে পারেন মেসি

১৯৩৪ সালের ৩ জুন বেলগ্রেডে প্রীতি ম্যাচে ব্রাজিলকে ৮-৪ গোলে হারায় তৎকালীন যুগোস্লাভিয়া। সেলেসাওদের ইউরোপ সফরের অংশ ছিল ম্যাচটি। সেবারই প্রথমবারের মতো এক ম্যাচে ৭ বা এর বেশি গোল হজম করেছিল ব্রাজিল।

যদিও ম্যাচের অষ্টম মিনিটেই এগিয়ে গিয়েছিল ব্রাজিল। কিন্তু, পরে যুগোস্লাভিয়ার আক্রমণের সামনে একেবারেই ভেঙে পড়ে সেলেসাওদের রক্ষণভাগ। শেষমেশ ৮-৪ ব্যবধানের বড় পরাজয় নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয় সফরকারীদের।

যুগোস্লাভিয়ার পর দীর্ঘ প্রায় ৮০ বছর আর কোনো দল ব্রাজিলের জালে ৭ গোল দিতে পারেনি। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ব্রাজিল আরও শক্তিশালী হয়েছে, জিতেছে একে একে ৫ বিশ্বকাপ, গড়ে তুলেছে অসংখ্য তারকা ফুটবলার। ফলে এমন রেকর্ড আবার দেখা যাবে, তা অনেকের কাছেই কল্পনার বাইরে ছিল।

কিন্তু, ২০১৪ সালে সেই অসম্ভবকে সম্ভব করে জার্মানি। নিজেদের মাটিতে আয়োজিত বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে বেলো হরিজন্তের মিনেইরাও স্টেডিয়ামে জার্মানির মুখোমুখি হয় ব্রাজিল। ম্যাচটি পরে ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম আলোচিত অধ্যায়ে পরিণত হয়।

শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলে জার্মানি। ম্যাচের মাত্র ২৯ মিনিটের মধ্যেই তারা ৫-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়। পুরো বিশ্ব হতবাক হয়ে দেখেছিল ব্রাজিলের রক্ষণভাগের বিপর্যয়। শেষ পর্যন্ত ম্যাচটি ৭-১ গোলের বিশাল ব্যবধানে জিতে নেয় জার্মানি।

ব্রাজিলের হয়ে অস্কার একটি গোল শোধ করলেও তা পরাজয়ের বেদনা কমাতে পারেনি। বিশ্বকাপ ইতিহাসে এটি ব্রাজিলের সবচেয়ে বড় হার হিসেবে আজও স্মরণীয়।

বাংলাদেশও একবার ‘সেভেন আপ’ খাইয়েছে ব্রাজিলকে

ব্রাজিলকে ৭-০ গোলে হারিয়েছে বাংলাদেশ— এমন দাবি শুনলে অনেকের কাছেই তা অবিশ্বাস্য মনে হতে পারে। তবে, একটি আন্তর্জাতিক যুব ফুটবল টুর্নামেন্টে এমন ঘটনার উল্লেখ পাওয়া যায়।

১৯৯০ সালে ‘বাংলা একাদশ’ নামে বাংলাদেশের একটি অনূর্ধ্ব-১৪ দল ইউরোপে অনুষ্ঠিত ডানা কাপ ও গথিয়া কাপে অংশ নেয়। ডেনমার্কে অনুষ্ঠিত ডানা কাপ এবং সুইডেনে অনুষ্ঠিত গথিয়া কাপ বিশ্বের তরুণ ফুটবলারদের অন্যতম বড় আসর হিসেবে পরিচিত। ওই প্রতিযোগিতার এক ফাইনালে বাংলাদেশের বাংলা একাদশের প্রতিপক্ষ ছিল ব্রাজিলের অনূর্ধ্ব-১৪ দল।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) গণমাধ্যম উপদেষ্টা তৌহিদ ফিরোজের বর্ণনা অনুযায়ী, ব্রাজিলের কিশোর ফুটবলাররা তাদের ঐতিহ্যবাহী হলুদ জার্সি পরেই মাঠে নেমেছিল। সেই ম্যাচে ৭-০ গোলের দাপুটে জয় পায় বাংলা একাদশ।

তিনি আরও বলেন, ওই সময়ে বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যমে বিষয়টি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছিল। শুধু ব্রাজিল নয়, ফাইনালে ওঠার পথে আরও কয়েকটি শক্তিশালী দলের বিপক্ষেও বাংলাদেশ বড় ব্যবধানে জয় পেয়েছিল বলে সে সময় সংবাদ প্রকাশিত হয়েছিল।

আরটিভি/এসএইচএম